না’গঞ্জে কয়েক মাসে বিয়ে বন্ধুত্বের ডাকে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বেড়ে গেছে

Pub: বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯ ৫:২২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯ ৫:২২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক মাসে ধর্ষণ আর গণধর্ষণের মত ঘটনা আশংকাজনকহারে বেড়ে গেছে। আকষ্মিকভাবে অনেক স্থানে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও বন্ধুত্ব আর বিয়ের প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়েও অনেকে এ ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আর দুইদিনেও একই ঘটনা বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।
সবশেষ নারায়ণগঞ্জে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন চট্রগ্রামের হাটহাজারীর এক তরুণী। ওই মামলায় প্রেমিক সহ তার মা ও আরেক ভাইকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর ১০ জুন দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৬ মাস আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রবিউল ইসলাম সানির সাথে পরিচয় ঘটে ওই তরুণীর। তখন থেকেই তাদের সম্পর্ক ছিল। ঈদের ছুটিতে গত ৭ জুন সানির দাওয়াতে চট্রগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে আসে ওই তরুণী। পরে শহরের গলাচিপায় শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের পাশে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সানি। ঘটনার পর তরুণীকে আরেকটি বাসে করে চট্রগ্রাম পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের বাকবিতন্ডায় লোকজন জড়ো হলে সানি পালিয়ে যায়।
মামলায় ওই ধর্ষণের পেছনে সানির মা ও এক ভাই জড়িত দাবী করা হয়। মামলায় এ তিনজনকে আসামী করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
১১ জুন চট্টগ্রাম থেকে প্রেমিকাকে ডেকে এনে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকারী রবিউল হাসান সানিকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় দূরপাল্লা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।
এর আগেরদিন ৯ জুন সদর উপজেলার ফতুল্লায় ঈদের ছুটিতে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে এসে গার্মেন্টকর্মী তরুণীকে গণধর্ষণের পর আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় ওই বান্ধবী ও আরো একজন যুবককে আটক এবং বন্ধু সহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে। ৯ জুন দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও গার্মেন্টকর্মীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার গার্মেন্টকর্মী তরুণী (১৮) ঈদের ছুটিতে শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ আরাফাত নগরে মৌসুমী নামের বান্ধবীর বাড়িতে বন্ধু শামীমকে সঙ্গে করে বেড়াতে আসে। সেদিন সন্ধ্যার পর তিনজন মিলে ফতুল্লার বক্তাবলীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ঘুরতে যায়। ওই সময়ে ৬ থেকে ৭জন তাদেরকে আটক করে বক্তাবলীতে একটি ইটভাটায় নিয়ে শামীমকে আটকে রেখে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তবে সঙ্গে থাকা বান্ধবী মৌসুমী ছিল অক্ষত। পরে ধর্ষকেরা তরুণীকে মৌসুমীর বাড়িতে আটক করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে গার্মেন্টকর্মীর মা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে রোববার দুপুরে মৌসুমীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে সহ আরো এক যুবককে আটক করে। উদ্ধার করা হয় তরুণী ও তার বন্ধু শামীমকে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, গার্মেন্টেকর্মীসহ তার বন্ধুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
নিখোঁজের ১৫ দিন পর ৭ জুন মিনু আক্তার (৩৫) নামে নারীর লাশ উদ্ধার ও তার সাবেক স্বামীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। সোনারগাঁও উপজেলা মুনজিলখোলায় বালু খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিনু আক্তার সোনারগাঁওয়ের মুনজিলখোলার হাসেম আলীর মেয়ে। আটককৃত স্বামী জুনায়েদ আহমেদ (৪৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হরিপুর এলাকার সৈয়দ রফিক উদ্দিনে ছেলে।
নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন জানান, গত ২১ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন মিনু আক্তার। পরে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথাও না পেয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম ২৩ মে সোনারগাঁও থানায় জিডি করেন। পরে র‌্যাব জিডির তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ৬ জুন দিনগত রাত ১২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে মিনুর সাবেক স্বামী জুনায়েদকে (৪৫) আটক করে।
র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ জানায়, ২০১৬ সালে মিনু আক্তারের সাথে তার দ্বিতীয় বিবাহ হয় এবং ২০১৮ সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্সও হয়ে যায়। তবে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। গত ২১ মে আনুমানিক রাত ৩টায় জুনায়েদ মিনু আক্তারকে ফোন দিয়ে তার ভাড়া বাসায় আসতে বলে। তখন বাসায় আসলে মিনু আক্তার ঈদের মধ্যে কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য জুনায়েদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে জুনায়েদ ঘরের মধ্যে থাকা একটি বাশের লাঠি দিয়ে মিনুর মাথায় আঘাত করে। তখন মিনু ঘরের মেঝেতে পড়ে গেলে জুনায়েদ তার বুকের উপরে বসে গলা টিপে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর রাত ৪টায় মিনুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাড়ির পাশের পুকুরের কচুরিপানার ভিতরে রেখে দিয়ে জুনায়েদ ঘরে ফিরে আসে। ২২ মে রাত ১০টায় বাড়ির পাশের কচুরিপানা থেকে মিনু আক্তারের মরদেহ উঠিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে পাশের ড্রেজারে বালি ফেলার স্থানে নিয়ে গিয়ে সেখানে গর্ত করে তার লাশ গুম করে। পরে জুনায়েদ ও নিখোঁজ মিনু আক্তারের মোবাইল কল লিস্টে সূত্র বের করে র‌্যাব।
গত ৮ মে রূপগঞ্জে মায়ের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ডেকে নিয়ে লম্পট প্রেমিক তার প্রেমিকাকে ধর্ষণ করেছে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় ধর্ষক রনি সহ তার দুই সহযোগী হৃদয় ও রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।
রূপগঞ্জ থানার এস আই সোহেল সিদ্দিকী জানান, গত চার বছর আগে রূপগঞ্জের বরপা রসুলপুর এলাকার খান ডাক্তার বাড়ির ভাড়াটিয়া কাজল মিয়ার ছেলে মোঃ রনি মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। গত ৮ মে বিকালে রনি মিয়া মুঠোফোনে প্রেমিকা স্কুল ছাত্রীকে জানায় তার মা গুরুতর অসুস্থ তাকে দেখতে চায়। অসুস্থতার খবরে স্কুল ছাত্রী রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানার ভাগালপুর লেনের বাসা থেকে সিএনজিযোগে এসে রনির সঙ্গে দেখা করে। এক পর্যায়ে রনি সুকৌশলে তাকে তার মায়ের কাছে না নিয়ে রসুলপুর এলাকার খান ডাক্তারে বাড়ির নিচতলার রুমে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় স্কুল ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় রনির দুই বন্ধু একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে হৃদয় ও রাসেল বাহিরে পাহারারত অবস্থায় ছিলো।
২১ ফেব্রুয়ারী বন্দর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতী (১৯) ধর্ষণ মামলার আসামী রতনকে (২৫) গ্রেফতার করে বন্দর থানা পুলিশ।
৪ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে শালিশী বৈঠক থেকে ধর্ষককে জিম্মায় নিয়ে যায় তার ভগ্নিপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ