fbpx
 

৩০ জুন : আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৭ বছরেও শ্রমিকদের কান্না থামেনি

Pub: রবিবার, জুন ৩০, ২০১৯ ৮:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুন ৩০, ২০১৯ ৮:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলস আদমজীর শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও আদমজী নগরবাসীর জন্য ৩০ জুন একটি বেদনাবিধুর দিন। ২০০২ সালের ৩০ জুন সরকার চিরতরে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়। বন্ধের দিন কান্নার রোল পড়ে গোটা আদমজীতে। কিন্তু মিল বন্ধের দীর্ঘ এ সময়েও সাধারণ অসহায় শ্রমিকদের কান্না থামেনি। প্রতি বছরের ৩০ জুন এলেই নিজের ভাগ্য নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা। একসময় যাদের চোখেমুখে ছিল নানা স্বপ্ন এখন তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। ঐতিহ্যবাহী এই শ্রম জনপদ ইপিজেডে পরিণত হয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেলেও ঠাই হয়নি চাকুরী হারানো শ্রমিকদের। এমনকি আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তানদেরও চাকুরী মেলে না ইপিজেডে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে আদমজী জুট মিল পুণরায় চালু করার ঘোষণা দিয়ে আসলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অধিকাংশ শ্রমিকই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সমৃদ্ধ এক মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এশিয়ার বৃহত্তম সেই আদমজী জুট মিল এখন শুধুই স্মৃতি।
আদমজী জুটমিল প্রসঙ্গ
পাকিস্তানের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই এ. ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী যৌথভাবে আদমজী জুটমিল প্রতিষ্ঠা করেন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় আদমজী জুটমিল গড়ে ওঠে ২৯৭ একর জমির ওপর। ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর। ওই সময় এই মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরুর পর পরই আদমজী জুটমিলস লি. শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগ উন্নীত করা হয় ৭ কোটি টাকায়। তখন মিলে তাঁতকল বসানো হয় ৩ হাজার ৩০০টি। আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত চট, কার্পেটসহ বিভিন্ন প্রকার পাটজাত দব্য দেশের চাহিদা পুরন করে রপ্তানী হতো চীন, ভারত, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ সময় আদমজী জুটমিল হয় পৃথিবীর অন্যতম জুটমিল এবং এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ কারখানা। আদমজীকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁওয়ে গড়ে ওঠে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাস। মিল ছাড়াও এসব এলাকায় কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মিলটি ১৯ বছরে লোকসান দেয় মাত্র ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতি আদেশবলে আদমজী জুটমিল জাতীয়করণ করে জুটমিল কর্পোরেশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত আদমজীর বার্ষিক উৎপাদন ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। যার বিক্রয় মূল্য ছিল আনুমানিক ২১০ কোটি টাকা। মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি করতেন। মিলটি বন্ধ রার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
মিল চালু হওয়ার আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি
বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলের ২নং ইউনিট চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইরস্থ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগের সমাবেশে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আদমজী জুট মিল পুণরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি। চাকুরী হারানো শ্রমিকদেরও চাকুরী ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ আদমজী বন্ধ করার পরও ইপিজেড নির্মাণের সময় পর্যন্ত স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট মিলের যন্ত্রাংশ, লোহা, তামা ও মূল্যবান বৈদ্যুতিক তারসহ কয়েক শ কোটি টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু এর হোতাদের কোন বিচার হয়নি। সন্ত্রাস ও লোকসানের অজুহাতে মিল বন্ধ হলেও সন্ত্রাসী ও দুনীতিবাজদের শান্তি দেয়া হয়নি অদ্যাবধি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ