জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচার বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে ভাতিজারা

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ৭:০৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহিদুল ইসলাম জামালপুর : জামালপুুর জেলার মাদারগঞ্জের চরবাজিতের পাড়ায় এখনো চলছে প্রভাবশালী দুুর্বৃত্তদের সীমাহীন স্বেচ্ছাচারীতা ও অসভ্যতা। একেবারে মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় শিশু ও বৃদ্ধাকে মারধোর এবং বাড়ীঘরজ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। মাদারগঞ্জের চরবাজিতের পাড়া গ্রামে সোমবার সকালে নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিনের বাড়ীঘর জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারই ভাতিজা স্থানীয় প্রভাবশালী জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সী গংরা।
অভিযোগে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের চরবাজিতের পাড়া গ্রামের নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিন। তার পরিবারের অপর সদস্যরা হলেন ষাটোর্ধ মা বৃদ্ধা জামেলা বেওয়া, স্ত্রী জুলেখা ও শিশুপুত্র জিহাদ। কৃষক জালাল উদ্দিনের ভাতিজা জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সী। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী ও নিকটাত্নীয়। তন্মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল স্থানীয় প্রভাবশালী মাতাব্বর। তিনিই আবার চরবাজিতের পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও বটে। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় প্রহসনের বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি একজন দুণীতিবাজ মাতাব্বর হিসাবেও খ্যাত। নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, মাদারগঞ্জের চরবাজিতের পাড়া গ্রামে তার একটি সাজানো বাড়ীঘর রয়েছে। এছাড়াও ১০৪ শতাংশের মুল্যবান পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। ওই বসতভিটা ও মুল্যবান সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবত বেদখলের অপচেষ্টা করছে তারই ভাতিজা জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সী গংরা। তারা ভাতিজা হয়েও তাকে পৈতৃক সম্পত্তি চাষে বাঁধা দিচ্ছে এবং নানা ছলছুতোয় দীর্ঘদিন যাবত হয়রানি করে আসছে। এছাড়াও অযথা দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগিয়ে এবং বাড়ীঘরে কয়েকদফা লুটপাট করে একের পর এক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে এবং মিথ্যা মামলা হাজত খাটিয়েছে।অভিযোগে আরো জানা গেছে, নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিনের শ্যালক একই গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম এবং সরিষা বাড়ী উপজেলার চররৌহা গ্রামের রবিউল ইসলাম একে অপরের বন্ধু। তারা উভয়েই সিংঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়ে এক সাথে বসবাস করছেন। এদিকে চরবাজিতের পাড়া গ্রামের খলিল মুন্সীর পুত্র মিশু মন্ডল সিংঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে চররৌহা গ্রামের রবিউল ইসলামের কাছে নগদ আড়াই লাখ টাকা প্রদান করেন। রবিউল ইসলাম মিশু মন্ডলকে সিংঙ্গাপুর নিয়ে গেলেও সন্তোষজনক চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে মিশু মন্ডল চাকুরী ছেড়ে দিয়ে দুই সপ্তাহের মাথায় সিংঙ্গাপুর থেকে নিজ দেশে ফিরে আসে। এঘটনার পর জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সীর নেতৃত্বে মিশু মন্ডল নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিনকে বেকায়দায় ফেলতে নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে। তারা জালাল উদ্দিন এর শ্যালক এবং রবিউলের বন্ধু রেজাউল করিমের কাছে মিশুর সিংঙ্গাপুর যাতায়াতের সমূদয় টাকা ফেরত চান। মিশু মন্ডল সিংঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য রবিউল ইসলামকে টাকা দিয়েছিল। অথচ তারা স্থানীয় প্রভাব ও পেশী শক্তির জোরে রবিউলের বন্ধু রেজাউল করিমের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য জালাল উদ্দিনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এতেও রেজাউল করিম টাকা না দেওয়ায় তার দুলাভাই নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিনের বাড়ী থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং জালাল উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে মিশু মন্ডলের বাবা খলিল মুন্সী। তখন থেকেই একের পর এক জালাল উদ্দিনের উপর শূরু হয় নির্যাতন। একপর্যায়ে জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সী গংরা জালাল উদ্দিনকে নিজের জমি চাষে বাঁধা প্রদান করে এবং প্রান নাশের হুমকি প্রদান করে। তখন থেকেই জালাল উদ্দিন ভয়ে বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়ায়।
সরেজমিনে মাদারগঞ্জের চরবাজিতের পাড়া গ্রামে বাড়ীঘর জ¦ালিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখতে সোমবার দুপুরে সেখানে পৌঁছতেই জানা যায় নিরীহ পরিবারের উপর নির্যাতনের নানা কাহিনী। সেখানে স্থানীয়রা সাংবাদিকের কাছে জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সীর কথা বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। তখন সবার চোখে মুখে ভীতির ছাপ দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ সাংবাদিকের কানে কানে বলেন, এ গাঁয়ের জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সীরা খুব খারাপ মানুষ। ওদের অত্যাচারে এলাকার সাধারন মানুষজন অতিষ্ট। গ্রামের নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্নসাত করা এবং সম্পত্তি জবরদখল করাই ওদের প্রধান কাজ। ওরা গরীব মানুষকে যেনতেন কারণেই মারধোর করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেও মারে। এজন্য কেউ কথা বলার সাহস পায়না।
একপর্যায়ে সাংবাদিকের কাছে অভয় পেয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সমস্বরে বলেন, ওই যে ডানদিকের রাস্তায় কিছুুক্ষণ গিয়ে বামে নজর করলে সামনেই দেখবেন কৃষক জালাল উদ্দিনের বাড়ী। বাড়ীটিতে এখনো মিটি মিটি আগুন জ¦লছে ধোঁয়া উড়ছে। সেদিকে যাওয়ার সময় সবাই সমস্বরে বলেন, স্যার জাফর ইকবাল ও খলিল মুন্সীরাই এক বছর ধরে জালালকে নিজ বাড়ীতে যেতে দেয়না, তার জমিতে ফসল ফলাতে দেয়না। জালালের কাছে ওরা অযথাই লাখ লাখ টাকা চায়। ওরাই জালালের বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে তামাশা দেখছে। ভাল কইরা দেইখা যান, ঘটনা পত্রিকায় ছাপায়েন, টেলিভিশনে দিয়েন, জালাল যেন ন্যায় বিচার পায় আর আমরা গ্রামবাসীও যেন একটু শান্তি পাই। তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় জালাল উদ্দিনের তিনটি ঘর পুড়ে টিনগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তখনো বাড়িটির দুই এক জায়গায় আগুন জ¦লছিল এবং ধেঁাঁয়া উড়ছিল। অথচ বাড়িটির মালিক ও তার পরিবারের কেউ সেখানে যেতে পারেনি। তবে ওই সময় জালালের প্রতিপক্ষ খলিল মুন্সী ও তার স্বজনরা অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে বলেন, জালাল উদ্দিন নিজেই তার বাড়ীতে আগুন দিয়ে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করছে।এ ব্যাপারে জাফর ইকবাল জানান, তার ভাতিজা মিশু মন্ডলের সিংঙ্গাপুর যাতায়াতের টাকা ফেরত না দেওয়ায় জালাল উদ্দিন ও তার সমন্দি রেজাউল করিমের সাথে দীর্ঘদিন যাবত তাদের মামলা মোকদ্দমা ও দ্বন্দ্ব কলহ চলছে। তবে জালালের বাড়ীঘর জ¦ালিয়ে দেওয়া ঘটনার সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি দাবী করেছেন ।মাদারগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, চরবাজিতের পাড়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিনের বাড়ীঘর জ¦ালিয়ে দেওয়ার অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক এসআই আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ