সেই ছাত্রীর কথার সত্যতা পাচ্ছে না পুলিশ!

Pub: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ১১:১৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ১১:১৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিয়ে পালানো মেয়েটি বলছে, অপহরণকারী একটি দল তিন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গাজীপুর থেকে রাজশাহী এনেছে। মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিয়ে সে পালিয়েছে। অন্য দুজনকে নিয়ে গেছে অপহরণকারীরা।

কিন্তু পুলিশ তার এ বক্তব্যের তেমন সত্যতা পাচ্ছে না। ফলে এই ‘অপহরণের’ ঘটনা নিয়ে রহস্যের মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর পুলিশ।

তবে ইতিমধ্যে রাজশাহীতে উদ্ধার হওয়াসহ আরও দুই ছাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা গাজীপুরেই নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছে। এমনকী তারা বৃহস্পতিবার স্কুলেও উপস্থিত ছিল।

আর রাজশাহীতে উদ্ধার হওয়া ছাত্রীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী মোড়ের একটি ফার্মেসির দোকানের সামনে গিয়ে বসে পড়ে ১৪ বছরের ওই মেয়েটি। মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শান্তনগর এলাকায় থাকে।

স্থানীয় মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামে। মেয়েটির বাবা-মা গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

ফার্মেসি দোকানে গিয়ে মেয়েটি বলে, তাকে এবং তার স্কুলের আরও দুই ছাত্রীকে সকালে স্কুল যাওয়ার পথে জোর করে সাদা রঙের একটি বড় মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়ে। রাজশাহী আসার পর তার জ্ঞান ফেরে।

তালাইমারী মোড়ে গাড়িটি যানজটে পড়লে সে লাফ দেয়। তবে অপর দুই স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। তারাও তার মতো স্কুলের ইউনিফরম পরে আছে। আর গাড়িতে অন্তত ১০ জন অপহরণকারী রয়েছে বলেও জানায় সে।

ঘটনা শুনে ওই স্কুলছাত্রীকে নগরীর মতিহার থানায় নিয়ে যান ফার্মেসি দোকান মালিক হাসিবুর রহমান চৌধুরী (৬৫)। এরপর রাজশাহী মহানগর পুলিশের মতিহার জোনের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন ও মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

তাদেরকেও একই কথা বলে মেয়েটি। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয় গাজীপুর জেলা পুলিশকে।

গাজীপুর পুলিশ বলছে, তিন স্কুলছাত্রীর অপহরণের মতো কোনো ঘটনার খবর তারা পাননি। ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক। কারণ, রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটি আরও যে দুই ছাত্রীর কথা বলেছে তারা অপহরণের শিকার হয়নি। বৃহস্পতিবার তারা স্কুলে উপস্থিত ছিল।

গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, তিনটি মেয়ে অপহরণের শিকার হলে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ ঘটনার খবর রাজশাহী পুলিশ না জানানো পর্যন্ত তারা জানতেই পারেননি।

বুধবার রাতে ঘটনা শুনেই রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটির বাবাকে থানায় আনা হয়। তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অপহরণের মামলা করেছেন। শ্রীপুরের আর কোনো ছাত্রী নিখোঁজ নেই।

মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান জানান, রাজশাহীতে উদ্ধার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই ছাত্রীকে রাজশাহী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা আসলে উদ্ধার ছাত্রীকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুশ জানান, মেয়েটির ভাষ্য অনুযায়ী রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তল্লাশি করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ