fbpx
 

নড়িয়ার ভোজেশ্বর খুনের জের ২০ বাড়িতে লুটপাট,ভাংচুর

Pub: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ ৫:২৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ ৫:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার ভোজেশা¦র ইউনিয়নের চান্দনী গ্রামের ইয়াকুব ছৈয়াল খুনের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট ও ভাংচুর করে লাখ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাধা দিলে হামলাকারীরা বাড়ির নারীদের মারপিট করেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ২০টি বাড়ির নারী পুরুষ সকলেই ঘর বাড়ি ফেলে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় শরীয়তপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিপক্ষ বলছে কোন লুটপাট ও ভাংচুর হয়নি। খুনের মামলার আসামীরা ভয়ে ঘরে তালা মেরে পালিয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে লুটপাট ও ভাংচুরের সংবাদ নিয়ে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আসলে ব্যবস্থা নিব।
চান্দনী গ্রামের জুলহাস ঢালি ও নড়িয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ^র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ভোজেশ^র ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহম্মদ শিকদার ও বর্তমান চেয়ারম্যান ভোজেশ^র ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল হক বেপারী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক বেপারীর সমর্থক ইয়াকুব ছৈয়াল ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ শিকদারের সমর্থক আবু সিদ্দিক ঢালী গং দের মধ্যে একাধিক বার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইেিতামধ্যে আবু সিদ্দিক ঢালিকে ইয়াকুব ছৈয়াল ও তার দলবল নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে পিটিয়ে মারাতœক জখম করে । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা মোকদ্দমা হয়। গত ১০ জুন নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনী গ্রামের ইট বালু ব্যবসায়ী ইয়াকুব ছৈয়াল প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল যোগে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন।পথিমধ্যে চান্দনী আবু সিদ্দিক ঢালির বাড়ির নিকট ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তার দু,পাড়ে রশি বেধে বসে থাকে। এ সময় ইয়াকুব ছৈয়াল ঘটনাস্থলে পৌছানো মাত্র রশি ধরে টান দিলে সে মোটর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। এ সুযোগে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পিটিয়ে ও ককটেল মেরে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মিন্টু ছৈয়াল বাদী হয়ে ২২জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ২জনকে আটক করে। বাকি সব আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরে আসে। ৯ জুলাই বর্তমান চেয়ারম্যান ভোজেশ^র ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল হক বেপারী ও তার ছেলে ইমরান বেপারীর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী রাম দা ছেনদা, হকি,টেটা, বল্লব সরকি ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ চান্দনী গ্রামের আবু আলম ঢালি, আবু সিদ্দিক ঢালি, জুলহাস ঢালি, অলিম ঢালি, নাসের ঢালি, আলেবর ঢালি, আঃ মালেক ঢালি, আলী আকবর ঢালি, সানাউল্লাহ ঢালি, খলিল ঢালি, জামাল ঢালি, আবুল বাশার ঢালি, আঃ জলির ঢালি, লাল মিয়া ঢালি,আঃ কাদের ঢালি, সালামত ঢালি, হাসেম মোল্যা,মিন্টু ঢালিসহ প্রায় ২০টি বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে কমপক্ষে ৩৫টি গরু , ২৫০ মন ধান, হাস-মুরগি, ফ্রিজ, আলমারি, মোটর , পুকুরের মাছ ঘরের যাবতীয় আসবাপত্র সহ কম পক্ষে ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিলে বাড়ির নারীদের উপর চড়াও হয়ে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা আবু আলমের মা আমিরজান বিবি,বড়বোন আলেয়া বেগম ও জুলহাস ঢালির স্ত্রী সাহিদা বেগমকে বেদম মারপিট করে। খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।পরে শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আলদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে চান্দনী গ্রামের কমপক্ষে ২০টি বাড়ির নারী পুরুষ শিশু সহ সকলেই যার যার ঘরে তালা লাগিয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা বাড়ি ঘরে আসতে পারছেনা। তাদের ঘর বাড়ি ও জমি জমা সবই বেদখল পড়ে আছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবু সিদ্দিক ঢালি,আবু আলম ঢালি বলেন, আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে। নুরু বেপারী ,ইমরান বেপারী ,জুয়েল খা ,চান্দু সেক, নুরু মোল্যা সহ ২৫ /৩০ জন আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে ৩৫টি গরু , ২৫০ মন ধান, হাস-মুরগি, ফ্রিজ, আলমারি, মোটর , পুকুরের মাছ ঘরের যাবতীয় আসবাপত্রসহ কম পক্ষে ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমাদের বাড়ির নারী কে মারপিট করেছে। আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।আমরা ভয়ে বাড়ি ঘরে থাকতে পারছিনা। আমরা প্রশাসনের সহায়তা চাই।
এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান ভোজেশ^র ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল হক বেপারী বলেন, কোন লুটপাট ও ভাংচুর হয়নি। খুনের মামলার আসামীরা হাজির হয়ে এলাকায় এসে আমাদের লোকজনকেমারপিট করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশের ভয়ে ঘরে তালা মেরে আসামীরা পালিয়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার ওসি একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, কেউ ঘরে থাকতে পারছেনা এবং মারপিট করেছে বলে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। কোন মামলা করতে ও আসেনি।আসলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ