এইচএসসিতে সেরা বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজ

Pub: রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আন্তরিকতা শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধু সুলভ আচরনে সফলতা অর্জন হয়েছে। পাঠদানের অনুমতি নিয়েই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে জেনারেল শাখায় ৬৯.৫২% রেজাল্ট নিয়ে উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কলেজ ক্যাম্পাসে বইছে আনন্দের বন্যা। এযেন বিশ্ব জয়ের আনন্দ। এখন লক্ষ জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। প্রয়োজন এমপিও ভুক্তি। সু-নজর চাই সরকারের। এই সফলতাটি এসে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজে।

তিস্তার কোল ঘেষে ভঙ্গুর রাস্তাঘাট, দুর্বল
অর্থনীতি, অপ্রতুল্য অবকাঠামো নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কলেজটি। স্বপ্ন এলাকার পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখা। প্রতিষ্ঠার ৪ বছরেও সরকারি বেতন ভাতা না পেলেও পাঠদানে আগ্রহের কমতি রাখেননি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকবৃন্দ। প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে জ্ঞান বিস্তারে নিজেদের মেলে ধরেছেন তাঁরা। তারই ফলশ্রুতিতে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ১০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন পাশ করে ৬৯.৫২% ফলাফল নিয়ে উপজেলা নন এমপি সাধারণ কলেজের মধ্যে উক্ত কলেজটিই সেরাত্ব অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হলে ক্রমান্বয়ে জেলার মধ্যে একটি শ্রেষ্ট কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দৃঢ় বিশ্বাস।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর কোল ঘেষে ২০১৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাতেই স্থানীয় বিদ্যানুরাগিদের উদ্যোগে তৎকালিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন এটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয়রা তারই নামে নামকরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমান কলেজটিতে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ ২৫ জন শিক্ষক কর্মচারি কর্মরত রয়েছেন। ছাত্রছাত্রী ৩৫২ জন।

শনিবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায় সবার চোখে আনন্দের জল। এবিষয়ে শিক্ষক আবু সায়েমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি বেতনভাতা না থাকায় বাজারে গিয়ে সন্তানের জন্য ভালো কিছু কিন্তে পারিনা। শিক্ষিত হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করতেও পারিনা। সরকারের উচিৎ আমাদের দিকে নজর দেয়া।

কলেজটির অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল সাংবাদিকদের জানান, আমরা ২০১৫ সাল থেকে ২৫ জন শিক্ষক কর্মচারি শ্রম দিয়ে আসছি। বর্তমানে ৩৫২ ছাত্রছাত্রী প্রতিষ্ঠানটিতে পড়ালেখা করেছে। তারা যেন ভালো ফলাফল করতে পারে সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতি বছরই আমাদেও শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট উপাহার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন আমাদের শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, গ্রামপর্যায়ে কলেজটি হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়না, তারপরও আমরা হাল ছাড়িনি। আমরা আশা করছি, আগামী বছরে আরো ভালো রেজাল্ট হবে। যদি কলেজটি এমপিও ভুক্ত করা হতো তাহলে আমরা জেলার মধ্যে সেরা হতাম। সেইসাথে আমাদের সাংসদ মোতাহার হোসেন এমপির সার্বিক সহযোগিতায় আমরা অনেকদুর এগিয়েছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ