fbpx
 

নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর রুটে নতুন লঞ্চ চলাচলে বাধা ধর্মঘটের হুশিয়ারী

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯ ৪:০১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর রুটে নতুন লঞ্চ চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ মালিক সমিতির বিরুদ্ধে। গত ৬ আগষ্ট থেকে লঞ্চটি চলাচলের অনুমতি পেলেও মালিক সমিতির বাধার কারণে অদ্যাবধি লঞ্চটি চলাচল করতে পারেনি। নতুন লঞ্চটির মালিককে হুমকী ধমকী ছাড়াও লঞ্চ ধর্মঘটেরও হুশিয়ারী দিয়েছে মালিক সমিতির নেতারা। এতে করে পবিত্র ঈদুল আযহায় নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে দেয়া হয়নি নতুন ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত লঞ্চ। লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জিম্মি লঞ্চ যাত্রীরা। কোন বিনিয়োগকারী এই লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন রুটে লঞ্চ নামাতে চাইলেও তাতে বাঁধা হয়ে দাড়ান লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা। মালিক সমিতির নেতাদের সিন্ডিকেটের কারণেই অত্যন্ত পুরাতন, জরাজীর্ণ ও ছোট আকারের লঞ্চগুলো দিয়েই প্রতিদিন উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর বেশীরভাগেরই নেই ফিটনেস। কোনটিরই মাস্টার ড্রাইভার নেই। এসকল লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানী ড্রাইভাররা। সার্ভের সময় মালিকরা চালাকি করে ডিসপেনশন সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে। আইএসও ১৯৭৬ এর নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেনীর নৌযান সুর্যাস্তের পর চলতে পারবে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী লঞ্চগুলো রাত ৯-১০টা পর্যন্তও চলে। সার্ভের সময় যে ধারনক্ষমতা দেখানো হয় তার থেকে কয়েকগুন বেশী যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করে। যেমন যে লঞ্চটি ৪০ জনের কনজারভেসি, আয়কর, যাত্রী কল্যাণ ট্যাক্স দেয় সেই লঞ্চটি প্রতি ট্রিপে অন্তত দেড় থেকে দুইশজন যাত্রী বহন করে থাকে। প্রতিটি লঞ্চে বয়া থাকার প্রয়োজন ১২-১৬ টি। কিন্তু রয়েছে ৫-৬টি। নরিয়া ও চাঁদপুর রুটে দ্বিতীয় শ্রেনীর লঞ্চ চালাচ্ছে তৃতীয় শ্রেনীর মাস্টার ড্রাইভার। এতে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য জানান, নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৫টি রুটে ৬২টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। তার মধ্যে ৩টি লঞ্চের সার্ভে সনদ স্থগিত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) ২টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গত ৬ আগষ্ট থেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে এমভি পূবালী-৪ (এম-৬০৭৮) নামের একটি নতুন লঞ্চ চলাচলের জন্য রুট পারমিটের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই রুট পারমিট অনুযায়ী নতুন লঞ্চটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ও সকাল ৬টায় চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা। ৮ আগষ্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চটি চলাচল শুরু হয়নি। তবে ৯ আগষ্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে লঞ্চটি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে মালিকপক্ষ জানিয়েছে।
নৌযানটি ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং থেকে প্রাপ্ত সার্ভে সনদ থেকে জানা গেছে, লঞ্চটিতে দিনের বেলায় ৩৪০ জন ও রাতের বেলায় ২৩০ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এতে ৬১টি লাইফ বয়া, ১১টি ফায়ার বাকেট, ৫টি অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রসহ বিভিন্ন অগ্নি নির্বাপক ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রয়েছে। এছাড়া ২ জন ৩য় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টার ও ২ জন ৩য় শ্রেণির ইনল্যান্ড ড্রাইভার রয়েছে।
এমভি পূবালী-৪ নামের নতুন লঞ্চটির মালিক আলাউদ্দিন জানান, ছোট ছোট আকারের লঞ্চ মালিকরা নানা মাধ্যমে তাকে হুমকী ধমকী দিচ্ছেন। লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আমাকে হুমকী দিচ্ছেন। এমভি পূবালী-৪ ওই লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চলাচল করতে নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘট করতে পারে এমন কথা উল্লেখ করে হুশিয়ারীও দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ চিঠিও দিয়েছে মালিক সমিতি। আমরা কাছে ওই চিঠির কপিও রয়েছে। তিনি শুক্রবার বিকেল ৬টায় লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে জানান। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর সবই মিথ্যা। আমরা কাউকেই বাধা কিংবা হুমকী দেইনি। এমভি পূবালী-৪ নামের লঞ্চটিও অনেক পুরনো। এছাড়া লঞ্চটি চলাচলের বিষয়ে মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটির সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি। লঞ্চটি চলাচলের শিডিউল সাংঘর্ষিক। এজন্য আমরা বিআইডব্লিউটিএকে চিঠি দিয়েছি যে পরবর্তীতে শ্রমিক ধর্মঘট হতে পারে। তবে এখন পবিত্র ঈদুল আযহার সময়ে আমরা কোন ধর্মঘটে যাচ্ছিনা। এ বিষয়ে পরবর্তীতে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মালিক সমিতি কেন নতুন আধুনিক লঞ্চ নামাচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা ডিজি শিপিং থেকে নতুন লঞ্চ নামানোর জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু তাদেরকে আবেদন দেয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Hits: 12


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ