fbpx
 

ভেদরগঞ্জে ১১ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ২:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ২:৪৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক দ্যিালয়ের প্রধান শিক্ষক ১১ ছাত্রির চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকেকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেছেন। প্রধান শিক্ষক বলছেন শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য চুলের সেটিং করেছি। জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার বলছেন তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিব।
অভিভাবক ফরিদা বেগম জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন ২৯ নং বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫মশ্রেণীর ছাত্রি নাহিদা আকতার, ফাতেমা আকতার, তাজরিন, সাথী আকতার, সাবিয়া,ফারহানা আকতার, সুরাইয়া আকতার, ইতি, সুমনা আকতার, পাহমিদা আকতার, তাজরিন বেগম সহ ১১জন ছাত্রির চুল কেটে দিয়েছে।ঐদিন ছাত্রিরা স্কুলে যাওয়ার পর বেলা অনুমান ১২টায় প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপ ছাত্রিদেরকে ডেকে নিয়ে বলে তোমাদের কে চুল সেটিং করে আসার জন্য বলেছিলাম। তোমরা এলোমেলো ভাবে চুল নিয়ে স্কুলে আসছ কেন?। এ সময় স্কুলের দপ্তরী জুম্মান কে ডেকে ১১জনের চুল কেটে দেয়ার জন্য। নির্দেশ পেয়ে দপ্তরী এদের চুল কেটে দেন। চুলকাটার সময় শিক্ষার্থীরা ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এরপরে ও প্রধান শিক্ষক কোন প্রকার সহানুভুতি দেখায়নি। স্কুল ছুটির পরে বাড়ি ফিরে ঐ সকল ছাত্রিরা অভিভাবকদের কাছে ঘটনা খুলে বলে। এ খবর শুনে ফারহানা আকতারের বাবা মোহাম্মদ আলী সরকার স্কুলে যান । এ সময় ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা হালিমা আকতার ঐ অভিভাবকের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে।তারা অন্যান্য অভিভাবকদের কে স্কুলে ঢুকতে দেয়নি। এরপর ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর জানাজানিতে ছাত্রিরা লজ্জায় ভেঙ্গে পড়ে। কয়েকজন ছাত্রি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপ এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন। প্রধান শিক্ষক বলছেন বাড়াবাড়ি করলে সমাপনী পরীক্ষায় সমস্যা করবেন। এ ঘটনার পর ৯ সেপ্টেম্বর দুইজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যথাক্রমে এসএম মশিউল আজম ও মোস্তফা গোলাম সরেজমিন তদন্ত করেছেন।
না প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ছাত্রি বলেন,আমার চুল অনেক লম্বা ছিল আমি মেডামকে বার বার অনুরোধ করেছি আমার চুল কাটবেন না। সে আমার কোন কথাই শুনেনি। মেডাম দপ্তরীকে দিয়ে আমার চুল কেটে দিয়েছে।এলামেলো ভাবে চুল কাটার কারনে আমি ন্যাড়া হওয়া ছাড়া উপায় নাই।আমি লজ্জায় স্কুলে যাইনি।আমি এর বিচার চাই।
ভুক্তভোগী আরেক ছাত্রি বলেন, চুল কাটার সময় আমি কান্না করেছি।প্রধান শিক্ষক বলেছেন চুল থাকলে মাথার ব্রেন খারাপ হয়ে যায়।উকুন রক্ত খেয়ে ফেলে।তাই চুল কেটে দিলাম।এরপর আমি চুল নেড়া করে দিয়েছি। ভুক্তভোগী ছাত্রের অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে কয়েক মাস পরে হাই স্কুলে যাবে। চুল মেয়েদের অলংকার।একজন পুরুষ লোক দিয়ে চুল কেটে দেয়ার সাহস প্রধান শিক্ষক কি করে পেল। আমার মেয়ে লজ্জায় বাসা থেকে বের হয়না। আমি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
বিদ্যালয়ের দপ্তরী জুম্মান বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে নির্দেশ দিয়েছে চুল কাটার জন্য। আমি অফিস থেকে কেচি এনে চুল কেটে দিয়েছি।আমার কোন ােষ নেই।
প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপ বলেন, ইতোপূর্বে মা সমাবেশে বলেছিরলাম চুলের সেটিং করতে। মায়েরা আমার কথা বুঝতে পারেনি।তাই আমি উপস্থিত থেকে চুল কেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়তা করেছি। এ নিয়ে কিছু লোকেরা প্রোপাগান্ডা করছে।আমি অভিভাবকদের সঙ্গে আপোষ মিমাংসা হয়েগেছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মশিউল আজম বলেন, আমি ও আামার সহকর্মী মোস্তফা গোলাম সরেজমিন তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আমরা কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবো ।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে)মাহবুবুর রহমান শেখ বলেন আমি ঘটনা জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থাি নিতে নির্দেশ দিয়েছি।
জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি এ ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ