fbpx
 

আত্মগোপনের সময় মাছ ধরে সময় কাটত সম্রাটের

Pub: রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ক্যাসিনো-কাণ্ডে নাম আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। আশ্রয় নেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্তবর্তী কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের জামায়াত নেতা মনির চৌধুরীর বাড়িতে। তিনি আবার ফেনী পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিনের বোনের জামাই। আলাউদ্দিন ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের নেতা। শনিবার দিবাগত রাতে সম্রাটকে আটকের সময় মনির ও আলাউদ্দিন দুজনই উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকড়া ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের প্রায় নির্জন এলাকায় মনির চৌধুরীর বাড়ি। এলাকায় চৌধুরী বাড়ি বলে পরিচিত এটি। মৃত সোনা মিয়া চৌধুরীর ছেলে মনির চৌধুরী বাড়ির মালিক। বাড়িতে চারটি পরিবার রয়েছে। তবে কেউ বাড়িতে থাকেন না। সবাই পরিবার নিয়ে ফেনী শহরে থাকেন। আর জামায়াত নেতা মনির চৌধুরীর পরিবার ঢাকায় থাকেন, তিনি থাকেন ফেনীতে। স্টার লাইন পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এবং ব্রিক ফিল্ড রয়েছে ফেনীতে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি মনির চৌধুরীর বাড়ির সামনে আসে। প্রায় অর্ধশতাধিক কালো পোশাকধারী র‌্যাব সদস্য বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। রাত ১১টার দিকে দোতলা বাড়িটির একটি কক্ষ থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে বের করে আনেন র‌্যাবের সদস্যরা। পরে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে দুজনকে নিয়ে ওই বাড়ি ত্যাগ করে র‌্যাবের গাড়ি। সম্রাট ও আরমানকে আটকের সময় জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী ও তার শ্যালক ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র আলাউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন ধরে ওই বাড়ির ভেতরে বাতি জ¦ালানো থাকলেও দরজার বাইরে তালা মেরে রাখা হতো। দুজন পুরুষ সন্ধ্যার আগে পুকুরপাড়ে গিয়ে বসে থাকতেন। মানুষের সামনে তেমন আসতেন না তারা। র‌্যাবের হাতে আটকের পর তারা জানতে পারেন এই দুজনই সম্রাট ও আরমান। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ভারতে পালিয়ে যেতে তারা ওই জামায়াত নেতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

মনির চৌধুরীর ভাইয়ের মেয়ে সামিয়া জান্নাত চৌধুরী ও তার মা নূর নাহার জানান, মনির চৌধুরী বাড়িতে থাকেন না। তিনি ফেনীতে থাকেন, আর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে শুধু মানসিকভাবে অসুস্থ মাকে নিয়ে বিবাহিত বোন স্বামীসহ থাকেন।

বাড়ি এলে তারা যে ঘরে থাকেন ওই ঘরের দরজার বাইরে সব সময় তালা লাগানো দেখা যেত। কিন্তু ভেতরে জ¦ালিয়ে রাখা লাইটের আলো চোখে পড়ত। আর সন্ধ্যার আগে দুজন মানুষ পুকুরপাড়ে গিয়ে বসে থাকতেন। মাঝেমধ্যে বড়শিতে মাছ ধরতেন।

তারা আরও জানান, বাড়িতে সম্রাট আত্মগোপন করার পর থেকে জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী ঘন ঘন বাড়ি আসতেন। তার সঙ্গে শ্যালক ফেনীর পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনও আসতেন। আদর-সমাদর দেখে সামিয়া ও তার মা বুঝতেন বাড়িতে থাকা ওই দুই পুরুষ তাদের মেহমান।

সামিয়া জান্নাত চৌধুরী বলেন, শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা টেলিভিশন দেখছেন। হঠাৎ কয়েক গাড়ি র‌্যাবের সদস্য তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর আরও কয়েক গাড়ি র‌্যাব এসে বাড়িতে অবস্থান নেয়। কয়েকজন র‌্যাব সদস্য তাদের ঘরে প্রবেশ করে খোঁজখবর নেন। কিছু সময় পর র‌্যাবের সদস্যরা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে ভবনের দোতলা থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

গ্রামের বাসিন্দা সাদেক হোসেন এবং মফিজুর রহমান বলেন, চৌধুরী বাড়িতে কোনো পরিবার থাকেন না। সবাই পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন। মনির চৌধুরীর দুটি ঘর। একটিতে মনির চৌধুরী বাড়ি এলে থাকেন। অন্যটিতে তার মা আর বোন স্বামীকে নিয়ে থাকেন। গত কয়েকদিন থেকে আশপাশ দিয়ে যাওয়া আসার সময় দুইজন ব্যক্তিকে দেখা যেত। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেন।

আবদুল কুদ্দুস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মনির চৌধুরী ছাত্র শিবিরের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র হাজি আলাউদ্দিনের বোনকে বিয়ে করেন। ফেনীতে থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে মনির চৌধুরীর ভাতিজা নাজিম চট্টগ্রামে নাশতকামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়াও তার আরেক ভাতিজা তসলিম কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে বিপুল পরিমানের ককলেটসহ আটক হন। পরবর্তীতে ফেনীর মেয়রের মাধ্যমে পুলিশ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

চৌদ্দগ্রাম আলকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল বলেন, ‘শনিবার দিনগত রাত ১১টার সময় শুনেছি র‌্যাব সদস্যরা চৌধুরী বাড়ি ঘিরে ফেলে। সকালে জানতে পারি ওই বাড়ি থেকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে জেলার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ