fbpx
 

ছাত্রদল সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী বেকসুর খালাস

Pub: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯ ৭:৫১ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯ ৭:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ না কেউ আবরারের মতো নির্যাতনের পরিণত ভোগ করেছেন। হয়তো আবরারের মতো প্রাণ না হারালেও এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতনের ক্ষত। কিন্তু আবরারের ঘটনার ৭-৮ বছর আগে আবরারের মতোই পরিণত বরণ করতে হয়েছিল মেধাবী ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদকে।

আবরারকে শিবির আর আবিদকে ছাত্রদলের কর্মী সন্দেহে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ছাত্রাবাসে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর পিটিয়ে হত্যা করেছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবিদ ছিলেন চমেকের ৫১তম ব্যাচের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আবরারের বিচারের জন্য তার সহপাঠীরা এখন সোচ্চার কিন্তু ৮ বছরেও বিচার পায়নি আবিদের পরিবার। নির্মম হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কারণ, চলতি বছরের জুলাই মাসে তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আবরার হত্যার বিচার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে নতুন করে এসেছে আবিদের নাম।

মামলা ও আবিদের সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ছাত্রদল কর্মী সন্দেহে আবিদ ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওইদিন তাকে দুপুর ২টা, সন্ধ্যা ৭টা ও রাত ১০টায় তিন দফা গুরুতর আহত করে চমেক ভিপিসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তাকে চিকিৎসা না দিয়ে বোনের বাসায় পাটিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বোন ভাইকে নিয়ে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তাতেও বাধা দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় মারা যান আবিদ।

হত্যাকাণ্ডের পর আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগের তৎকালীন ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে থানার পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আসামিরা হলেন- তৎকালীন চমেক ছাত্র সংসদের ভিপি মফিজুর রহমান জুম্মা, শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক বিজয় সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, ফেরদৌস রাসেল, শান্ত দেবনাথ, মাহাফুজুর রহমান, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি, দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা কামাল, রাশেদুর রহমান সানি ও সালমান মাহমুদ রাফসান।

দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর চলতি বছরের ১০ জুলাই চট্টগ্রাম পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ‘রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবীরা’ প্রমাণ করতে পারেনি তাই নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের সবাইকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। কিন্তু ওই মামলার রায় ঘোষণার পর বাদী পক্ষের লোকজন জানতে পারেন আসামিরা বেকসুর খালাস।

মেধাবী সন্তান হারিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর বড়ইতলী গ্রামের মৃত নরুল কবির চৌধুরী আহাজারি না থামলেও খুনিরা বীরদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছেন। অভিযুক্তদের অনেকেই এখন চিকিৎসা পেশায় যুক্ত।

নতুন করে আবিদের পরিণত বরণ করেছে আবরার ফাহাদ। আবরারের হত্যাকারীদের কঠোর বিচার চেয়ে আন্দোলন করছেন তার সহপাঠীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আবরারের আন্দোলন দেখে নতুন করে আহাজারি বেড়েছে আবিদের পরিবারের।

কথা হয় আবিদের ভাই মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। তিনি ক্ষোপের সঙ্গে জানান, ‘বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের মতো পরিণতি হয়েছিল আবিদের। কিন্তু আমার ভাই হত্যার বিচার পায়নি। রায় ঘোষণার সময়ও আমরা জানতে পারেনি যে রায় ঘোষণা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।’

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট অশোক চৌধুরী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এটা ঠিক। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীরা আসামি শনাক্ত করতে পারেননি এবং সাক্ষ্য-জেরায় আসামিদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের দোষ প্রমাণে সচেষ্ট ছিলাম।’

এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মফিজুর রহমান জুম্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও কথা বলেননি। তবে দ্বিতীয় আসামি হিমেল চাকমা রায় নিয়ে কথা বলতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমাকে আসামি বলা যাবে না, কারণ ওই ঘটনা থেকে আমি খালাস পেয়েছি। তাই মামলার রায় যেহেতু হয়েছে, তাই সেই বিষয়ে আমি কোনও কথা বলবো না।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ