fbpx
 

হাতীবান্ধা মডেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ

Pub: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯ ১:৫০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯ ১:৫৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে নানান দুর্নীতি আর সমালোচনার আখড়ায় পরিনত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজটি। এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এবারে যোগ হলো গোপনে কলেজের ৬টি কোমল গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ। কি কারণে গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে তা জানেনা উপজেলা শিক্ষা অফিস, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক। ফলে এলাজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাব অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করার আগে তা পরিচালনা কমিটির সম্মতিক্রমে রেজুলেশন লিখতে হয়। এরপর উপজেলা শিক্ষা অফিস ও নির্বাহী অফিসারের নিকট তার অনুলিপি জমাদানপুর্বক তাদের অনুমতি ক্রমে নিলামে বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।              
জানা যায়, হাতীবান্ধা মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন জুয়েল। তিনি কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কলেজের পিছনে বাড়ির মালিক মনজু মিয়ার নিকট গোপনে ৬টি ইউকিলিবটার গাছ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এবিষয়ে তিনি কলেজ পরিচালনা কমিটির ও স্টাফদের কারও সাথে কোন প্রকার  আলোচনা করেননি। সার্বজনীন দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় গত (৫ অক্টোবর) শনিবার কলেজের ৪টি ও (৬ অক্টোবর) ২টি ইউকিলিবটা গাছ কেটে বিক্রি করেন মনজু মিয়া। বিষয়টি কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য, কলেজ স্টাফ ও এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে শুরু হয় নানান সমালোচনা ও ক্ষোভ। পরে বিষয়টি তারা মৌখিকভাবে ঐ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করান।
হাতীবান্ধায় মডেল কলেজের গাছ ক্রয়কারী দাবিদার ঐ এলাকার মঞ্জু মিয়া বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন জুয়েল তার নিকট ৬টি ইউকিলিবটার গাছ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। পরে তিনি ঐ ৬টি গাছের মধ্যে সিন্দুর্না ইউনিয়নের গাছ ব্যবসায়ী ইছামুদ্দিনের (৫৫) নিকট ৪টি গাছ ও ডাকালীবান্ধাহাট এলাকার “স” মিল মালিক মানিক মিয়ার নিকট ২টি গাছ কেটে বিক্রি করেন। তবে কলেজের ৬টি গাছ ক্রয়ের কোন লিখিত কাগজ আছে কিনা তা দেখতে চাইলে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। 
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের গাছ ব্যবসায়ী ইছামুদ্দিন বলেন, মনজু মিয়া কলেজের ৪টি ইউকিলিবটার গাছ কেটে এনে তার নিকট বিক্রি করেছে। তবে অভিযোগ পাওয়ায় এখনো তিনি গাছের সম্পুর্ন মুল্য পরিশোধ করেননি বলে জানান।
এবিষয়ে কথা হলে ঐ কলেজের একাধিক শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য জানান, অধ্যক্ষের হুকুমে কলেজের ৬টি গাছ কেটে কি কারণে বিক্রি করা হলো তা আমাদের জানা নেই এবং অধ্যক্ষ এবিষয়ে আমাদেরকে কিছুই বলেননি। তবে ঐ গাছ কেটে বিক্রি করার বিষয়ে তদন্তপুর্ব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
হাতীবান্ধা মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন জুয়েলে মোবাইল ফোনে এবিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।        
হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা অফিসার অন্দর্প নারায়ণ রায় বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেখানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর উপর জোড় দিচ্ছে। সেখানে ঐ কলেজের অধ্যক্ষ কিভাবে ৬টি গাছ কেটে বিক্রি করলো সেটা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। 
হাতীবান্ধা মডেল কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিউল আমিন বলেন, গাছ কেটে বিক্রি করার বিষয়ে কলেজ পরিচাালন কমিটির কোন রেজুলেশন হয়নি এবং এবিষয়ে আমার কাছে কেউ অনুমতি নেননি। তবে দ্রুুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান ঐ নির্বাহী ককর্মকর্তা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ