fbpx
 

না’গঞ্জ বিএনপির কমিটি সভাপতির ছেলে সাংগঠনিক পিএস কোষাধ্যক্ষ

Pub: Thursday, October 31, 2019 7:58 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : আংশিক কমিটি ঘোষণা হওয়ার দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই কমিটিতে রয়েছে অনেক উত্থান পতন, স্বজনপ্রীতি সহ বিভিন্ন পদে পদায়ন নিয়ে রয়েছে অনেক তর্ক বিতর্ক। একই সাথে এই কমিটিতে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরাও জায়গা করে নিয়েছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা হওয়ার শুরুতেই তৃণমূলে নানা আলোচনা সমালোচনা জন্ম নিয়েছে।
সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মহানগরেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের আপত্তির ভিত্তিতে সেই কমিটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর সেই কমিটিতে অনেক যোজন বিয়োজন করে ৩০ অক্টোবর বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আংশিক কমিটির সাংগঠনিক পদে থাকা আব্দুস সবুর সেন্টুকে যুগ্ম সাধারণ পদে পদায়িত করা হয়েছে। তিনি ওয়ানম্যান শো নেতা হিসেবেই পরিচিত। তারপরেও তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জায়গা করে নিয়েছেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা করে নিয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা। তার পদ অনুযায়ী মহানগর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয় সম্পাদক পদে যাওয়া কথা। কিন্তু সেটা না হয়ে আবুল কাউসার আশা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের জন্য। কারণ আবুল কালামের পুত্র হচ্ছেন আবুল কাউসার আশা। আর এই স্বজনপ্রীতিতে তিনি প্রটোকল ভেঙ্গে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক পদে পদায়িত হয়ে গেছেন। যদিও আশা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক করা হয়েছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম ছক্কুকে। অথচ কমিটির সেক্রেটারী হলেন, সাখাওয়াত হোসেন রানা।
একইভাবে মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদে জায়গা করে নিয়েছেন সোলায়মান সরকার। যিনি নারায়ণঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পিএস ছিলেন। আর সেই সূত্র ধরে তিনি অনেক নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অগ্রভাগে চলে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবে যা কাম্য হওয়ার কথা না।
মহানগর বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদে জায়গা করে নিয়েছেন ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। যিনি বর্তমানে অনেকটাই নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। দেশ ছেড়ে অনেকদিন ধরেই তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। আর বিদেশ থেকেই মহানগর বিএনপিতে মোহাম্মদ রেজা রিপন পদ পেয়ে গেছেন।
দলীয় প্রটোকল অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে জায়গা পাওয়া কথা মহিলা দলের নেত্রীদের। কিন্তু সে অনুযায়ী পদায়ন করা হয়নি। মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদক পদে জায়গা করে নিয়েছেন দিলারা মাসুদ ময়না। অথচ তিনি মহিলা দলের কোন দায়িত্বে নেই। ফলে মহিলা দলের নেত্রীদের এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
যুব বিষয়ক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন মনোয়ার হোসেন শোখন। যার নামে রয়েছে অনেক বিতর্ক। তিনি সবসময় বিদ্রোহী হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন। গত ২৭ অক্টোবর মহানগর যুবদলের কর্মসূচীতে তিনি ছিলেন বিদ্রোহী। সেদিন সকালে মূল কর্মসূচীতে না থেকে বিকেলে বিদ্রোহ করে কর্মসূচী পালন করে।
ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন যুবদল নেতা সরকার আলম। যার ছাত্রদের সাথে যার কোন সম্পর্কই নেই। ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এখানে সরকার আলমের মতো একজনকে দায়িত্ব দেয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অজ্ঞতা বটে। সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন মোঃ কামাল উদ্দিন জনি। যার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসার অভিযোগ। অথচ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হলেন শাহেদ আহমেদ ও সেক্রেটারী মমিনুর রহমান বাবু।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর কমিটির নেতারা রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন একটা অবদান রাখতে পারেননি। দলীয় সকল আন্দোলন সংগ্রামেই তারা পুলিশের ভয়ের কাবু হয়ে আগে থেকেই কর্মসূচি থেকে পিছু হটেন।
সাথে (২নং) প্রতিকী ছবি আছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ