fbpx
 

রাসেলের স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নেন এসপি হারুন!

Pub: Sunday, November 3, 2019 10:53 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ আম্বর ডেনিম গ্রুপের কাছে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল।

শুধু তাই নয় গত পহেলা নভেম্বর স্ত্রী ফারাহ রাসেল এবং ছেলে আনাফ রাসেলকে গুলশানের বাড়ি থেকে তুলে আনারও অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।

এসব অভিযোগের মধ্যেই রোববার এসপি হারুনকে পুলিশ অধিদপ্তরের টিআর শাখায় বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তার বদলির আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপ পারটেক্সের কর্ণধার আবুল হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, আম্বর ডেনিম গ্রুপ থেকে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এই চাঁদার টাকা না পেয়ে গত বুধবার তার ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করে নিয়ে যান। পরে পহেলা নভেম্বর গভীর রাতে তার গুলশানের বাড়িতে ৫০-৬০ জন ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের নিয়ে হানা দেন এসপি হারুন।

রাসেল আরো দাবি করেন, তার বাড়িতে গিয়ে প্রতিটি রুম তছনছ করা হয়। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী ফারাহ রাসেল এবং আনাফ রাসেলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে আসা হয় নারায়ণগঞ্জ। এসপি হারুন তার (রাসেল) গাড়িচালক সুমনকে মাদক ও গুলি দিয়ে আটক করা হয়েছে বলে নাটক মঞ্চস্থ করেন। এ ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে রাসেলের বাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালানো এবং সেখান থেকে তার স্ত্রী-পুত্রকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

জানা গেছে, রাসেলের স্ত্রী ও ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে ২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবুল হাসেম ও তার স্ত্রী। সেখানে তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। পরে বিকালে রাসেলের ছেলে ও স্ত্রীকে তাদের হেফাজতে ছেড়ে দিয়ে, গাড়িচালক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শওকত আজিজ রাসেল ও চালক সুমনকে আসামি করে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

মামলার পর গণমাধ্যমে এসপি কার্যালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়- নারায়ণঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে তার ঢাকার বাসায় নামিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আবার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন তার গাড়ির চালক ও দেহরক্ষী।

গাড়িটি তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছাকাছি পৌঁছালে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। তখন এসপির গাড়ির চালক জুয়েল মিয়া হর্ন দিলে, সামনে থাকা গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৮৩৭৫) থেকে একজন লোক বের হয়ে আসেন। তিনি এসপির গাড়ির বামপাশের কাঁচে জোরে আঘাত করে গালিগালাজ করতে থাকেন। ওই ব্যক্তি বলেন- ‘আমি পারটেক্স রাসেল, গাড়ির দরজা খোল।’ তখন এসপির গাড়ির চালক গ্লাস খুলে প্রতিবাদ জানালে রাসেল তার মাথায় পিস্তল ঠেকান।

এক পর্যায়ে গাড়িটি পুলিশের বুঝতে পেরে রাসেল নিজ গাড়িতে উঠে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সুপার হারুনের চালক ও দেহরক্ষী ওই গাড়িটিকে অনুসরণ করতে থাকেন। গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছে দেখে তারা জেলা ডিবি পুলিশকে বিষয়টি জানান। তখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় চৌরঙ্গী ফিলিং এন্ড সিএনজি ষ্টেশনের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করে ডিবি পুলিশ। তবে গাড়িতে পারটেক্স রাসেলকে পাওয়া যায়নি, গাড়ির চালক সুমনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। গাড়িটি তল্লাশি করে ২৮ রাউন্ড গুলি, ১২০০ পিস ইয়াবা, ২৪ বোতল মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ার ও নগদ ২২ হাজার ৩শ টাকা উদ্ধার করা হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ