fbpx
 

ঘুর্ণিঝর ‘বুলবুল’ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটেছে উপকূলবাসীর!

Pub: Saturday, November 9, 2019 11:49 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাবির হোসেন, পায়রা বন্দর (পটুয়াখালী) থেকে: ঘূর্ণিঝর ‘বুলবুল’এ সৃষ্ট নি¤œচাপে বঙ্গোপ সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। একারণে পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জাড়ি করা হয়েছে। ঘুর্ণিঝরটি উপকুলীয় এলাকায় আঘাত হানবে এই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে সাগর উপকূলীয় লক্ষাধিক মানুষের। পটুয়াখালী উপকুলীয় এলাকায় সর্বত্র গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘুর্নিঝর বুলবুলের প্রভাবে শনিবার ভোর থেকে টানা বর্ষণ শুরু হয়। দিনভর একটানা বর্ষণ পর বিকেল থেকে থেমে থেমে মাঝারী ভারী বৃষ্টি হয়। সন্ধার পরে ঘোটা উপকূল জুড়ে আতঙ্ক বইছে। কেউ নিরাপ আশ্রয় নিচ্ছেন নিকট আত্মীয়র বাড়িতে, আবার কেউ ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। উপকূলের দিকে এই দূর্যোগটি আঘাত হানবে এ কারণে প্রস্তুত রয়েছে রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ উপকূলীয় পটুয়াখালীর প্রশাসন। মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৫৮টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে কয়েক হাজারের অধিক লোক আশ্রয় নিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরের নীকটবর্তী এলাকা থেকে রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়াম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খাঁন জানান, তাদের এলাকার লোকজন পানি ও ঝড়ের সাথেই বসবাস করে থাকেন। দিনের বেলায় তাদের ভয় কম, এই কারণে লোকজন এখন সাইক্লোন সেল্টারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। রাতের বেলায় লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসবে। তবে ইতোমধ্যেই বেরিবাঁধহীন বিচ্ছিন্নদ্বীপ চর কাশেম থেকে ২শ’ পরিবারকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তার এলাকায় ১৬ টি স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, ঘুর্নিঝর বুলবুল এর ক্ষতি থেকে জানমালের রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যে কোন ধরনের দূর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সক্ষম হবো। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো যারা নিরাপদে আশ্রয় নিচ্ছেন না তাদেরকে সাইক্লোন সেল্টারে আসতে বাধ্য করা হবে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানিয়েছেন, রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৫৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। তাতে ইতোমধ্যে তিন হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। সন্ধ্যার পরে ঝড় আঘাত হানতে পারে তাই অনেকেই বিকেলের দিকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসবে। তবে এখন মাত্র ভাটা শুরু হয়েছে সন্ধ্যার দিকে পুরো ভাটা থাকবে। জোয়ারের সময় থাকলে ঝড় শুরু হলে জলোচ্ছাসের পরিমান বৃদ্ধি পায়। তখন বেশী ক্ষতি হয়। তিনি আরও জানান, আজও আগুনমুখা নদীতে এ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া উপক্ষো করে মাছ শিকাররত কমপক্ষে ৫০ টি মাছ ধরা নৌকার জেলেদেরকে নদী থেকে জোড় করে উঠিয়ে দিয়েছেন তারা।

পটুয়াখালী জেলা প্রসাশক মো.মতিউল আলম চৌধুরী জানান, ঘুর্ণিঝর মোকাবেলার জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তাসহ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভলান্টিয়াররা কর্যক্রম চালচ্ছেন। আশাকরি ঘুর্নিঝর আঘাত হানলেও বড় ধরনের কোন ক্ষতি হবেনা।
এ দিকে পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা থেকে আজ দুপূর ১২ টা পর্যন্ত ৪০.৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ