fbpx
 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ

Pub: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার প্রতিনিধি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতকে পাশে থাকতে চায় বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচূত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য পঞ্চম দফায় ত্রাণ সহায়তা দিল বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গাক্যাম্পে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এ ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। পঞ্চম দফার ত্রাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হয় এক হাজার পায়ে চালিত সেলাই মেশিন, ৩২টি সাধারণ তাঁবু, ১০০টি ফ্যামিলি তাঁবু ও জীবনক্ষাকারী সরঞ্জাম। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি­ সফরের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সহায়তা দিল ভারত। বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা করে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অনিন্দ ব্যানার্জি, হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব দীপ্তি আলাংঘাট, অ্যাটাশে (প্রেস) দেবব্রত পাল প্রমুখ। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় অপারেশন ইনসানিয়াতের আওতায় ৫৩ টন খাদ্য সামগ্রী পাঠায় ভারত। তার মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, লবণ, বিস্কুট, গুঁড়ো দুধ, নুডলস, সাবান, মশারি ও তেল। মানবিক এ সহযোগিতার স্মারক হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ১০৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ, ৬১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্য, ৫০ হাজার রেইনকোট এবং ৫০ হাজার গামবুট পাঠায় ভারত। যা চট্টগ্রামে হস্তান্তর করেন তৎকালীন হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় দফায় ১০ লাখ ১০ হাজার লিটার কেরোসিন তেল ও ২০ হাজার স্টোভ দেওয়া হয়। ভারতীয় ত্রাণ সহায়তার চতুর্থ চালানে ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার কম্বল, দুই লাখ উলের সোয়েটার ও পাঁচশ সৌর সড়কবাতি। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে চতুর্থ পর্যায়ের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিধনযজ্ঞ শুরু করলে বাংলাদেশ অভিমুখে শরণার্থীদের ঢল নামে। এ পর্যন্ত এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি বলে হিসাব বিভিন্ন সংস্থার। রোহিঙ্গাদের সসম্মানে প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় কাজ করছে বাংলাদেশ। এ সংকট নিরসনে বরাবরই বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলছে ভারত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রতাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদারসহ দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিরা।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ ও টেকসই মূলক প্রত্যাবাসর চাই ভারত সরকার। তার জন্য সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এক্স:- ৪ এ রোহিঙ্গাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের পর থেকে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত সরকার। তারই অংশ হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য বেশ কিছু বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। যাতে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসিত হয়ে ফেরা রোহিঙ্গারা সেখানে থাকতে পারেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণও কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা তা বাস্তবায়নেও সহযোগীতা করা হচ্ছে। যেহেতু এটি মুজিববর্ষ তাই বাংলাদেশের পাশে থাকবো। এরআগে, সেলাই মেশিন বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে, রোহিঙ্গা নারীদের সেলাই মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১ হাজার জনকে এ মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৯৯ রোহিঙ্গা পরিবারকে ফ্যামিলি টেন, ৩২ অফিস টেন ও আরও ৩২ পরিবারকে রেসকিউ কিট দেয়া হয়। বিতরণকালে আরও উপস্থিত থাকবেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার।

Hits: 25


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ