fbpx
 

ভালুকার লাবিব ফ্যাক্টরীতে করোনা’র সাথে যুক্ত হলো শ্রমিক ছাঁটাই আতংক

Pub: বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০ ২:৫০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো: রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি: করোনা নিয়ে সারা দুনিয়া যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন করোনাকে পুঁজি করে কৌশলে শুরু করে শ্রমিক ছাঁটাই। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে করোনা আতংকের সাথে নতুন করে সংযোজন হয় ছাঁটাই আতংক। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকার মেহেরাবাড়ী এলাকায় লাবিব ফ্যাক্টরীতে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা দেয়া দেয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সহকারী কমিশনার(ভুমি) রোমেন শর্মা ও মডেল থানা ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিক-মালিকদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, লাবিব গ্রুপের লিংকিং ফো¬রের সুলতানা সোয়েটার্স শ্রমিকদের আংশিক বেতন দিয়ে কারাখানা ছুটি ঘোষনার উদ্যোগ নেয় ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের এক সাথে না করে কৌশলে ২/১জন করে অন্য ফ্লোরে ডেকে ডেকে এক চলতি মাসের আংশিক বেতন দিয়ে তিন মাসের বেতন সিটে স্বাক্ষর করিয়ে রাখে।

এ সময় শ্রমিকদের কাছ থেকে পরিচয় পত্র রেখে দিয়ে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেয়ার রিজাইন লেটারে স্বাক্ষর নেয়া শুরু করে। সুলতানা সোয়েটার্স লি: এর উপব্যাবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লেখা ওই আবেদনে বিষয় উল্লেখ করা হয় চাকুরী হইতে অব্যাহতি চাহিয়া আবেদন পত্র। কম্পিউটারে লেখা ওই আবেদনটিকে গনআবেদন বানিয়ে সবার কাছ থেকে স্বাক্ষর রাখতে শুরু করে।

ঘটনাটি মহিলা শ্রমিকরা প্রথমে বুঝতে না পেরে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়ে যায়। কিছু ক্ষনের মধ্যেই ঘটনাটি সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ হয়ে ফ্যাক্টরীতে বিক্ষোভ শুরু করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। লিংকিং ফ্লোরে তারা প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সকলের মধ্যে দেখা দেয় ছাঁটাই আতংক। পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। করোনা আতংকের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক এ আচরন দেখে তারাও বিস্মিত হয়ে যায়। ফলে লাঠি-পেটা না করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্ঠা করে পুলিশ।

এক পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) রোমেন শর্মা ও ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন। শ্রমিকদের কথা শুনে ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন ওই কর্মকর্তাগন। এ সময় তাদের মধ্যস্থতায় রিজাইন লেটার ও আইডি কার্ড ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার(ভুমি) রোমেন শর্মা শ্রমিকদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,কৌশলে ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ফ্যাক্টরী কতৃপক্ষ। মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন বিষয়টি অমানবিক। এটা তো হতে পারে না। সব কিছুর একটা নিয়ম নীতি আছে। বিনা নোটিশে কাউকে চাকুরীচ্যুত করা যাবে না। তিনি বলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছেন রিজাইন লেটার ও আইডি কার্ড ফেরত দিবেন।

এ দিকে করোনা আতংক যখন সারা বিশ্বকে ঝাঁকুনী দিয়ে যাচ্ছে তখন পেটের তাগিদে নিজের কথা চিন্তা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাক্টরী’র চাকা সচল রাখছে শ্রমিকরা। সরকার যখন সব কিছু মানবিক দিয়ে দেখার আহ্বান ও নির্দেশনা দিয়েছেন সেই সময়ে কোন পুর্ব নোটিশ ও সম্পুর্ন বেতন পরিশোধ ছাড়াই শ্রমিকদের সঙ্গে এ কেমন এ আচরন।

এ ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠতে পুরো জাতি যখন তটস্ত তখন মিল কর্তৃপক্ষের এহেন শ্রম আইন বিরোধী কার্যক্রম কে সঠিক মনিটরিং করা জরুরী। যখন দাবী উঠার কথা করোনা’র কারনে কারখানা বন্ধ রাখলেও অসহায় শ্রমিকদের বেতন যেন বন্ধ না থাকে সেখানে উল্টো আচরনে হতবাক সবাই। ’ওরাই মানুষ ওরাই দেবতা গাহি তাহাদের গান’ জাতীয় কবির এ বানী এখানে নিরবে নিভৃতেই কাঁদে।

Hits: 238


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ