আমেরিকান ভিসা প্রতারণার ফাঁদে ৩২ লাখ টাকা আত্নসাত , মর্জিনা আফসার ফেনীতে গ্রেফতার

Pub: Saturday, November 21, 2020 8:48 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই করোনাকালীন সময়েও থেমে নেই ভিসা প্রতারকদের কাজ। এর সর্বশেষ শিকার ফেনী জেলার আবুল হাশেম। তিনি বাদী হয়ে ফেনী থানায় অক্টোবরের ৮ তারিখে একটি মামলা ( নাম্বারঃ ১৯/৫৮১) দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, প্রতারক আফসার উদ্দিনের মাধ্যমে এর সূচনা। ঢাকা সাভারের মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা আফসার উদ্দিন বর্তমানে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রংসে অবস্থান করছে। বাদী আবুল হাশেমের বড় ভাই সুজন এবং সুজনের রুমমেট মোঃ হোসেন নিউইয়র্কে আফসারের এক সময়ের প্রতিবেশী ছিল। এই সুবাধে বাদীর সাথে আফসার উদ্দীনের পরিচয়। এর সূত্র ধরে এপ্রিলের দিকে আফসার উদ্দিন বাদীকে আমেরিকায় বৈধ ভিসায় নিয়ে আসার কথা বলে। করোনাকালীন সময় এটা কিভাবে সম্ভব এর প্রশ্নে আফসার বলে তার স্ত্রী মর্জিনা আফসারের এক চাচাতো ভাই আছে। সেই চাচাতো ভাই জাহিন চৌধুরী ঢাকা এয়ারপোটে সিভিল এভিয়েশনের অডিট অফিসার। সে নাকি সরকারি সফরে আমেরিকায় আসবে এবং এই সুযোগে তার সাথে কেউ আসতে চাইলে নিয়ে আসতে পারবে। জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকা দিলেই তারা পৌঁছে যাবে স্বপ্নের দেশে। কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা।

আফসার উদ্দিনের মিথ্যা কথায় বাদী আবুল হাশেম সাথে আরো তিনজন আবদুল মোনায়েম, মোহাম্মাদ ফখরুল এবং শারমিন রাজি হয়ে যায়। আফসার উদ্দিন ঢাকা সাভারের মজিদপুর গ্রামে অবস্থানরত স্ত্রী মর্জিনা আফসারের একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আদায় শুরু করে দেয়। সেইসাথে তাদের সবার পাসপোর্ট এস এ পরিবহনের মাধ্যমে মর্জিনা নিজের কাছে নিয়ে নেয়। এপ্রিলের ২৩ তারিখ প্রথম মর্জিনার একাউন্টে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এই প্রতারণার যাত্রা শুরু হয়। এরপর মে মাসের ৩, ৪, ৫ এবং ১২ তারিখে পর্যায়ক্রমে ৩, ২, ২.৫, ৩.৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সেইসাথে তাদের দেয়া আরেকটা ব্যবসায়িক একাউন্টে মে মাসের ১৩ তারিখ ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়।

কথা ছিল রোজার ঈদের আগে চার্টার্ড ফ্লাইটে করে আমেরিকায় সবাইকে আনা হবে। এরপর হঠাৎ করোনার কথা বলে সবাইকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এদিকে বাদীর ভাই সুজন এবং তার রুমমেটের মাধ্যমে আমেরিকায় আফসার উদ্দিনের নিকট থেকে খবর নিতে গেলে তাদেরকে মিথ্যে আশ্বাস দেয়া হয়। এইতো সামনেই ভিসা ফ্লাইট সব হবে বলে তাদেরকে বুঝাতে থাকে আফসার উদ্দিন।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগস্ট মাসে মর্জিনা আফসারের চাচাতো ভাই জাহিন চৌধুরী তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আরো টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এর আগে আগে সবাইকে করোনা টেস্ট করিয়া নেগাটিভ রেজাল্ট নিয়ে আফসারের মাধ্যমে জাহিনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এগুলো সব ছিল শুধুমাত্র লোক দেখানো কাজ। পরে আগস্টের ২৩ তারিখ জাহিন চৌধুরীর একাউন্টে ৮ লাখ টাকা জমা করা হয়। ইতিমধ্যে আফসার উদ্দিন এবং তার স্ত্রী মর্জিনা আফসার তাদেরকে জানায় যে জাহিন চৌধুরীকে তারা চিনে না। এবং তাদেরকে বলে এই লেনদেনের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।

জাহিন চৌধুরী বাদীদেরকে ঢাকা এনে আমেরিকান এমব্যাসিতে ইন্টারভিউ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলে। পরে সবাই ঢাকা ফার্মগেট এক হোটেলে কয়েকদিন অবস্থান করলেও কোন ভিসার অগ্রগতি না হওয়ায় সবাই বুঝতে পারে তারা প্রতারণার শিকার। এর মধ্যে জাহিন চৌধুরী সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আর আফসার উদ্দিন এবং মর্জিনা আফসারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা সব দায়ভার অস্বীকার করে।

অক্টোবরের ৮ তারিখে ফেনী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) বিকাশ চক্রবর্তীকে মামলা তদন্ত করতে দেয়া হয়। এর মধ্যে আসামী মর্জিনা আফসার নভেম্বরের ১০ তারিখে গোপনে ঢাকা সাভার থেকে ফেনী গিয়ে বাদী পক্ষকে না জানিয়ে অগ্রিম জামিনের আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত অপরাধের গভীরতা দেখে আসামীকে জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নভেম্বরের ১৭ তারিখ বাদী পক্ষের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামীকে জেলগেটে জেরা করার অনুমতি প্রদান করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে জানা যায় পুলিশ মামলার ১ নাম্বার আসামী আফসার উদ্দিন এবং ৩ নাম্বার আসামী জাহিন চৌধুরীকে গ্রেফতারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতারণার শাস্তি প্রদান ও আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠাই এই সরকারের লক্ষ্য।১ নাম্বার আসামী আফসার উদ্দীন! নিউইয়র্কে থাকে, ২ নাম্বার আসামী মর্জিনা আফসার! ৩ নাম্বার আসামী জাহিন চৌধুরী, ৪ নাম্বার আসামী জাহিদ চৌধুরী। জাহিদ চৌধুরী হলো জাহিন চৌধুরীর বাপ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 315 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ