মানহীন ৫২ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

Pub: রবিবার, মে ১২, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, মে ১২, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং এসব প্রাণঘাতী ভেজাল পণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এটা বাস্তবায়ন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। আদালত আগামী ২৩ মে এই বিষয়ে পরবর্তি দিন ধার্য করেছেন।

একইসঙ্গে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারসহ বাজারে যেগুলো আছে সেগুলো জব্দ করে ধ্বংস এবং পরবর্তিতে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব ভেজাল পণ্য উৎপাদন বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার ( ১২ মে) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

কনসার্স কনজ্যুমার প্রডাক্ট এর পক্ষে রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সিহাবউদ্দিন খাঁন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। ভেজাল পণ্য রোধে আদালত আগামী ২৩ মে এই বিষয়ে পরবর্তি দিন ধার্য করেছেন।

এসময় আদালত, খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন। সেই সঙ্গে বিএসটিআই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরকে ভেজাল পণ্য রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ নিয়েছেন এবং অতি দ্রুত এই ভেজাল পণ্যগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ নিয়েছেন আদালত। একইসাথে সরকারের প্রথম এজেন্ডা থাকতে হবে ভেজাল খাদ্য রোধ করা। প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। 

একইসাথে ওয়াসাকে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ সুপেয় খাদ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত বলেন, আমাদের কাজ হলো রিটের হেয়ারিং করা. আর রায় দেয়া। আমরাতো আর মাঠে গিয়ে এগুলো জব্দ করতে পারবো না। এটা যাদের কাজ তারা এটা না করা দুঃখজনক।

আদালত আরও বলেন, এদেশে থাকাটা দুস্কর হয়ে পড়েছে। এদেশ থেকে চলে যাওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে। যে দেশে খাবারটাও ভাল পাওয়া যায় না সেদেশে কিভাবে থাকবো? আমাদেরতো দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই যে জীবন বাচাঁতে সেখানে চলে যাবো। আমরা বিদেশের মত চাচ্ছি না কারণ তেমন অর্থনৈতিক বা লজিস্টিক সাপোর্ট আমাদের দেশে নেই তারপরেও একটা নুন্যতম ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বিএসটিআই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর চাইলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল এবং কারখানা বন্ধ করে দিতে পারে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। খাদ্য নিরাপদ অধিদফতর এবং ভোক্তা অধিকার অনেক ক্ষমতাশীল তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে তারা বসে আছে কেন? কিছু করছে না কেন?

এসময় বিএসটিআইয়ের নির্বাহী কর্মকতা আদালতকে বলেন, আমরা এই পণ্য পরীক্ষা করে ভেজাল শনাক্ত হওয়ার পর উৎপাদন বন্ধ রাখতে বলেছি। আমরা দ্রুতই এসব পণ্য বাজার থেকে তুলতে অভিযান চালাবো। 

আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার কোর্ট থেকে আদেশ দেয়ার পরে অভিযান করেন কেন? আগে কি করেন? আপনারা চাইলেই পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন। বিএসটিআই যেটা বাতিল করে সেটা বন্ধে  কেন আপনার পদক্ষেপ নেন না? আপনার বলেন বিএসটিআই থেকে রিপোর্ট না পেলে করবেন না এটা একটা অজুহাত, ফাজলামো, কোর্টে কখনো ফাজলামো করতে আসবেন না। একটা লোক নতুন জয়েন্ট করেছে তাকে কোর্টে উপস্থিত করেছেন সে কিছু জানে এই বিষয়ে এটা কোন ধরনের ফাজলামো এখন যদি পরিচালকে তলব করি তাহলে বলবেন আমাদের কোর্টে ঢেকে নিয়ে অপমান করে। 

আদালত বিএসটিআই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরকে ভেজাল পণ্য রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অতি দ্রুত এই ভেজাল পণ্যগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ নিয়েছেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ