fbpx
 

নুসরাত হত্যা: মাদরাসা কমিটির প্রধানের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

Pub: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ ১:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ ১:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সোনাগাজী মাদরাসা কমিটির চেয়ারম্যান পি.কে এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, নুসরাত হত্যার ঘটনায় মাদরাসাটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পি.কে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে তদন্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, শিক্ষা সচিব, আইজিপি, ডিসি ফেনী, এসপি ফেনি, ওসি সোনাগাজীসহ দৈনিক সমকাল সম্পাদকে রুলের যথার্থ জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নুসরাত হত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। ওই আবেদনে নুসরাতকে রক্ষায় অবহেলাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঘটনা অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, ঘটনার বিচারে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নুসরাতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া মামলাটির যাথযথ তদন্তে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

এছাড়াও রিটে নুসরাত জাহান রাফির হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যা মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার করা, তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং মামলাটি পুলিশকে বাদ দিয়ে র‌্যাবের দ্বারা তদন্ত করতেও রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া, রিটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, নারায়ণগঞ্জের ত্বকি, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু এবং মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অগ্রগতি আদালতেকে জানানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি ও সোনাগাজীর ওসিসহ ৫ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালতে নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ