খালেদা জিয়া জামিন আদেশ নিয়ে যা ঘটলো

Pub: বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯ ৯:২২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯ ৯:২২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পরপরই আদালতে হট্টগোল দেখা দেয়।

তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় মুলতবি করা শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মামলার নথি পড়ে আজও জামিন আবেদন করেন। এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বক্তব্য শুরু করতে বলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মাই লর্ড, এ মামলায় নথি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এখানে সর্বোচ্চ চাঁদাবাজি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে এ ধরনের চাঁদাবাজি করা খুবই অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলায় জামিন দিলে মানুষের মধ্যে ধারণা হবে অন্যায় করলেও সহজে পার পাওয়া যায়। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও জামিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া খালেদা জিয়া অপর মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ মামলায় আপিল শুনানি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ মুহূর্তে জামিন দেয়া ঠিক হবে না।’

৩টায় শুনানির শুরু হওয়ার পর ৩টা ৪৫ মিনিটে জামিন শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত বলেন, ‘আমরা পাঁচ মিনিটের জন্য বিরতিতে যাচ্ছি।’

এরপর বিকেল ৪টায় আদালত এজলাশে বসেন। এ সময় বিএনপির শতাধিক আইনজীবী এবং সরকারপক্ষে অনেক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। সবাই আদেশের জন্য অধীর আগ্রহে এবং উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে থাকেন। আদালত কক্ষে পিনপতন নীরবতা।

এরপর আদালত আদেশ পড়া শুরু করে বলেন, ‌‘এ মামলায় আইনের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। আপিল শুনানির জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। মামলা পর্যালোচনা করে আমরা জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দিলাম।’

আদেশের পরপর বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বিএনপির অর্ধশতাধিক আইনজীবী ‘শেইম শেইম’ (লজ্জা) বলে চিৎকার দিতে থাকেন। ‘এ আদেশ মানি না, শেখ হাসিনার দালাল’ বলে এজলাস কক্ষে চিৎকার করতে থাকেন। এসময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে এজলাস কক্ষে হট্টগোল।

এ সময় কিছু জুনিয়র আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে ঘিরে ধরে বলেন, ‘আপনি আন্দোলনের আদেশ দেন। আমরা আদালতে আন্দোলন করব।’

মাহবুব উদ্দিন খোকন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু সবাই হৈ চৈ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জুনিয়র আইনজীবীদের রোষানলে পড়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এজলাস কক্ষে বসে থাকেন। বিএনপির আইনজীবীরা বিচারকক্ষ ছেড়ে যাওয়ার পর তারা রাষ্ট্রপক্ষ এজলাস ত্যাগ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে বলেন, জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে আদালত দেখেন সাজার পরিমান। এই মামলায় তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। শুধু জরিমানাও হতে পারত। যে আইনে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেখানে সাজা বৃদ্ধির সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। একজন বয়স্ক মহিলা এবং দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। পালিয়ে যাওয়ার অবস্থা তার নেই। আমরা মামলার ম্যারিটে যাচ্ছি না। তাকে জামিন দেয়া হোক। এই আদালতের জামিন দেয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তিনি জামিন পাবেন বলে আসাকরি। 

তিনি আরো বলেন, সরকারও বলছে খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে আদালতে ওপর। আওয়ামী লীগৈর সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে আদালতের ওপর।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন,‘ বিজ্ঞ আদালত, সরকার বলেছে- খালেদা জিয়ার মামলায় তারা কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। জামিন হলে কোনও অসুবিধা নেই। তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেল থাকতে হবে কেন?

এ সময় আদালত বলেন, ‘এসব তো রাস্তার কথা।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, মাই লর্ড, আমরা শর্ট সাবমিশন রাখব। বেগম জিয়া এ মুহূর্তে গুরুতর অসুস্থ। এ মামলায় তাঁকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে এ মামলায় আসামি করে সাজা দেয়া হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ