fbpx
 

বন্দিজীবন ও আইনি লড়াইয়ের পর যেভাবে আসলো মুক্তির সিদ্ধান্ত

Pub: মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় (০৬) মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি সংক্রান্ত সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেদিন তার আবেদন গ্রহণ করবে, সেদিন তিনি মুক্তি পাবেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ব্রেকিংনিউজ বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আমরাও শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা এখনো লিখিত কোনো তথ্য পায়নি।’

কারাবন্দির পর থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তার পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। আজ (২৪ মার্চ) খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার ছোট বোন সেলিমা ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান সেলিমা ইসলাম।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন, মিছিল-মিটিং ও বিক্ষোভ করেছেন। এমনকি তারা খালেদা জিয়াকে দণ্ডবিধির ৪০১ ধারায় মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত আসার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আইনজীবী ফজলুর রহমান সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া উচিত ছিল। আমরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে দণ্ডবিধির ৪০১ ধারায় মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মলন করেছিলাম। দেরিতে হলেও সরকার সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। আমরা এখনও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনো কাগজপত্র পায়নি। কাগজপত্র হাতে পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি খালেদা জিয়া কারাবন্দির পর থেকে তার মুক্তির দাবিতে বছরজুড়ে নানা সভা সেমিনার ও প্রতিবাদ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও (২৩ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া ‘করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মলন করে তার মুক্তির দাবি করেছিলেন।  

খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত আসায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে আসছিলাম। আজকে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারন করেছে। এরকম অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করছি। সরকার আমাদের যোক্তিক দাবি আমলে নিয়েছে তাই সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। ওই মামলায় খালেদা জিয়া হাইকোটে আপিল করলে তা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনো আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।  দণ্ড ঘোষণার দিন থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। 

এর মাঝেই ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।  একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

এরপর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। পরে গতবছরের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাতবছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দ করার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন। এরপর গত ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। 

পরে ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এ আবেদনের শুনানির পর ১২ ডিসেম্বর সেটি খারিজ হয়ে যায়। তখন আপিল বিভাগ বলেছিলেন খালেদা জিয়া রাজি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে।

এরপর গুরুতর অসুস্থতা বিবেচনার দাবি জানিয়ে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে নতুনভাবে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। সেই জামিন আবেদনও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। তবে দ্রুত তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা দেওয়া এবং মেডিকেল বোর্ড চাইলে নতুন চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তখন জামিন খারিজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মওদুুদ আহমদ জামিন খারিজের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এখনো হাইকোর্টের ওই জামিন খারিজের বিরুদ্ধে আপিল করেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Hits: 72


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ