গাজীপুর প্রতিনিধি
ছবি সংগৃহীত
নতুন বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষই প্রধান শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তনের পরিচালক মিনু আফরোজ।
শুক্রবার (১ মে) গাজীপুরের টঙ্গীতে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিনু আফরোজ বলেন, ‘পহেলা মে শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। ১৮৮৬ সালের শ্রমিক আন্দোলনের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এ দিবস আজও শ্রমিকের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।’
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত
তিনি বলেন, ‘এই দিবস আমাদের শেখায়- শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। আজকের এই আলোচনা সভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’
মিনু আফরোজ বলেন, ‘শ্রমিকের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতাই একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের মূল চালিকাশক্তি। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষই মূল শক্তি। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের অবদান জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন ১৯৬৩ সাল থেকে শিল্পে শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে প্রদত্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক শ্রম সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহান মে দিবসের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রেখে চলেছে।’
‘শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য’, যোগ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক গৌরবময় ইতিহাসের দিন। এই দিনে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। গাজীপুর একটি শিল্পসমৃদ্ধ জেলা। এখানে লক্ষাধিক শ্রমিক দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পরিশ্রম ও অবদানেই আমাদের শিল্পখাত এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুসম্পর্কের মাধ্যমেই একটি টেকসই ও উৎপাদনশীল শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
এর আগে, সকালে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন টঙ্গী এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহান মে দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এতে আরও অংশ নেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌ. এম এম মামুন-অর-রশিদ, গাজীপুর জেলা ও মহানগরের শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা-কর্মীসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।












