নির্ধারিত স্থান ফাঁকা, কমেনি যত্রতত্র কোরবানি

Pub: বুধবার, আগস্ট ২২, ২০১৮ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, আগস্ট ২২, ২০১৮ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজধানীতে নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানির আহ্বানে সাড়া মেলেনি। রাস্তায়, অলিগলিতে কোরবানি যত্রতত্র পশু জবাই না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে নির্ধারিত স্থান করে দিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।

বুধবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকেই নির্ধারিত স্থানের বাহিরে নগরবাসীকে নিজের বাসার সামনের রাস্তায়, অলিগলিতে কোরবানি দিতে দেখা গেছে। বাসা থেকে দূরত্বের কারণে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না দিয়ে বাসার সামনেই কোরবানি করেছেন নগরবাসী।

যত্রতত্র, রাস্তার পাশে পশু কোরবানি করায়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনকে প্রচুর বেগ পেতে হয়।বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ১৫১ টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আনুমানিক ২ লক্ষ ৩২ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে, যা গত বছরের তূলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি।

কোরবানির পশু জবাই করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশন এ বছর ৫৪৯টি স্থান নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬০২ টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। কিন্তু সেসব নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার আগ্রহ না থাকায় তেমন একটা ভিড় ছিল না সেসব স্থানে। অথচ রাজধানীর প্রতিটি বাড়ির সামনে,অলি গলি রাস্তায়,বাড়ির গ্যারেজে রাজধানীবাসীকে কোরবনানি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা হায়দার হোসেনও বাসার সামনে রাস্তায় গরু কোরবানি করেছেন। তিনি বলেন, কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে গিয়ে কোরবানির পর অত দূর থেকে মাংস নিয়ে আসা অসুবিধা হয় যে কারনে সবাই বাসার সামনেই কোরবানি করে। আমাদের এই এলাকার কেউই নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে যাইনি।

এদিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার বাসিন্দা আলমাস আলীও নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না করে বাসার সামনের রাস্তাতেই অন্যদের সঙ্গে কোরবানি দিয়েছেন। তিনি বলেন,  শুধু তো নির্ধারিত স্থান ঠিক করলেই তো হবে না, সে টা সব নগরবাসীর আশেপাশে হতে হবে। দূরত্বে যদি এসব স্থানগুলো হয় তাহলে তো আনা নেওয়ার সমস্যা হয়ে যায়। কে এর কষ্ট করে দূরে গিয়ে কোরবানি করবে।

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না করে নিজ বাসার সামনে, অলিগলি,রাস্তায় কোরবানি করায় রক্ত,কোরবানির বর্জ্য রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে আর দুপুরের সামান্য বৃষ্টিতে এগুলো রাস্তায় পানির সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। দ্রুত অপসারন না করা হলে এগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হবে। অথচ নির্ধারিত এসব স্থানে  প্রয়োজনীয় প্যান্ডেলও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে পানি, স্যাভলন, ব্লিচিং পাউডারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। আর এখান থেকে দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন,গত ৩ বছর আমরা ঘোষণা দিয়ে বর্জ্য পরিষ্কারে সফল হয়েছি। এবারও ২৪ ঘন্টার মধ্যে পরিস্কার করবো। কোরবানীর জন্য আমরা স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। যারা বাড়ির আঙ্গিনায় করবেন তারা বর্জ্যগুলো নিজ দায়িত্ব করপোরেশনের কন্টিনারে রেখে যাবেন, পাশাপাশি কোরবানিরর রক্ত ধুয়ে দিবেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এ বছর ৫৪৯টি স্থান নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১৮৩টি স্থানে নগরবাসীকে কোরবানি দেয়ার জন্য প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া কোরবানি করা যাবে এরকম ৩৫৬টি স্থান চিহ্নিত করা আছে কিন্তু সে সব স্থানে কোরবানি করতে নগরবাসী সাড়া না দিয়ে নিজের বাসার সামনেই কোরবানি করেছেন।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ব্যাগ না পাওয়ার অভিযোগ:
কোরবানির বর্জ্য অপসারনের জন্য দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে নগরবাসী তাদের কোরবানির পশুর বর্জ্য সেই পলিব্যাগে করে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবেন। পরবর্তিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা তা নিয়ে যাবে।

যে কারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ২ লাখ ব্যাগ নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে,অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ লাখ ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, আমরা কোন ব্যাগ পায়নি।নিজেরা বাজার থেকে পলি ব্যাগ কিনে সেগুলোতে কোরবানির পশুর বর্জ্য ফেলেছি ডাস্টবিনের সামনে। শুনেছি এসব ব্যাগ বিতরণ করা হবে, কিন্তু আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, প্রায় ২ লাখ ব্যগ আমরা নাগরিকদের দেওয়া হবে। যারা পাবেন না তারা, কাউন্সিলর অফিস কিংবা অঞ্চলিক অফিস থেকে বিনামুল্যে তা সংগ্রহ করবেন। ব্লিছিং পাউডারও বিনামূল্যেই পাবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র সদস্য জামাল মোস্তফা বলেন, বর্জ্য ব্যাগ, ব্লিচিং পাউডারসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহৃত উপকরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যাগ ৪ লাখ, ব্লিচিং পাউডার ৪০ হাজার কেজি, তরল জীবাণুনাশক ১ হাজার লিটার, ফিনাইল ২০০ লিটার।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1101 বার