ঢাকা এখন উৎসবের নগর

Pub: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৩, ২০১৮ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৩, ২০১৮ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঈদের দিনটির বেশিরভাগ সময়ই গেছে কোরবানি আর মাংস কাটাকাটি, ভাগাভাগি নিয়ে। তাই নতুন পোশাকে ঘর থেকে বের হওয়ারও ফুসরত ছিল না অনেকের। তবে আজ তো আর সেই ব্যস্ততা নেই। সকাল থেকেই ঘুরতে বেরুলেই দোষ কি? ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই রাজধানীর পথে প্রান্তরে সব বয়সের মানুষ হাসিখুশি মনে ঘুরতে বের হয়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নানা বাহারি রঙের পোশাক আর বাহারি বাদ্যবাজনায় ঢাকার প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র এখন উৎসবের নগরী হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই ঢাকা শিশুপার্ক, জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ নগরীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমাতে শুরু করে। দুপুরের পর শিশুপার্কে ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানাও বেলা ১০টায় খোলা হয়। শুরু থেকেই দর্শনার্থীমুখর ছিল চিড়িয়াখানা এলাকা। দুপুরের পর চিড়িয়াখানা এলাকা দর্শনার্থীতে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিটি প্রাণির খাঁচার সামনেই ভিড় দেখা গেছে। বাবা-মার হাত ধরে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখছে শিশুরা।

মায়ের সঙ্গে মিরপুর থেকে আসা এই ক্ষুদে বালক বলে, ‘এখানে এসে বাঘ দেখলাম। হরিণ আছে, বক আছে। ঈদের দিন তো তাই বেড়াতে আসছি। খুব মজা করছি।’

ঈদ ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো নগরবাসীর জন্য বিনোদনের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ঈদের নামাজের পর পরই সরগরম হয়ে উঠেছে এসব বিনোদন কেন্দ্র।

প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে আপনি যেতে পারেন ঢাকার বিভিন্ন পার্কে। এক্ষেত্রে এ নির্মল বিনোদনের জন্য আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, সংসদ ভবন-চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেনসহ বিভিন্ন পার্ক উত্তম স্থান হতে পারে। পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এই ঈদে এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সবাই এক পলক ঘুরে আসতে চায়।

রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর এলাকায়ও সকাল গড়ানোর পর থেকেই সব বয়সী মানুষের মিলনমেলা। রঙ-বেরঙের বেলুন হাতে শিশু-কিশোররা ঘুরে বেড়াচ্ছে। শাহবাগ মোড়ে তরুণ-তরুণীদের ভীড়। এছাড়া চন্দ্রিমা উদ্যান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিল, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শ্যামলী শিশুমেলা সবখানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র রমনা পার্কে সারাদিন ধরেই চলছে দর্শনার্থীদের ভীড়। সারি সারি গাছের নিচে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লেকের পাড়ে তাদের সময় কাটাতে দেখা যায়। দুপুরের খরতাপ থেকে বাঁচতে নির্মল ছায়াতলে সবুজ ঘাসের ওপর বসে অনেকেই আড্ডায় মাতেন। শিশু কর্নারে শিশুরা নানা ধরনের খেলায় মেতে ওঠে।

অন্যদিকে ঈদের সময় রাজধানীর বুকে চিরচেনা সেই যানজট নেই, কোলাহল নেই, নেই বাড়তি মানুষের চাপ। ফলে যারা নগরীর বাসিন্দা তাদের অনেকেই এই সময়টাতেই রাজধানী ভ্রমণে বের হয়।

আজ অনেককেই দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে। বরবরের মতোই এবারও ঢাকা এখন পুরোপুরি ফাঁকা। রাস্তায় জ্যাম নেই। গাড়ি চালানো যায় মনে মতো করে। তাই যাদের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার আছে তারাও পরিবার কিংবা প্রিয়জন নিয়ে চক্কর মারতে মারতে গাইছেন- ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে…’।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1113 বার