ঢাকায় নতুন করে বাসের রুট পারমিট দেবে না বিআরটিএ

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে আর কোনো বাসের রুট পারমিট দেবে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে রুট পারমিটের ‘অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা’ দেখা দিলে তা বিবেচনার জন্য বাস রুট র্যাশনালাইজেশন কমিটির কাছে পাঠাতে পারবে সংস্থাটি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ড সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে বাসের রুট আছে ২৮৯টি। এসব রুটে ১৫৯টি কোম্পানি বাস পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসও চলছে এসব রুটে। বিআরটিএর হিসাব মতে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৪৫ হাজার ১০৬টি। এর মধ্যে ২০১০ সালের পর নিবন্ধন পেয়েছে ১৭ হাজার ৬৯৯টি বাস ও ১ হাজার ১৩৪টি মিনিবাস। নিবন্ধিত বাসগুলো ঢাকার বিভিন্ন রুটে চালাতে হলে বিআরটিএ থেকে রুট পারমিট নিতে হয় মালিকদের।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক যুগে ঢাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। ফলে রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়ে তীব্র গণপরিবহন সংকট।

ঢাকা মহানগর এলাকায় বাসের রুট পারমিট বন্ধ করা হলে তা গণপরিবহন সংকটকে আরো বাড়িয়ে দেবে কিনা জানতে চাইলে নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, বাসের রুট পারমিট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের সুবিধার্থে। এতে সাময়িকভাবে যাত্রীদের অসুবিধা হলেও ভবিষ্যতে আধুনিক ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এ সিদ্ধান্ত। বাস রুট র্যাশনালাইজেশন করার জন্য কোম্পানিগুলোর একটা বিন্যাস করা হয়েছে, রুটগুলোও নতুন করে সাজানো হয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে বাসের রুট পারমিট দেয়া হলে পরিকল্পনার সঙ্গে সেটি সাংঘর্ষিক হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

ড. এসএম সালেহ উদ্দিন কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন। কবে নাগাদ ঢাকায় এ ব্যবস্থাপনাটি চালু হতে পারে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশির ভাগ কাজ আমরা গুছিয়ে এনেছি। আশা করছি, আগামী বছরেই পূর্ণাঙ্গভাবে ঢাকার বাস ব্যবস্থাপনাটি আমরা বদলে ফেলতে পারব।

এদিকে বাসের রুট পারমিট সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্তে বাস মালিকদেরও কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন বর্তমান সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। যেকোনো ভালো উদ্যোগের সঙ্গে আমরা সব সময় আছি।

ডিটিসিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস রুট র্যাশনালাইজেশনের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা/কর্তৃপক্ষ গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রণীত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে ঢাকায় বাস রুটের সংখ্যা ২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এসব রুটে চলাচল করবে ছয়টি কোম্পানির বাস।

এরই মধ্যে কোম্পানিগুলোর বাস রাখার জন্য ডিপো এবং বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনে কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কাঁচপুর, ঝিলমিল, হেমায়েতপুর, গাজীপুর, পূর্বাচলসহ আরো কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্যরা। প্রস্তাবিত ডিপো ও টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

পাশাপাশি টার্মিনাল ডিপোর জন্য স্থান নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত, প্রফিট শেয়ারিং পদ্ধতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাসের মডেল/ডিজাইন নির্ধারণ, পুরনো বাস অপসারণের জন্য ক্ষতিপূরণ, বাস মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং অগ্রাধিকার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছে এ কমিটি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ