fbpx
 

রিকশাচালকদের বিক্ষোভে স্থবির ঢাকা, ভোগান্তি চরমে

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ২:৫০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিন সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন রিকশা চালকরা। লাগাতার এই বিক্ষোভে প্রায় পুরো রাজধানীজুড়ে স্থবির অবস্থা দেখা দিয়েছে। থেমে থেমে কিছু বাস চলাচল করলেও বেশিরভাগ বাসে যাত্রীসংখ্যা খুব কম। সকাল থেকেই উত্তরা, গাজীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলোর সায়েদাবাদ হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। আশেপাশের সড়কগুলোতেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাজধানীর কুড়িল-রামপুরা-মালিবাগ সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন রিকশাচালকরা। এসব এলাকায় বিক্ষোভের জন্য সমস্ত ঢাকা শহরেই জ্যাম ছড়িয়ে পড়ে।

‘সড়ক আছে যেখানে, রিকশা চলবে সেখানে, চলবে চলবে-রিকশা চলবে, আমাদের দাবি মানতে হবে, না মানলে আন্দোলন চলবে’-এরকম নানা স্লোগানে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকেই বিক্ষোভ করছেন রিকশাচালকরা।

একইভাবে খিলগাঁও, রামপুরা বাজার, রামপুরা ব্রিজ, উত্তর বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা এবং কুড়িল এলাকায়ও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এতে এসব সড়কে থাকা যানবাহনগুলো আটকা পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।

বিশ্বরোড থেকে রামপুরা যাওয়ার সড়কে সকাল থেকে দেখা দেয় তীব্র যানজট। যানবাহনের সারি পড়ে আছে সড়কের দুদিকে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না নগরবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে পথ ফুরোচ্ছে না। চরম দুর্ভোগে পড়ে অনেকে উপায়ান্তর না পেয়ে বাস থেকে নেমে যাচ্ছেন।

শফিকুল ইসলাম নামে বেসরকারি কোম্পানির একজন চাকরিজীবী বলেন, ‘বিশ্বরোড থেকে নতুনবাজার আসতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। বাস যেন এগোচ্ছেই না। দুই মিনিট চললে ২০ মিনিট যানজটে আটকে থাকে।’

নাজিয়া সুলতানা নামের অপর এক যাত্রী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাবেন। প্রায় আধা ঘণ্টা বাসে বসে থাকার পর হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দেন তিনি।

যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ থেকে উত্তরার রুটে চলাচলকারী রাইদা বাসের চালক সুমন হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে সড়কে বাস নিয়ে আটকে আছি। যাত্রীরা সবাই নেমে গেছে। রিকশাচালকদের সড়ক অবরোধের কারণে কোনও যানবাহন একচুলও নড়তে পারছে না। গতকালও এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে রিকশা থাকলে আমাদের আসলেই বাস চালাতে সমস্যা হয়, রিকশাগুলো সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করে। মূল সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত ভালো বলে আমরা মনে করি। কিন্তু তারা আন্দোলনে নেমে পুরো সড়ক বন্ধ করে রেখেছে। ফলে সাধারণ মানুষসহ আমাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

মালিবাগ আবুল হোটেল এলাকায় বিক্ষোভকারী শফি উদ্দিন নামে এক রিকশাচালকবলেন, ‘আমরা যারা রিকশা চালাই সবাই গরিব মানুষ। সরকার ঘোষণা দিয়েছে মেইন রোডে রিকশা চালানো যাবে না। কিন্তু এ ঘোষণা মানলে আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে। কারণ শুধু অলিগলিতে থেকে রিকশার ভাড়া পাওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুছ ফকির বলেন, ‘সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা চেষ্টা করছি। এছাড়া রিকশাচালকদের অবরোধ কর্মসূচিতে যেন অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

গত ৩ জুলাই রাজধানীর যানজট নিরসনে পৃথক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গত রবিবার থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হয়।

যে তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর; সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনরত রিকশাচালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি রিকশাচালক ভাইদের চায়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ-আন্দোলন করলে কোনও লাভ হবে না। সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসতে হবে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ