রিকশায় নিষেধাজ্ঞা বহাল

Pub: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ সংবাদদাতা :
রাজধানীর প্রধান তিন সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নিষেধাজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি সংস্থা দু’টি। এতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সড়কে অবাধে চলাচল করছে রিকশা ও ভ্যান। আর রিকশা বন্ধের বিষয়ে দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব এড়াতেই ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ। তারা বলছে, এটা দেখভালের দায়িত্ব তাদের একার না, সিটি করপোরেশনেরও। কিন্তু সিটি করেপোরেশন বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। সরকারের এই দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের রিকশা-ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তের সুফল পাচ্ছে না রাজধানীবাসী। বরং ইতোমধ্যে টানা দুদিন রিকশাচালকদের নৈরাজ্যে চরম ভোগান্তি হয়েছে। এদিকে, বাইলেন ছাড়া রিকশা চলাচলে নিষিদ্ধ সড়কগুলোতে কোন রিকশা চলতে পারবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তাতে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকলো। গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশান নগরভবনে রিকশা মালিক চালক প্রতিনিধি এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
গতকাল সরজমিনে রাজধানীর কুড়িল-বাড্ডা-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-নিউমার্কেট ও শাহবাগ-সায়েন্স ল্যাবরেটরি সড়ক পরিদর্শন করে অবাধেই রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিকল্পনা অনুসারে আগামী দুই বছরে রাজধানীর সব প্রধান সড়ক থেকে পুরোপুরি রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে গত ৩ জুলাই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সভা শেষে রাজধানীর কুড়িল-বাড্ডা-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-নিউ মার্কেট ও শাহবাগ-সায়েন্স ল্যাবরেটরি সড়কে রিকশা ও ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা ৭ জুলাই থেকে কার্যকর হবে জানিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে সড়কে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি।

এ নিষেধাজ্ঞাকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও রিকশা মালিক ও চালকরা তোয়াক্কা না করেই গত দু’দিন সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরির আশ্বাস দিলে আন্দোলন সাময়িক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কিন্তু এর একদিন পরই গতকাল রাজধানীর তিন প্রধান সড়কেই অবাধে রিকশা ও ভ্যান চলতে দেখা গেছে। পুলিশের চোখের সামনেই প্রধান সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচল করলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি সিটি করপোরশেনেরও কোনো ভ্রাম্যমাণ টিমের অভিযানও চোখে পড়েনি।

সকালে সরেজমিনে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড-নতুনবাজার-বাড্ডা-রামপুরা সড়কের শাহজাদপুর, বাড্ডা, রামপুরা, নতুনবাজার ও নদ্দা এলাকায় একটু পর পরই অনেক রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়। এতে যান চলাচল আগের মতোই বিঘ্ন ঘটেছে।

সাধারণ মানুষ বলছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে দু’পক্ষের সমন্বয়হীনতায় ডিটিসিএ-এর একটি ভালো সিদ্ধান্ত ভেস্তে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানান সাধারণ মানুষ। শহীদুল ইসলাম নামে একজন পথচারি বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই চায় না প্রধান সড়কে রিকশা চলুক।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের দায়িত্ব শুধু পুলিশের একার নয়। পুলিশ ও সিটি করপোরেশন সম্মিলিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সিটি করপোরেশন যদি সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ না করে তাহলে তো সেটা বাস্তবায়ন কঠিন।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কেের্পারেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজধানীর প্রধান তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ রিকশা ও গ্যারেজ শনাক্ত করতে আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করে দেব। সিটি করপোরেশন এলাকায় বৈধ রিকশাগুলোকে কিউআর কোড করে দেওয়া হবে। এটার যেন নকল না হতে পারে সে জন্য সর্বোচ্চ উন্নত প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো হবে। চালাকদের ডাটাবেস তৈরি করা হবে। এতে বুঝা যাবে কোন রিকশা কে চালাচ্ছেন। রিকশা চালকদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন রঙের ড্রেসও দেওয়া হবে।

উত্তর সিটির মেয়র আরও বলেন, সিটি করপোরেশনে ২৩০০ কিলোমিটার রাস্তা আছে। এরমধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটার সড়কে রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মূল সড়কেও রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত বাইলেন আছে। যেখানে বাইলেন আছে সেখানে মূল সড়কে রিকশা চলতে পারবে না। আর যেখানে বাইলেন নেই, সেখানে ভেতরের সড়ক দিয়ে রিকশা চলাচল করবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ