fbpx
 

‘সন্ত্রাসী হামলার রহস্য উদঘাটনের কারণে পুলিশকে টার্গেট করা হচ্ছে

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গত কয়েক মাসের চার-পাঁচটি হামলার ঘটনার বাইরে আগের সব সন্ত্রাসী ঘটনার রহস্য উদঘাটিত ও মামলাগুলোর অধিকাংশই চার্জশীট হয়েছে। কিছু কিছু মামলার বিচার হয়েছে ও কিছু বিচারাধীন। সেই কারণে পুলিশের প্রতি হামলাকারীদের একটা প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতারা অধিকাংশই হয় গ্রেফতার হয়েছে, না-হলে পুলিশি অভিযানকালে নিহত হয়েছে অথবা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই সকল ক্ষোভের কারনেই পুলিশেকে তারা টার্গেট করছে বলে মনে করেন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এর প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে পুলিশকে টার্গেট করার পেছনে কারণ হিসেবে এক সাক্ষাৎকালে সংবাদকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশকে টার্গেট করার পেছনে কারণ হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে রাজধানীর দু’টি পুলিশ বক্সের সামনে বোমা রাখা হয়েছিলো সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। সর্বশেষে গত পরশু দিনের সাইন্স ল্যাবের ঘটনা থেকে এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য উপাত্ত বা ইভেস্টিগেশনে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে পুলিশই মূলত টার্গেট। পুলিশকে টার্গেট করার পেছনে নানা ধরনের ইকুয়েশন রয়েছে। 

প্রথমত এর আগের ঘটনাগুলো সন্ত্রাসী হামলা বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। আমরা বিগত দিনে অর্থাৎ যদি নিকট অতীত থেকে শুরু করি তাহলে ২০১৩ সাল ২০১৪, ২০১৫ তে দেখেছি এক ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশেষ করে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এবং বিচারের দাবিতে যখন গণজাগরন মঞ্চের উত্থান হয়। তখনই আমরা দেখি অনেক বছর পরে আবার জঙ্গিবাদের বিস্তার হতে শুরু করে। এই গণজাগরন মঞ্চ প্রথমত শুরু হয়েছিলো অনলাইন এ্যাক্টিভিটিসদের একটা মুভমেন্ট দিয়ে। আমরা তখন দেখলাম ব্লগার হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে এবং ব্লগার, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট মানেই নাস্তিক এইরকম একটা আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেশবাসীকে দাঁড় করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিলো সেই দলই কিন্তু বেনিফিসিয়ারী। গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত একেবারে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপট থেকে আমরা দেখেছি গণজাগরণ মঞ্চের পরেও এই জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত ছিলো এবং একটা পর্যায়ে হোলি আর্টিজানের ঘটনাটি সংঘটিত হয়। হোলি আর্টিজান ঘটনার সময় আমরা দেখিছি যে, শুধুমাত্র জামায়াতুল মুজাহিদিনের মতো একটি অংশ যারা নব্য জেএমবি হিসেবেই পরবর্তীতে অর্থাৎ হোলি আর্টিসানের ঘটনা এবং তার পূর্ববর্তী কিছু ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো।

তিনি আরও বলেন, জেএমবিটা ছিলো মূলত জামায়াত ইসলামের সাবেক নেতাকর্মী, শিবিরের নেতাকর্মী তারাই কিন্তু এই জঙ্গিবাদের সথে এই দলটি তৈরি করেছিলো বলা যায়। পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বা সাবেক যারা তারা এই দলে যোগদান করে জড়িত হয়েছে। এই প্রেক্ষিত থেকে দেখলে আমরা দেখেছি সর্বশেষ ২০১৬ এর পরেও যারা জড়িত হচ্ছে এদের অনলাইন এ্যাকটিভিস্টাই বেশি। কারণ হোলি আর্টিজানের পরে তাদের যে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিলো, তাতে সাবেক শিবির ছাড়াও আরও কিছু তরুণরা যারা মিসগাইডেট হয়ে যোগদান করেছিলো। যারা বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি এদের অনলাইন প্রচারণা। তাদের সাংগঠনিক প্রচারণা ভেঙে যাওয়ার কারণে অনলাইন প্রচারণাটা বেশি হয়েছে। এই অনলাইন প্রচারণার ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ছাত্র শিবিরের ব্যবহৃত কিছু ট্রেডমার্ক ল্যাঙ্গুয়েজ এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় যারা ধরা পরছে তারাও দেখা গেছে শিবিরের সাথে জড়িত ছিলো এবং এমনও কেউ কেউ আছে যে ছাত্র শিবিরের নেতা হিসেবে ১৫-১৬টা মামলা রয়েছে। সে এই দলে যোগদান করেছে অর্থাৎ এই জঙ্গি গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়ে সে জঙ্গি হিসেবেই এখন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরকম কিছু লোককে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি যাদেরকে গ্রেফতার প্রচেষ্টা আছে।

এছাড়াও সিটিটিসি প্রধান বলেন, রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন শুরু হয় তখন তারা যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো, সেটা প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা দেখেছে পুলিশকে। অর্থাৎ তাদের বিশৃঙ্খলা তৈরি থেকে নৈরাজ্য যাতে তৈরি করতে না পারে সেটি প্রতিহত করেছে পুলিশ। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জানমালের ও সরকারি সম্পত্তি নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগ করেছে। এটি তাদের বিপক্ষে গিয়েছে ফলে সেই দিক থেকে পুলিশের প্রতি তাদের একটি ক্ষোভ রয়ে গেছে। তারা মনে করে পরবর্তীকালেও তারা যখনই সংগঠিত হতে চেয়েছে তখনো পুলিশের কারণে তারা সংগঠিত হতে পারেনি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করবে এটাই স্বাভাবিক। এই কাজটাকে তারা মেনে নিতে পারে নাই। এই কারণে এখন আমরা বুঝতে পারছি এই সংগঠনের নামে যারা চলছে, নব্য জেএমবির এদের অধিকাংশই সাবেক ছাত্র শিবির বা এখনো ছাত্র শিবির থেকে পদত্যাগ করে এসেছে এরকমটি নয়। সেই দিক থেকে পুলিশের প্রতি তাদের সাংগঠনিক যে ক্ষোভ ছিল, সেটাকে এখানেও তারা কাজে লাগাচ্ছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ