fbpx
 

উত্তরায় বাসচাপায় কলেজছাত্রের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি হত্যা

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কণ্ঠশিল্পী পারভেজ নিহতের ২ দিন পর ওই পরিবহনের অপর বাসের চাপায় আহত ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে * মামলায় সমঝোতা নিয়ে বিতণ্ডার সময় তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দেয়া হয় -পরিবারের দাবি

ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের বাসচাপায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় নিহত হন সঙ্গীত পরিচালক পারভেজ রব। বাবার মৃত্যুর দু’দিন পর শনিবার রাতে উত্তরায়ই একই পরিবহনের অপর একটি বাসের চাপায় তার ছেলে ইয়ামিন আলভীর বন্ধু কলেজছাত্র মেহেদী হাসান ছোটন নিহত হন। বাসের চাকায় মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গুরুতর আহত আলভী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। শনিবার উত্তরার কামারপাড়ায় নির্মম এ ঘটনা বা দুর্ঘটনার গাড়িচালক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গুরুতর আহত আলভীর পরিবার বলছে, আলভীর বাবা পারভেজ রব নিহতের ঘটনায় শনিবার তারা তুরাগ থানায় মামলা করেন। মামলার বিষয়ে সমঝোতা করতে ভিক্টর পরিবহনের কয়েকজন তাদের সঙ্গে কথা বলতে বাসার কাছে কামারপাড়ায় আসেন। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এমন সময় দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে আলভী ও তার বন্ধু মেহেদীর ওপর বাস তুলে দেয়। দু’জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উত্তরার একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মেহেদীকে মৃত ঘোষণা করেন। আলভীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সকালে তাকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে বাসচালক রফিকুল ইসলাম পুলিশের কাছে দাবি করেছে, পারভেজ রবের ছেলে ইয়ামিন আলভী তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রাতে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসকে ধাওয়া করে। চালক বাসটি নিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করলে বাসের নিচে চাপা পড়েন দু’জন।

পারভেজ রবের বন্ধু আলী আশরাফ যুগান্তরকে বলেন, পারভেজ রবের মৃত্যুর ঘটনায় ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধর করে। তখন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর তুলে দেয়। এতে পারভেজের ছেলে আহত হন ও তার বন্ধু মারা যান। তিনি আরও জানান, আলভীর অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে নিহত মেহেদী হাসানের স্বজনরাও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। মেহেদীর বন্ধু কাউছার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মেহেদীসহ কয়েকজন উত্তরা যাওয়ার জন্য বাসে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় তারা বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় সড়ক দুর্ঘটনার মামলা হয়েছে। সেখানে হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মেহেদীর পরিবারে শোকের মাতম : রোববার বিকালে দুরাগের ধউর এলাকায় মেহেদীর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মেহেদীর লাশ রাখা। বাবা ইউসুফ আলী বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মেহেদীর মা পারভীন আক্তার এক পলকে তাকিয়ে আছেন। তিনি যেন কাঁদতে ভুলে গেছেন। কিছুক্ষণ পর যখন ছেলের লাশ দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তিনি হঠাৎ করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছেলের লাশ জড়িয়ে ধরে তিনি বলছিলেন, ওকে তোমরা নিয়ে যেও না। তখন স্বজনরা তাকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। মেহেদীর বাবা ইউসুফ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল? কত স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে। এভাবে তার মৃত্যু হবে ভাবতে পারছি না।

মেহেদী এ বছর উত্তরার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তার বাবা ইউসুফ আলী একজন ব্যবসায়ী। মা গৃহিণী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে মেজ। তার বড় ভাই পারভেজ হাসান অনার্স, ছোট বোন ইরা মনি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ