fbpx
 

করোনা আতঙ্কে ঢাকা হচ্ছে ফাঁকা!

Pub: বুধবার, মার্চ ১৮, ২০২০ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মরণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করছেন। অনেকে নিজে ঢাকায় থেকে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন। কেউ বা স্বপরিবারের গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করছেন। রাজধানীর ট্রানজিট খ্যাত সদর ঘাট, কমলাপুর রেল স্টেশন, গাবতলী ও মখালীর বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে একজন মারা গেছেন। কোয়ারেন্টাইনে আছেন চিকিৎসক, জেলা প্রশাসক, অভিনেতাসহ বিদেশফেরত অনেক মানুষ।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, আরো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বলা হচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। গত দুই দিনে রেলওয়ে স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে বহু মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। এই সুযোগে বাসগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

গাবতলী বাস কাউন্টারের হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার নবীন উদ্দিন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের সব রুটেই যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। শুধু হানিফ বাসের নয় সব বাস কাউন্টারেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। আজ এবং আগামীকালের সকল টিকিট আগেই বুক হয়ে গেছে। এমনকি শুক্রবারের টিকিটও নেই বললেই চলে।

ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে এক টাকাও ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না।

শ্যামলী বাস কাউন্টারের টিকিট ম্যানেজার দেবাশীষ রায় ব্রেকিংনিউজকে বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে সব রুটের বাসেই যাত্রী পূর্ণ করে গন্তব্য ছেড়ে যাচ্ছে। আগামী তিন চারদিনের কোনও টিকিট আমাদের হাতে নেই।

কমলাপুর রেলও স্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সদরঘাটে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীর ভিড় দেখা গেছে অনেক।

ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যাল‌য়ের ছাত্র ম‌শিউর রহমান মাসুম তি‌নিও বা‌ড়ি যা‌চ্ছেন তার কা‌ছে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, ভয়ানক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাগতেছে। বাসে সিট সংকট, মানুষের ঘরমুখিতা সবকিছুতেই একটা আতঙ্ক। যারা যাচ্ছেন এর মধ্যে কতজনই যে কোয়ারেন্টাইন করবে তা নিয়েও ভয় লাগছে।

ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী নূরে আঞ্জুম বলেন, করোনা আতঙ্কের মধ্যে বাড়ি যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্যাম্পাস ফিরবো। 
একই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া গণিত বিভাগের রেদোয়ান আহমেদ বলেন, রাজধানীতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়া পর আতঙ্কে আছি। ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি যাচ্ছি। পরবর্তী অবস্থা বিবেচনা করে ঢাকায় আসা যাবে।  

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাস্তা-ঘাট অন্য দিনের তুলনায় বেশ ফাঁকা। পূর্ন কর্মদিবস শর্তেও রাস্তায় তেমন যানজট পাওয়া যায়নি। গণপরিবহনে অন্য সময়ের চেয়ে ফাঁকা চলাচল করতে দেখা গেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজারে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে দেখা যায়, গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। যেসব বাস যাতায়াত করছে, সে সবের অধিকাংশেই তেমন যাত্রী নেই। কিছু বাসে অর্ধেকেরও কম যাত্রী। দু-একটি বাসে যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।

ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে রাস্তাঘাট এবং বাজারে তুলনামূলকভাবে জনসমাগম কম দেখা যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। 

গণপরিবহন বন্ধ হবে কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আপাতত বন্ধের কোনও নোটিশ আমরা পায়নি। এ কারণে গণপরিবহন যেভাবে চলছে ঠিক সেভাবেই চলবে। তবে সরকার থেকে যদি কোনও নির্দেশনা পায় তখন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Hits: 47


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ