এভাবে চললে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কবে?

Pub: Monday, July 20, 2020 8:33 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ সময় পার হয়েছে কিনা এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিতর্ক আছে করোনা নিয়ন্ত্রণে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও। দিন যতই যাচ্ছে করোনার বিস্তৃতি বাড়ছে। মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বাড়ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি অফিস, যানবাহনে বাড়ছে মানুষের ভিড়। চলমান পরিস্থিতিতে কতদিনে নিয়ন্ত্রণে আসবে করোনা। এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ সচেতন না হলে পরিস্থিতি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। করোনা নিয়েই বসবাস করতে হবে।

দ্রুতই করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে মানুষকে আরো সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকেও আরো কার্যকর পন্থা বের করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, পরিস্থিতি এখন যেভাবে চলছে তা চলতে থাকলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। ব্যক্তি সচেতনতা তৈরি না হলে করোনা কখনোই নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তিনি বলেন, মনে হয় করোনার পিক আওয়ার জুন মাসে চলে গেছে। এখন গড়ে শতকরা আক্রান্ত খুব যে বাড়ছে তা নয়। মানুষ যদি একটু সচেতন হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে জুনের মধ্যে কমবে বলে ধারণা ছিল। জনগণ তো মানছে না। রাস্তাঘাটে দেখলে মনে হয় মানুষ করোনাকে ভয় পায় না। অনেকটা শৈথিল্য প্রদর্শন করছেন। উদাসীন। গা-ছাড়া ভাব। এখন জনগণ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে। সচেতন না হয় তাহলে এই সংক্রমণ কমতে আরো দেরি হবে। তিনি বলেন, সংক্রমণের হার কিছুটা কমতির দিকে। মৃত্যুর হারও কম। এবং হাসপাতালে রোগী এখন তুলনামূলক কম যাচ্ছে। আগে হাসপাতালে সিট পেতো না, এখন খালি থাকে। মনে হয় সে ঝুঁকি অনেকটা কমে এসেছে আমাদের দেশে। স্বাস্থ্যবিধি জোর করে মানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তারা যেন মাস্ক পরে। যতদূর সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে চলে। হাত ধোয়া। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে যদি একটু সচেতন হয় আশা করি জুলাই মাসের মধ্যে এটা কমবে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে যে দৈনন্দিন কাজ সেগুলো কিন্তু চলছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্যানিং করা, রোগীদের শনাক্ত করা, ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। ঢাকা শহরে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন অতটা ভালোভাবে না হলেও প্রত্যেকটি জেলার সিভিল সার্জন খুব আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করছে। আমাদের মহানগরীতে সমস্যা হচ্ছে। তবে নেতৃত্বদানকারীর জায়গাটিতে আমরা একটি স্থবির অবস্থা দেখছি। রুটিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে। কিন্তু মহামারির সময় সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে। নানা অভিযোগের কারণে সেখানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ থাকবে। কিন্ত অভিযোগগুলোকে দ্রুত সমাধান করতে হবে।
মহামারির সময় আমাদের এক মুহূর্ত সময় ব্যয় করার অবকাশ নেই। ইতিমধ্যে আমি এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে বা দায়িত্বে যারা আছেন তারা একেবারেই এ বিষয়ে গুরুত্বটা যদি না বুঝেন। বিভিন্ন রকমের অভিযোগে তাদের মনোবল ভেঙে গিয়ে থাকে সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, এখানে নেতৃত্বের গা-ছাড়া ভাবের কারণে মানুষের মধ্যে একটি হতাশার ভাব এসেছে। ফলে এটা কিন্তু খুবই বিপজ্জনক। কারণ ভাইরাস তো আর হাত গুটিয়ে বসে নেই। ভাইরাস তো হতাশ না। মানুষ পেলেই সংক্রমিত করছে। এবং যতবেশি মানুষ সংক্রমিত হবে ততবেশি ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়বে। যেসকল দেশের কর্তৃপক্ষ গাফিলতি দেখিয়েছে তাদের মাশুল দিতে হচ্ছে। কাজেই আমাদের এখানে মাঝারি নেতৃত্ব চলছে এটা কিন্তু খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক দেশের তুলনায় ভালো আছে। হাসপাতালগুলোতে এখন করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক কম। আগে যেটা অতিরিক্ত ছিল। প্রায় অর্ধেক সিট খালি থাকে। এর অর্থ হলো সংক্রমণের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। সামাজিক দূরত্ব, ব্যক্তিগত সুরক্ষা যেগুলো আমাদের দেশের মানুষ ওভাবে মানছে না। এতে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ