আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১০ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড

Pub: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যোককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান এ রায় প্রদান করেছেন। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিএনপি এ রায় প্রত্যাখান করে অভিযোগ করে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্য খালেদা জিয়াকে আদালত কারাদন্ড দিয়েছে। রায়ের প্রতিবাদে দলটি দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে বরিশালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অন্যায়ের শাস্তি পেয়েছেন খালেদা জিয়া। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে এজহার দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর মামলা চলার পর গত বৃহস্পতিবার রায় দেয়া হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে তার দল বিএনপি এবং এর সমর্থকরা প্রতিবাদ করবে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে তার আভাস আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। এতে বিগত কয়েক দিনে জনমনে দারুণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি ব্যবস্থা, গণহারে গ্রেফতার এবং ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার ঘোষণায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বস্তির বিষয়, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ হয়নি। রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচিতে না গিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মতো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায়, সংবাদ সম্মেলনে এবং সর্বশেষ আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় দলের মহাসচিবকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন ও নেতা-কর্মীদের ধৈর্য্য ধারণ করার জন্য নির্দেশ দেন। শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনে খালেদা জিয়ার এ নির্দেশনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পরিপক্ক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করছেন, সাজা নিয়ে আইনি লড়াই এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করাই উত্তম ও যুক্তিযুক্ত। এ নিয়ে সহিংস পন্থা অবলম্বন করে শক্তি ক্ষয় করা উচিত নয়। বরং ধৈর্য্য সহকারে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মোকাবেলা করতে হবে। তবে খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে আপাতত বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত ও সংঘর্ষের আশঙ্কা না থাকলেও যতই দিন যাবে তা রাজনৈতিক সংকটকে ঘনীভূত করবে বলে পর্যবেক্ষক মহল শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের যখন আর প্রায় দশ মাস বাকি, তখন এ নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সংঘাত-সংঘর্ষ যে হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণের অপরিহার্যতার কথা ইতোমধ্যে দেশী-বিদেশী সব মহল থেকে বলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনেকে তাকে ছাড়া আগামী নির্বাচনে না যাওয়ার মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের বিষয়টি অনেকটা দোলাচালের মধ্যে রয়েছে। যদিও জেলে যাওয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়ভাবে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবেন না। নেতা-কর্মীদের আশ্বস্থ করে বলেছেন, যেখানেই থাকেন তিনি সবসময় দল ও দেশের সাথে আছেন। দলের নেতা-কর্মীদের উচিত হবে, তার এ কথা উপলব্ধি করে আগামী দিনের পথ চলা। তবে নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ করা না করার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে আদালত কর্তৃক তার জামিন পাওয়া এবং মামলার চূড়ান্ত ফয়সালার ওপর। এ নিয়ে যে অনেক আইনি তর্ক-বিতর্ক হবে, তাতে সন্দেহ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না, দলের চেয়ারপার্সনের শাস্তি হওয়ায় বিএনপির জন্য এক সংকটকালের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে দলের ঐক্য অটুট রাখা দলটির নেতা-কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলটির নীতি-নির্ধারকরা কী পদক্ষেপ নেবে, তা তাদেরই স্থির করতে হবে। কোনো ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সঠিক হবে না। নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক দলটি কর্মসূচি পালন করবে, এটাই কাম্য। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলকেও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহায়তা করতে হবে। তার পরিবর্তে দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা হলে পরিস্থিতি যে সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা অনুমাণ করা কষ্টসাধ্য নয়। এতে দেশ পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সরকারকেই বেকায়দায় পড়তে হবে।
দুর্নীতির দায়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এ কথা যেমন সত্য, তেমনি ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের বেশুমার লুটপাট ও হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, এসবের সাথে যারা জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেউ শাস্তি পাবে, কেউ এন্তার দুর্নীতি করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে, তা যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ কাজটি যদি সরকার নির্মোহ ও যথাযথভাবে করতে না পারে, তবে বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি তার দলের দাবী মোতাবেক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হিসেবে জনমানসে পরিগণিত হবে। আমরা আশা করব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে দুই বৃহত্তম দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দায়িত্বশীল আচরণ এবং ভূমিকা পালন করবে।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1099 বার

 
 
 
 
ফেব্রুয়ারি ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জানুয়ারি   মার্চ »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮  
 
 
 
 
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com