আজকে

  • ৭ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে আগস্ট, ২০১৮ ইং
  • ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

বেগম জিয়ার সাথে গণতন্ত্রও মুক্ত হবে

Pub: বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারের লড়াইয়ে অবতীর্ণ আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী কেন? তার অপরাধ কী? মাইনাস টু ফর্মুলার নায়ক মইন-ফখরুদ্দীন এখন ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। তাদের সৃষ্ট মামলার অস্তিত্ব তো বহু আগেই বিলীন হওয়ার কথা; যেমনিভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বিলীন হয়েছে। একই দেশে পক্ষপাতমূলক দুই প্রকারের আইন বিদ্যমান থাকে কিভাবে? তাহলে ক্ষমতাসীনেরা জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য। কারণ এ অবস্থায় দেশে আইনের শাসন থাকে না। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। স্বৈরাচারী আইয়ুবের গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন জনগণ দেখতে চায়নি বলে তার বিরুদ্ধে ’৬৯-এ গণ-অভ্যুত্থান। জেনারেল এরশাদের উন্নয়নের কল্পরূপ গণ-অভ্যুত্থানে তার পতন ঠেকাতে পারেনি। কিছু লোকের কারসাজিতে গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত।

জনগণের দাবি- আগে হারানো গণতন্ত্র ফিরে আসুক, পরে উন্নয়ন। সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ পরিহার করে ক্ষমতাসীনেরা উল্টো পথে হাঁটছে। মন্ত্রীরা মুখে গণতন্ত্রের নাম জপ করছেন, একই সুরে বলেছেন, ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না, ক্ষমতাসীনেরা সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।’ এসব উক্তির মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পথে বিরাট বাধা সৃষ্টি করছেন। এটা জনগণের আকাক্সক্ষার বিপরীত। সংসদীয় গণতন্ত্রের আবরণে দেশ শাসিত হচ্ছে। এমন দেশে ক্ষমতাসীনেরা স্বৈরাচারী হওয়ার নজির বিশ্বে বিরল। তারা উন্নয়নের কথা বলে, গণতন্ত্রকে নির্বাসন দিয়ে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গণতন্ত্র এবং ভোটের মর্যাদার লড়াই ছিল ’৭১-এর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের মূলমন্ত্র। গণতন্ত্রই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চালিকাশক্তি। ব্যালটের মর্যাদার লড়াইয়ে বুলেটের সম্মুখীন হওয়ার নজির ইতিহাসে বিরল। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি দুনিয়া কাঁপানো অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রের মানসপুত্র সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি কারাগার থেকে স্বাধীন দেশে ফিরে এসে সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। দেশবাসী প্রমাণ করল, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিই জনগণের অবিচল আস্থা। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে তার দল আওয়ামী লীগসহ সব দল বিলুপ্ত করে কমিউনিস্ট কান্ট্রির আদলে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল সরকার গঠন করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন আজীবন প্রেসিডেন্ট। যা হোক, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ১৯৭৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবাধ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং ১৯৭৬ সাল থেকে সব রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে তা হয়নি। প্রেসিডেন্ট জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবসানের পর নিরপেক্ষ সরকারের পরিচালিত সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিতেই সরকার গঠিত হয়েছিল।

তবে অচিরেই বেগম জিয়ার হাত ধরে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তখনকার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সালের বিএনপি সরকার সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ফিরিয়ে দিলেও বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে সংসদ বর্জন করে। সংবিধান অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় বিএনপি সরকারের পতন ঘটে। সব মহলে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জুন মাসে সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু এখন জনগণের ভোটের অধিকার থাকলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন হওয়ার সম্ভাবনা না দেখে সংবিধান স্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে এই বিধান তুলে দিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট গঠিত হলো। জনগণ বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটকে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে ছিল। এমনকি শেখ হাসিনার অধীনেও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন জোটের ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন থেকে ‘নির্বাচন’ বর্জন করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ দিকে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট ১৫৪টি আসনে বিনা ভোটে ‘নির্বাচিত’ হয়ে যান। তাদের ভাবনা ছিল, বাকি আসনগুলোতে নির্বাচন না হলেও ১৫৪টি আসনের মাধ্যমেই সরকার গঠন করা সম্ভব। অন্যান্য আসনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দলের অবস্থানে রেখে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচন দেশ-বিদেশে ও জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ১৪ দলীয় জোট আসলে অনুধাবন করেছে, জনগণকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিলে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার বাইরে রাখা যাবে না। তাই গণতন্ত্রের আন্দোলনকে জঙ্গিদের সাথে একাকার করে দেখিয়ে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দিয়ে জেলে নিক্ষেপ করেছে। ৫ জানুয়ারির আদলে আবার সংসদ নির্বাচনের পথেই ক্ষমতাসীনেরা হাঁটছেন।

১/১১ আমলে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নামে বহু মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা সৃজন করে দুই নেত্রীকে মাইনাস টু ফর্মুলার মাধ্যমে তাদের ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে দেখানোর ষড়যন্ত্র হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৪টি ও তার দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা তুলে নেয়া হলেও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বহাল রেখেছেন ক্ষমতাসীনেরা। তদুপরি, তার বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছরে টেনে টেনে মামলার সংখ্যা ৩৭টি করা হয়েছে। ১/১১-এর সময় দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একটি মামলায় পাঁচ বছর সাজা দিয়ে নির্বাচনের বছর বিএনপি নেত্রীকে জেলে অন্তরীণ করা হয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মামলা দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখার গভীর চক্রান্ত চলছে। কিন্তু দেশের গণমানুষের দাবি, সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন হোক। অন্যথায় গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধ্য করা হবে। বেগম জিয়াকে বন্দী রেখে দেশে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।

সুপ্রিম কোর্টে ফুল বেঞ্চ ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিল এবং সংসদ অকার্যকর’ মর্মে রায় দিয়েছেন। রায়টি বিদ্যমান আছে। মন্ত্রীরা নির্বাচনের প্রচারে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে থাকলেও পালে বাতাস লাগছে না। তার একমাত্র কারণ, খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনেরা এই সরকারের অধীনে এবং সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার কথা বলছে, জনগণ তার বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে ভাটা পড়ার কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই হারানো গণতন্ত্র দেশ ফিরে পেতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। বেগম জিয়া শান্তিকামী গড়ঃযবৎ ড়ভ উবসড়পৎধপু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। সরকার তাকে মুক্ত করে, সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জনগণের আকাক্সক্ষা মোতাবেক ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করলে শেখ হাসিনা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1108 বার

 
 
 
 
মে ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« এপ্রিল   জুন »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com