মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। মানহানির মামলায় জামিন নিতে গেলে এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। খবরে প্রকাশ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির দায়ের করা এই মামলার দিনে সকালেই ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে। আদালত জামিন মঞ্জুর করলেও মাহমুদুর রহমান নিরাপত্তার শংকা আঁচ করে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এজলাশেই অবস্থান গ্রহণ করেন। এভাবে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবস্থানের পর ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে এলে তিনি এজলাশ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মদের হামলার মুখে পড়েন। তাকে যে গাড়িতে ওঠানো হয়, সে গাড়িতে হামলা চালানো হয় ইট-পাটকেল, রড ও লাঠিসোটা দিয়ে। এ সময় বিএনপির আইনজীবীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে যায়। এরপর গাড়ি কিছুটা এগিয়ে গেলে পুনরায় হামলা চালানো হয়। হামলায় গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে যায় এবং ইট ও রডের আঘাতে মাহমুদুর রহমানসহ ড্রাইভার ও অপর আরোহী আহত হন। অত:পর আইনজীবীরা তাকে উদ্ধার করে একজন আইনজীবীর চেম্বারে নিয়ে গিয়ে দরজা বদ্ধ করে দেন। তখন হামলাকারীরা চেম্বারেও হামলা করে। কিছু পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় আদালতের বারান্দায়। উপর্যুপরি হামলায় মাহমুদুর রহমান দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং রক্তে তার জামাকাপড় ভিজে যায়। এর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি যশোরের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া ত্যাগ করেন। যশোর বিমান বন্দরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখান থেকে একটি বিমানে তিনি রাতে ঢাকা ফেরেন।
মাহমুদুর রহমান, বলার অপেক্ষা রাখেনা, দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক ও স্বনামধন্য ব্যক্তি। তিনি কেবল একটি জাতীয় দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকই নন, তিনি দেশের একজন বিশিষ্ট প্রকৌশলী, সফল ব্যবসায়ী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বিএনপিসমর্থিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি। তিনি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে। তার সম্পাদিত দৈনিক আমার দেশের প্রকাশনা কয়েক বছর যাবত সরকারী নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে। তিনি একজন কারা নির্যাতিত সাংবাদিক। একটানা কয়েক বছর কারাগারে থেকে তিনি এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা আছে। তারই একটির জামিন নিতে তিনি সেদিন কুষ্টিয়ার আদলতে গিয়েছিলেন। আদালত প্রাঙ্গনও যে কারো জন্য নিরাপদ নয়, তার ওপর হামলার এই ঘটনা সেটাই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? কোথায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে? আসলে দেশের কোথাও কারো নিরাপত্তা অবশিষ্ট নেই। গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন বিশেষত ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসের তান্বড চলছে দেশজুড়ে। তারা কতটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা তার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ। অত্যন্ত দু:খের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, কুষ্টিয়ার স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন মাহমুদুর রহমানের নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। আদালত প্রাঙ্গনে আগে থেকেই যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা এই উপর্যুপরি হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি, নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আদালতের নির্দেশনা মান্য হয়নি। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনাও পালিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পত্রিকান্তর জানিয়েছেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া আদালতে যাচ্ছেন, তাঁকে যেন নিরাপত্তা দেয়া হয়। এর মধ্যে শুনতে পাই, তাকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তখনই আমি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসানকে জানাই, কুষ্টিয়ায় একটি মানহানি মামলায় মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে গিয়েছিলেন। তাকে যেন নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও এই হামলার ঘটনা ঘটলো।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের কী জবাব দেবে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন? যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আদেশ পালিত হয়না, যেখানে মাহমুদুর রহমানের মতো মানুষ এরূপ হামলার শিকার হন, সেখানে কারই বা নিরাপত্তা থাকতে পারে! একটি প্রতিকারহীন অবস্থা, একটা নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিস্থিতি যেন দেশকে দ্রুত গ্রাস করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যারা তাকে জখম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ দেশের মানুষ তার এ ঘোষণায় কতটা আশ্বস্ত হয়েছে, তারাই জানে। তবে আমরা আশা করি, হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এর সঙ্গে মানবাধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নই জড়িত নয়, দেশের ভাবমর্যাদার প্রশ্নও ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। ছাত্রলীগ-যুবলীগ ইত্যাদি এতটাই বেতোয়াক্কা সন্ত্রাসে মত্ত হয়ে উঠেছে যে, তারা যখন তখন আইন অমান্য করছে, আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, এমন কি আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কিংবা সরকারী কর্মকর্তাদের পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে না। এতে সরকারের দায় বাড়ছে। দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ যে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে শিক্ষাঙ্গনে একটি ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি কেবল দেশের মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের কারণ হয়েছে। এ ব্যাপারে কূটনীতিকদের বক্তব্যের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে দেশের মানমর্যাদা মোটেই বাড়েনি বরং আরো কমেছে। এই প্রতিকারহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, যা দেশের ভাবমর্যাদাকে প্রায় তলানিতে নামিয়ে এনেছে, এখনই রুখে দেয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দায়ী ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই রেহাই না পায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1202 বার