সবাই মিলে সংলাপকে সফল করতে হবে

Pub: বুধবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবী ও ১১ টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড.কামাল হোসেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এসব দাবী মেনে নেয়ার দাবী ছিল চিঠিতে। তবে আওয়ামীলীগ নেতারা বরাবরই সংলাপের প্রয়োজনীয়তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এ কারণেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠি পাঠানোর একদিনের মধ্যেই নি:শর্ত সংলাপে সম্মত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটি সত্যিই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ বয়ে এনেছে। জাতির এক অনিশ্চিত ক্রান্তিকালে এটি শেখ হাসিনার যুগান্তকারী ও রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সংলাপের সাফল্যের কোন নজির না থাকলেও অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের রাজনৈতিক সংলাপ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইল ফলক হয়ে থাকবে। আমরা এমনটাই আশা করি। ড. কামাল হোসেনের চিঠির জবাবে আগামী ১ নভেম্বর গণভবনে সংলাপের দিনক্ষণ ঠিক করে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে এই সংলাপ কয়েকদিন দীর্ঘ হলেও তা অব্যাহত রাখতে হবে। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হলে সেটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় অর্জন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে এবং এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের ক্যারিয়ারে অন্যতম স্মরণীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট একদিনে বা এক বছরে তৈরি হয়নি। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পারস্পরিক মতপার্থক্য নিরসন এবং সহাবস্থানমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সংলাপের কোন বিকল্প নেই। বিশ্বের দেশে দেশে এর অসংখ্য উদাহরণ আছে। দক্ষিন আফ্রিকা, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও তেমন সংঘাত-সহিংসতার কোন উদাহরণ নেই। তবে সংলাপ-সমঝোতার প্রয়াস ব্যর্থ হলে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কাঙ্খিত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে দেশে বড় ধরনের গোলযোগের আশঙ্কা করছেন অনেকে। যাতে বিরোধীপক্ষের হারানোর তেমন কিছু না থাকলেও ক্ষমতাসীনদের ক্ষয়ক্ষতির সীমাপরিসীমা থাকবে না। সংলাপ ব্যর্থ হলে লাগাতার কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আর সংলাপ ছাড়া তফসিল ঘোষণা করা হলে প্রায় একই ধরনের ঘোষণা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তরফ থেকেও এসেছিল। নি:শর্ত সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি একটি উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আপাতত: একটি শান্তির বাতাবরণ তৈরী করেছে। তবে দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অন্থিতিশীলতার আশঙ্কা দূর করতে শুধু সংলাপের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। সংলাপ ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে সব দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ ঠিক করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশের মানুষ দৃষ্টান্তমূলক ও সাহসী সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করে। সবাইকে চমকে দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ডাকে নি:শর্ত সংলাপে সম্মত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সদিচ্ছার প্রাথমিক প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এটা যেন ¯্রফে লোক দেখানো বা আইওয়াশ না হয় এমনটাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা।
গত এক দশকে দেশের রাজনীতিতে যে বৈরিতা ও বিভাজন ঘটেছে, রাতারাতি তা দূর করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা এ ক্ষেত্রে মূল অণুঘটকের ভ‚মিকা পালন করতে পারে। একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র প্রস্তুতে এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভ‚মিকাই সবচেয়ে ফলপ্রসু বলে বিবেচ্য। তিনি সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারেন। তবে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্টসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রয়োজনীয় ছাড় দেয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। সরকারীদল ও বিরোধি জোটের সংলাপ- সমঝোতার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তত্বাবধানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভব হলে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতায় কৃতিত্ব এবং ক্ষতির সিংহভাগই ক্ষমতাসীনদের। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবীসহ সম্ভাব্য যে সব বিষয় আলোচ্য বিষয়গুলোর সর্বসম্মত সমাধান হয়তো সম্ভব নয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রকৃতি এবং নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠনের মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ভ‚মিকায় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি, ঐক্যজোটসহ প্রধান রাজনৈতিকদল ও সাধারণ ভোটারদের আস্থার সংকট তৈরী হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনগনের আস্থার সংকট দূর করা। সংলাপের মধ্য দিয়ে এ সব বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার এবং বিরোধি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সম্ভাবনার নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। এমন একটি আশাবাদ জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি প্রত্যাশা পুরণে সাহসী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে সক্ষম হবেন, এটাই প্রত্যাশা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1066 বার