সংলাপে প্রত্যাশা ও অর্জন

Pub: শনিবার, নভেম্বর ৩, ২০১৮ ১:৫১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, নভেম্বর ৩, ২০১৮ ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারি দল ও জোটের বহুল আলোচিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় গণভবনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের প্রতি গোটা জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তার একটি সর্বজনগ্রাহ্য সমাধানসূত্র এই সংলাপ থেকে বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা ছিল সকলের। আলোচনা-সংলাপ নিয়ে নেতিবাচক অবস্থানে থাকা সরকারি মহলের হঠাৎ সংলাপে রাজি হওয়া ছিল বড় একটা চমক। সর্বমহলের প্রত্যাশা সঙ্গতকারণেই এতে বেড়ে যায়। সঙ্কট এতই গভীর ও জটিল যে, সংলাপ-সমোঝোতার মাধ্যমেই কেবল তার সমাধান নির্ণীত হতে পারে। আরো একটি বিষয়ও বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। এ যাবৎ রাজনীতিক সঙ্কট নিরসনে সরকার ও বিরোধী মহলের মধ্যে যতো আলোচনা-সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে শীর্ষ নেতৃ পর্যায়ে অংশগ্রহণ ছিল না। এবারই প্রথম দল ও জোটপ্রধান পর্যায়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশেষভাবে আশাবাদী হওয়ার এটাও একটা কারণ। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরা-খবরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি দল ও জোটের নেতৃবৃন্দ এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সংলাপে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। আলোচনার পরিবেশ ছিল হৃদ্যতাপূর্ণ। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী স্বাগত বক্তব্য দেন। ড. কামাল হোসেনও সূচনা বক্তব্য পেশ করেন। এরপর উভয়পক্ষের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফ্রন্টের সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। মূলত এই দাবিনামাকে ভিত্তি ধরেই আলোচনা হয়। সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা চলে। প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের পর সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপের ফলাফল সম্পর্কে দু’পক্ষের অভিমত থেকে একটি ধারণায় উপনীত হওয়া সম্ভব। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, সংলাপে সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। সংলাপ ফলপ্রসূ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদের দাবি করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘সবার কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী লম্বা বক্তৃতা দিলেন কিন্তু আমরা ওখানে বিশেষ কোনো সমাধান পায়নি।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট নই।’ এই আলোচনায় সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানন। নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন বিষয়ে সরকারি মহলের আগের বক্তব্যই পুনরাবৃত্ত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আগের মতই বলেন, এটি আইনের বিষয়। এও স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। মামলা করেছে তত্তাবধায়ক সরকার। নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে তিনি বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। রাজবন্দির মুক্তির বিষয়ে রাজবন্দি আছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে বলেন, কোন মামলা রাজনৈতিক তার তালিকা দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবাধে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানের বিষয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে ইচ্ছা সভা-সমাবেশ করতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাতে সহযোগিতা দেবে। এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার, বর্তমান সংবিধানের অধীনে কিভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব, ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে তা তুলে ধরেন। সংবিধানসম্মতভাবে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে, সংবিধান সংশোধনের দরকার পড়লে তা নিয়ে আলোচনা করাও সংবিধানসম্মত। কারণ, সংবিধান সংশোধনের বিধান সংবিধানেরই অংশ। ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সংলাপে সরকার যথাযথভাবে আশ্বস্ত করলে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ বিষয়ে সংবিধানসম্মত একাধিক নির্দিষ্ট প্রস্তাব তারা দ্রুততম সময়ে দিতে পারবেন।
সংলাপে অর্জন বলতে সামন্যই। অবাধে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। এ আশ্বাস কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সেটাও দেখার বিষয়। ওদিকে মামলা-গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানাবে ৪ নভেম্বর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানালেও ৮ নভেম্বর পর্যন্ত তার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান। আর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে সংলাপের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা আমরা তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী কোনো আশ্বাস দেননি। তবে তিনি পরে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন। কবে জানাবেন, সংলাপ আবার কবে হবে এনিয়ে তাই অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ওদিকে পত্রিকার একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে পুনরায় সংলাপ ডাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওদিকে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সাত দফা উপস্থাপন করেছি। বাকী মানা না মানা ওনাদের বিষয়। আমাদের আন্দোলন চলবে।’ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক করার যে আশ্বাস দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধীদলগুলোকে এমন একটা জায়গায় আস্থাশীল করতে হবে, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে এগিয়ে আসে। আর সেটা করতে হলে সাত দফাকে উড়িয়ে দিলে চলবে না। অন্যদিক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় বিকল্প আন্দোলনের প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া কি হবে, তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফেরত চায়। রাজনৈতিক বিরোধ-সংঘাতে দেশের ক্ষতি হোক, সেটা তাদের কাম্য নয়। একটা শান্তিপূর্ণ ও সমঝোতামূলক সমাধান হোক, এটাই প্রত্যাশিত। এজন্য সংলাপের বিকল্প নেই। অতএব, সংলাপ ভেঙে দিয়ে যার যার পথে চলা শুভবৃদ্ধি ও সদ্ববিবেচনার পরিচায়ক হবে না। সময় খুব কম। এই সময়ের মধ্যে সমাধানসূত্র বের করতে হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1070 বার