fbpx
 

গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ: সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কাম্য নয়

Pub: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। অতীতেও দেখা গেছে, যে কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের সময় সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন ও নিরীহ যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়, যা মোটেই কাম্য নয়।

আমরা মনে করি, ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের মাধ্যম হিসেবে আলাপ-আলোচনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। সরকার অবশ্য শ্রমিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে প্রায় দেড় মাস আগে ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নবনিযুক্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সদ্য ঘোষিত বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি থাকলেও তা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

তবে অসহিষ্ণু হলে চলবে না; অবরোধ-ভাংচুর এবং জ্বালাও-পোড়াওসহ অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দাবি আদায়ের মাধ্যম হতে পারে না। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বস্তুত দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অংশীজন হিসেবে শ্রমিকরা কখনই ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, মালিক ও শ্রমিক একই বাইসাইকেলের দুটো চাকার মতো। একটি না থাকলে আরেকটি চলবে না। কাজেই উভয়ের স্বার্থরক্ষায় উভয়পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে।

গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়ে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। দেশের মোট রফতানি আয়ের অন্যূন ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ খাতে কর্মরত শ্রমিকরা অনেক সময়ই কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার শিকার হয়ে দুঃসহ অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়। দেখা গেছে কোনো কোনো কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন ও বোনাস দিতে গড়িমসি করে। এমনটি কাম্য নয়।

দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটলে তা তৈরি পোশাক শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা বলাই বাহুল্য। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রেতামহলে যে কোনো ধরনের নেতিবাচক বার্তা এ শিল্পের ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। এমনিতেই আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্রের শেষ নেই।

কাজেই আমাদের এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা তা থেকে ফায়দা লুটতে পারে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে দেশের পোশাক খাতের তিন সংগঠন- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএসহ সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর একযোগে কাজ করা উচিত।

আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। কোনো দুর্ঘটনা বা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের যেমন অনেক কিছুুু করণীয় রয়েছে, তেমনি শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বও কম নয়। পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, অধিকার ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থান যদি মালিকপক্ষ তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং শ্রমিকরা যদি তাদের দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো সংকটই দেশের প্রধান এ শিল্প খাতকে স্পর্শ করতে পারবে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ