ইভিএম গুটিকয়েকের হাতে সকল ভোটার জিম্মি

Pub: বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৯:৩০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যেকোনো দেশের উন্নয়নের পথে সব থেকে বড় বাধা রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ কথা জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতিকে বাতিল করে এবং অত্যন্ত অনির্ভরশীল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার চালু করে আমাদের দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রায় নিশ্চিতভাবে অনিশ্চিত করে দেশকে এক অনিবার্য সঙ্ঘাত ও অসি’তিশীলতার মধ্যে নিমজ্জিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ বুশের দ্বিতীয় নির্বাচনকালে ফ্লোরিডা রাজ্যে এই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনায় কারচুপি করায় (বুশের আপন সহোদর তখন ফ্লোরিডার গভর্নর পদে আসীন) সারা যুক্তরাষ্ট্রে ওঠে তীব্র নিন্দা যার জন্য বুশের বিজয় হয়েছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জার্মানিতে এই পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য নয় বলে এর ব্যবহার সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত- ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে না। হঠাৎ করে এই পরিত্যজ্য পদ্ধতি আমাদের সরকার কেন ভোট গণনায় ব্যবহার করতে আদা-নুন খেয়ে উঠেপড়ে লেগেছে? লক্ষাধিক ইভিএম ক্রয়ের এই অশুভ উদ্যোগের পেছনে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হতে যাচ্ছেন কি? নাকি এই নতুন চালাকির মাধ্যমে আগামীতে ইচ্ছেমতো ভোট গণনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে? এখন পাঠকদের বোঝাতে চেষ্টা করব ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গণনাকে কিভাবে পাল্টে দেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনে অতি সহজেই ফলাফল পাল্টে ফেলা সম্ভব। কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা প্রমাণিত করেছেন কিভাবে অপরাধীরা ইভিএম ‘হ্যাক’ করে অনায়াসে ভোট চুরি করতে সক্ষম। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যান ডিয়েগো, মিশিগান ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘রিটার্ন ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং’ ব্যবহার করে ইভিএমকে দুর্ব্যবহার করার সক্ষমতা প্রমাণিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের সামনে তারা দেখিয়েছেন কিভাবে একটা ‘ভাইরাস’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইভিএম মেশিনে হ্যাকাররা ভোটের ফলাফল সহজেই ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারে। একটি পত্রিকা [BLITZ] ইতোমধ্যেই তাদের ১২ জানুয়ারির সংখ্যায় প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভারতের কিছু ‘নটোরিয়াস’ হ্যাকারদের সাথে যোগাযোগ করেছে যাতে তাদের নিয়োগ করে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপি করা যায়। এই ভারতীয় হ্যাকারদের তাদের এই কর্ম সম্পাদনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার প্রস্তাবও নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করার পথে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, ইভিএমের একটি ক্ষুদ্র অংশ যার নাম Detectable Memory Module (DMM)। তার মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল সংরক্ষিত থাকে এবং এই অংশটি ইভিএম থেকে খুলে নেয়া যায় এবং এভাবে অতি সহজেই নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেয়া সম্ভব। আয়ারল্যান্ড ২০০৬ সাল থেকে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। মার্চ ২০০৯ সাল থেকে জার্মানি ইভিএম-এর ব্যবহারকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। ফিনল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত ২০০৯ সালে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম-এর ফলাফল ইনভ্যালিড ঘোষণা করেছে। এপ্রিল ২০০৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইভিএম-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর আমাদের সরকার এই অগ্রহণযোগ্য মেশিন ক্রয়ের ও ব্যবহারের জন্য কেন এত উন্মুখ তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

লেখক:ডাঃ আব্দুল আজিজ
প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1096 বার