fbpx
 

নুসরাত তুমি নও, জাতির বিবেক অগ্নিদগ্ধ

Pub: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯ ১১:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯ ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশেই শায়িত হলো অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের বিচার চেয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নামাজের জানাজা। জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।

জানাজাতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। লাশ পৌঁছানোর পরে নুসরাতের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। এদিন শোক স্তব্ধ ছিল নুসরাতের বাড়ির উঠানটি। উপস্থিত মানুষের চোখে-মুখে ছিল শোকের ছায়া।

নুসরাত তুমি নও, জাতির বিবেক এখন অগ্নিদগ্ধ’

নুসরাত, তোমার অগ্নিদগ্ধ শরীর, অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, ব্যান্ডেজে বাঁধা শরীরের মাঝে বেরিয়ে থাকা ফুটফুটে সুন্দর মুখ আর পা-জোড়া, তোমার ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’- এর দৃপ্ত উচ্চারণ- ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’- আবারও এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করলো যে, সমাজের বিবেক এখন অগ্নিদগ্ধ, তুমি নও। তুমি বরং জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছ এই অচল সমাজের অমানবিকতাকে প্রতিবাদ করতে তুমি শান্তির জগতে চলে গেছো।

‘নারী-শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা এখন সড়ক দুর্ঘটনার মতোই কেবল সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টার অভিযোগ করার জন্য তোমার ভাষ্যমতে, মিথ্যা কথা বলে কয়েকজন নারী তোমাকে ছাদে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিলে, তুমি তাতে রাজি না হয়ে ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’ বললে, তোমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তুমি তাদের ‘নারী কন্ঠে’র কথা বলেছো।’

দুঃখ এটাই, কাকের মাঝে ‘নারী কাক’ বা ‘পুরুষ কাক’- এমন লিঙ্গ বিভাজন করি না আমরা, কিন্তু মানুষ বিভাজিত হয়ে যায় নারী ও পুরুষে। একটি কাক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে, মারা গেলে অনেক কাক কোথা থেকে যে এসে জড়ো হয়! উচ্চস্বরে আওয়াজ করে। ওরা কী চিৎকার করে, না কাঁদে, জানি না। কিন্তু কিছু একটা করে। আর আমরা? যখন তোমার ডায়িং ডিক্লারেশনে, কয়েকজন নারী তোমার গায়ে আগুন দিয়েছে বলো, তখন মনে হয় মানুষ কি কাকের মতো হতে পারে না? মানুষ না-ই হোক। কারণ আমরা মানুষতো নই-ই, কাকও নই। তুমি যখন তোমার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে, তখন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা তোমার পক্ষে লড়ে গেলে, তুমি শক্তি পেতে। কিন্তু তা হয়নি। যখন ফায়ার সার্ভিসের লড়াকু সোহেল জীবন বাঁচাতে জীবন দেয়, জসিম নামে মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি চারতলার গ্রিল বেয়ে উঠে আগুন থেকে নারীর জীবন বাঁচায়, তখনই একদল মানুষ আরেক নারীর গায়ে আগুন দেয়। এতো ছোট একটি জীবন কেবল মানুষের ভালো করার জন্যই বড় সংক্ষিপ্ত- সেই জীবনে এতো হিংসা, এতো লোভ, এতো প্রতিহিংসা, এতো অমানবিকতা, এতো পাষণ্ডতা!

নুসরাত, তুমি বলেছো- প্রতিবাদ করে যাবে, তোমার কাজ তুমি করেছো। তোমার কাছ থেকে শিখে এবার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের প্রতিবাদ করার পালা। শেষ থেকে শুরু হোক, নতুন করে পুরানো প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদে তোমার সহযাত্রী হবে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতা ।

বিচারহীনতার কারণেই সমাজে নারী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ না রাখতেই ধর্ষণের পর হত্যা করা হচ্ছে। সাক্ষী সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় যেসব পরিবার ঘটনার শিকার হচ্ছে তারাও অনেকাংশে বিচার চাইছে না। আবার প্রভাবশালীদের টাকার খেলা, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করছে।
অনেক সময় দেখা যায় চার্জশিটই হচ্ছে না। আবার চার্জশিট হলেও আসল অপরাধীরা বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ার জন্য যে সাক্ষ্য-প্রমাণ লাগে তাও পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে যেহেতু সাক্ষীদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই।

ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির একটি কান্নার ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে ওই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় ওসিসহ কয়েকজন তাকে জেরা করেন। পুরোটা সময় নুসরাতকে কান্না করতে দেখা যায়।

ভিডিও করার সময় নুসরাত অঝোরে কাঁদছিলেন এবং তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে গত ৯ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ