গণতন্ত্রের “মা” খালেদা জিয়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন বাস্তবতার চেয়ে কম। কারণ বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে এবং পরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তা নজিরবিহীন। তাছাড়া গত কয়েক দিনের দর্শন,গুম, খুন হত্যার ঘটনা থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো পক্ষ থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে বাস্তবতা তার চেয়েও ভয়াবহ।বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসেনি। ফলে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহীতা ও দায়বদ্ধতা নেই। গণতন্ত্রের প্রতি ও সংবিধানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীসহ কোনো মন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নেই বলেই তারা জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। দেশে ঘটে যাওয়া বিষয় গুলো যদি একজন শপথ নেয়া মন্ত্রী অস্বীকার করেন তাহলে সেটা জনগণের প্রতি তাচ্ছিল্য দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু বাংলাদেশের জনগণের নয় গোটা বিশ্বের দৃষ্টি এখন খালেদা জিয়ার দিকে। কারণ এই মুহূর্তে তিনি জনগণের নেত্রী,গনতন্র রক্ষাকারী। বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ ঠুটো জগন্নাথ। আর সংসদনেতা শেখ হাসিনার বৈধতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ তিনি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছেন। ফলে জনগণের দৃষ্টি তার দিকেও নেই। আর ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের ১৮ কোটি নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন “মাদার অফ ডেমোক্রেসি” বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে আগামী দিনে জনগণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া প্রধান ভূমিকায় আছেন।

১৯৯০ ইংরেজী স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করতে গিয়ে বেগম জিয়া আপোষহীন নেত্রীর উপাদিতে ভূষিত হয়েছিলেন।বার বার এরশাদের পাতানো ফাঁদকে এড়িয়ে জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়ে গণতন্ত্রকে সার্থকতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।একমাত্র বেগম জিয়ার আপোষহীনতার কারণেই ৯০ এর ৬ ডিসেম্বর এরশাদ শাহীর পতন হয় । দেশ ফিরে আসে একটি সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ধারায়।জনগণ ফিরে পিয়েছিলো ভোটের ও স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার ।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু নানা ধরনের কারসাজি, ছলচাতুরী, আদালতের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করে সরকার তাঁর মুক্তি অসম্ভব করে তুলেছে। একটি মামলায় মুক্তি পেলে আরেকটি সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এমনকি মুক্তি ব্যাহত করার জন্য নতুন মামলা ঠুকে দেয়া হচ্ছে। এক বছর ধরে বাংলাদেশের এই মহীয়সী নেত্রী গণতন্ত্রের প্রতীক এর প্রতি যে অপমান, অসম্মান ও অমর্যাদা দেখানো হচ্ছে তা সমকালীন বিশ্বে বিরল। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে সম্মানীয় মানুষ হিসেবে তার যে আইনি সমর্থন, সহযোগিতা ও প্রটোকল পাওয়ার কথা তা সরকার অস্বীকার করছে। নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হয়েছিল নিঃশেষ করার লক্ষ্যে। এখন তিনি পিজি হাসপাতালে আছেন। অথচ তিনি চেয়েছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে। সরকারি থেকে বেসরকারিতে গেলে নাকি আকাশ ভেঙে পড়বে। সুতরাং সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিলে তিলে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারলে নিষ্কণ্টক হয় যাদের সিংহাসন, তাদের কাছে যুক্তি, আইন ও মানবিকতা নিরর্থক।

এদেশের মানুষ জিয়াউররহমান আর বেগম জিয়াকে সত্যিই ভালবাসে। এই ভালবাসা কোন ভয় থেকে নয়, এই ভালবাসা তাদের প্রাণের গভীর থেকে।কারণ একমাত্র বিএনপিই এ দেশের মাটি ও মানুষের নাড়ীর সাথে সম্পর্কিত রাজনীতি ও বাংলাদেশী জাতীয়বাদ ও ইসলামী মুল্য বোধের ঐতিহ্য নিয়ে আধুনিক রাজনীতি করে।

প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণ-আন্দোলনই একমাত্র পথ। নীরব অথচ ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে আন্দোলনে উদ্দীপ্ত করার দায়িত্ব নেতা-নেত্রীদের। আর তা করতে হলে প্রথমত, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দরকার। দ্বিতীয়ত, দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির ইস্পাত কঠিন গন ঐক্য। বিএনপির এই শক্তিকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। ডান-বাম নির্বিশেষে একযোগে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুকে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সাথে একীভূত করতে হবে। চতুর্থত, তাহরির স্কোয়ারের আদলে আকস্মিক গণজমায়েতের আয়োজন করতে হবে। পঞ্চমত, চীনের মাও সে তুংয়ের পরিকল্পনা অনুসারে কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। জনগণ রাগ, দুঃখ ও ক্ষোভে তেতিয়ে আছে।

ডিজিটালের বাহানায় আর নানান কথার যাদু দিয়ে শেখ হাসিনা আর তার সাঙ্গ পাঙ্গরা দেশের সব কিছু যে ভাবে লুটে পুটে খেয়ে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে সেখান থেকে দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে সব চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকেই। আর দেশনেত্রীর মুক্তির পথ একটাই রাজপথে আন্দোলন। এই মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন গণতন্ত্রের “মা” খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবক।

লেখক :ডাঃ আব্দুল আজিজ
প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত