বিএনপি’র জাতীয় সংসদে যোগদান

Pub: বুধবার, মে ১, ২০১৯ ২:২৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ১, ২০১৯ ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অনেক জল্পনার পর অবশেষে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মোট ৫ জন সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণশেষে সংসদে যোগদান করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল পর্যন্ত শপথ গ্রহণ না করলেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলীয় সদস্যদের সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, অবশেষে তিনিও সংসদে যোগ দেবেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে হাজার হাজার ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলাসহ ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনের দিন বিএনপিসহ বিরোধী ও বাম জোটের অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে যে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি তা নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। ব্যাপক ভোটকারচুপি ও ভোটডাকাতির পরও বিএনপি থেকে ৬ জন প্রার্থী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হলেও তারা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় তাদের শপথ ও সংসদে যোগদান ছিল অনেকটাই অনিশ্চিত। বিএনপিসহ এসব রাজনৈতিক দল নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। তারা সেই দাবি থেকে এখনো সরে যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে অনিয়মের দায় স্বীকার করেনি। অতএব নির্বাচন বাতিলের কোনো প্রশ্নও নেই। অন্যদিকে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার রাজনৈতিক সামর্থ্য অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। একদিকে পুলিশি বাধা, খালেদা জিয়ার অন্তরীণ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতাসহ নানাবিধ বাধার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির আন্দোলন ও দাবি দাওয়া সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার-বিবৃতি ও মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেখা যাচ্ছে।
দেশের অন্যতম বৃহত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তার ক্রান্তিকাল পার করছে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিও এক প্রলম্বিত ক্রান্তিকাল পার করছে। একদিকে বিএনপির আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা অন্যদিকে সহাবস্থানমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে সরকারের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক ধরনের অচলাস্থা দেখা দিয়েছে। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, দেশের বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির মতো সরকারের আজ্ঞাবহ বিরোধীদল সংসদের কার্যক্রমকে সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন। জনগণের কথা বলা, গণতন্ত্রের কথা এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার জন্য বিরোধীদলের সদস্যদের সংখ্যা বাহুল্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এহেন বাস্তবতায় বিএনপি’র সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্ত দেশে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। বিএনপির সংসদে যোগদানের নেপথ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ বা গোপন সমঝোতা আছে কি না তা নিয়ে এখন যথেষ্ট জল্পনা চলছে। রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরীখে বিএনপি সংসদে যোগদানকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংসদে যোগদান যাই প্রমাণ করুক, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখাতে হবে। বিশেষ করে, খালেদা জিয়ার জামিন লাভের অধিকার, সুচিকিৎসা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে আরো অনেক কিছু করণীয় আছে।
শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদান না করার প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বে কঠোর অবস্থান ছিল লক্ষ্যনীয়। শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে তারেক জিয়ার নির্দেশের কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের জন্য এমন বাস্তবতা কাক্সিক্ষত নয়। যখন তখন নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে দলের তৃষমূলের নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়ে পড়তে পারেন। তবে সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে কাজে লাগাতে হবে। তারা একদিকে দলের সমন্বয়হীনতা ও শক্তিবৃদ্ধিতে নজর দিতে পারেন, এই সময়ে রাজপথে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার শক্তি-সামর্থ্য না থাকায় তারা গণমানুষের অধিকার এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে সংসদে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অহেতুক গলাবাজি, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত আক্রমণ অথবা অতীতের মতো দিনের পর দিন সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে তারা বেরিয়ে আসবেন, এটাই আমাদের বিশ্বাস। তবে এ ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দলের সংশ্লিষ্টদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহিষ্ণুতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। গুম, খুন, ধর্ষনসহ দেশে এখন সামাজিক অবক্ষয়, নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক খাতে নানামাত্রিক সংকট দেখা যাচ্ছে। এহেন বাস্তবতায় আশা করা যায়, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সরকারের ভুলভ্রান্তিও যেমন জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন, তেমনি জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো জাতীয় ইস্যুতে সরকারের পাশে থেকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবেন। সর্বোপরি বিএনপি সদস্যদের সংসদে যোগদানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন ইতিবাচক ধারায় প্রবাহিত হোক, এটাই সকলের প্রত্যাশা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ