বাংলাদেশ এখন এক আতঙ্কপুরী অপহরণ, গুম, খুন, দর্শন আতঙ্কে মানুষ বাকরূদ্ধ !!

Pub: রবিবার, জুন ৯, ২০১৯ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুন ৯, ২০১৯ ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশ এখন এক আতঙ্কপুরী। মানুষ ভীত, সর্বস্তরের মানুষ আতঙ্কিত। ধনী-গরীব, ব্যবসায়ী- চাকুরিজীবী, শ্রমজীবী-খেটে খাওয়া সব মানুষই আতঙ্কগ্রস্থ। মানুষ এমনই আতঙ্কগ্রস্থ যে, এক মাসের মধ্যে চালের দাম কম করে হলেও পাঁচ টাকা বাড়লেও ভয়ে মানুষের মুখে কোন টু-শব্দটি নেই। স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের আয় ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেও -তাঁদের প্রশ্ন করার সাহস হচ্ছে না, চারদিকে স্বজন হারিয়ে যাওয়া মানুষের ভয়ার্ত মুখ অথবা লাশ হয়ে ফিরে আসা স্বজনের করুণ আর্তনাদ। অপহরণ, গুম, দর্শন ,খুন আতঙ্কে বাংলাদেশের মানুষ বাকরূদ্ধ।গুম রাজ্য থেকে ফিরে আসা কেহই মুখ খুলতে রাজিনা,গুম করে এমন ভাবে ভয় ভীতি দেখানো হয় মানুষ টু-শব্দটি করার সাহস থাকে না।

শীতলক্ষ্যা নদী থেকে যখন লাশের পর লাশ বের হয়ে আসছে, স্বজনদের আহাজারিতে যখন বাতাস ভারি হয়ে উঠছে, নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ যখন কষ্টে -ক্ষোভে রাস্তায় নেমে এসেছে তখন প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে তার দলের আয়োজনে মে দিবসের সমাবেশে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে‘নালিশ করে বালিশ পাওয়া’র কৌতুক করছেন। এই নির্মম কৌতুকের পর গুম, খুনের দায় যথারীতি বিরোধী পক্ষেও উপরে তিনি চাপিয়ে দিলেন। অথচ নারায়ণগঞ্জের অপহৃত এবং পরে মৃতদেহ পাওয়া স্বজনেরা প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে অভিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতোই তার একই মনোভাব জারি রাখলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ কথা বলার পর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতারা লাগাতারভাবে গুম, খুন, অপহরণে বিরোধী পক্ষকে অভিযুক্ত করে যাচ্ছেন।

এসব অভিযোগ তারা এমনভাবে করছেন, যেন বিরোধীদের দায়ী করাই সরকারের দায়িত্ব, অপরাধীকে খুজে বের করা কিংবা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো দায়-দায়িত্বই তাদের নেই। এই দায়-দায়িত্ব না থাকার তাদের যে মনোভাব, এর পেছনেও কারণ আছে। কারণটি হচ্ছে – সরকার এ ধরনের একটি ভীতির সংস্কৃতি জনমনে ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। দায়ীত্বশীলদের এমন সব কথায় অপহৃত,গুম হয়ে যাওয়া এবং লাশ হয়ে আসা মানুষের স্বজনদের মনে বিচার প্রাপ্তির ক্ষীণ আশাটুকুও আর থাকে না। মানুষ আরও ভীত, সন্ত্রস্ত এবং আতঙ্কিত হয়। কুল-কিনারাহীন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে। তাদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় – কে মানুষকে নিরাপত্তা দেবে? সরকার যখন এভাবে আচরণ করলে মানুষ ভয়াবহভাবে নিজেকে বিপন্ন, বিপদাপন্ন ভাবতে শুরু করে, যেমনটি এখন চলছে। মানুষ অভিযোগ করবে কার কাছে? কিন্তু সরকার যখন অপরাধীকে চিহ্নিত না করে, তাকে না ধরে কারো বিরূদ্ধে ফাঁকা অভিযোগ করে – তখন অপরাধীদেরই দায়মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

অপরাধকে এভাবে প্রবল করার পরিণতিতে এই বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে যে – অপরাধ করলে কোনোই বিচার-আচার হবে না। এ ধারণাও সৃষ্টি হয়েছে যে, আরও দমনমূলক ব্যবস্থা এবং নির্যাতন নেমে আসতে পারে। যে কোন প্রতিবাদ দমনের জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক কোন বাহিনীকেই কারো নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয় না। অথচ গুম হয়ে যাওয়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য, অপরাধীদের ধরবার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয়। গুম হওয়া মানুষ চিরতরে গুম হয়ে যায়। গুম হওয়ার পরে তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভিতি প্রদর্শন করা হয় বলা হয় মুখ খুললে গুম করা ব্যক্তিকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া হবে,সেই ভয়ে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আত্নীয় স্বজন মুখ খুলতে সাহস করে না।

অথচ যে কোন ধরণের ন্যায়-সঙ্গত প্রতিবাদ দমনে সরকার এমনই সক্রিয় যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থেকে শুরু করে দলীয় বাহিনী পর্যন্ত সক্রিয়। তারা কোনো ধরনের কোনো প্রতিবাদ সহ্য করতে রাজি নয় – তা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হোক বা গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি পাওয়ার জন্যই হোক। বর্তমানে নিষ্প্রভ কথিত সুশীলদের একটি মানববন্ধনও তাদের সহ্য নয়। এ কারণে এই নিষ্ক্রীয় সুশীলদের জাতীয় সংসদের সামনের মানববন্ধনটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়।

আওয়ামীলীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় মাসের মতো সময়ে ১০০ জনের বেশী মানুষ অপহৃত বা গুম হয়েছেন। আর গত চার বছর ৪ মাসে গুমের সংখ্যা অনেক আগেই শতক ছাড়িয়ে গেছে। সরকার এসবকে কোন আমলেই নেয়নি এবং নেয়ার কথাও নয়। নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং এ্যাডভোকেট চন্দন সরকার সহ সাতজনের লাশ শীতালক্ষ্যায় পাওয়া যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সহ অনেক মন্ত্রী অপরাধীকে সনাক্ত না করে, তাদের না ধরে প্রথমে বিরোধীদের উপরে দায় চাপালেও শেষ পর্যন্ত জনরোষে সরকারের তরফ থেকে প্রথমবারতাদের দলের কোনো একজন নেতার বাড়িতে পুলিশি অভিযান চালালো। নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড পর্য়ায়ের নেতা নুর হোসেন এবং তাকে সহযোগিতা করার জন্য র‌্যাবের প্রতি অভিযোগ তুলেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসী ‘গডফাদার’কে আগেই চিহ্নিত করেছে।

সরকারের আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের বাহিনীই মানুষের সামনে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচারবিহর্ভুত ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, গণপিটুনির নামে শত শত মানুষকে পিটিয়ে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ একের পর এক মানুষকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের তান্ডব। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, যৌন সন্ত্রাস, গুম, খুন, অপহরণ নিয়ে মন্ত্রী, শাসক দলের নেতাদের ফাঁকা আওয়াজের মধ্যদিয়ে অপরাধীদের দায়মুক্তির সব আয়োজন আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন তারই ফলাফল দেখা যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে মানুষের জন্য গোটা দেশ এক ভয়াল আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে খোদ সরকার পর্যন্ত অর্থাৎ তাদের সবার প্রতি মানুষের আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অপরাধীদের মধ্যে এমন সঙ্গত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, এই জনপদে অপরাধ বাধামুক্ত, এখানে দায়মুক্তির ব্যবস্থা আছে, কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

লিখক: প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ