জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে টানাটানি কেন ?

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ২, ২০১৯ ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুলাই ২, ২০১৯ ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কবর নাটক আর কবর রাজনীতি আজ একাকার ,মুনীর চৌধুরী লিখেছিলেন ৫২ এর ভাষা আন্দোলন কে কেন্দ্র করে কবর নাটক। আর এখন আওয়ামীলীগ কবর রাজনীতি করতেছে।

আমাদের দেশের সরকার প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে কবর নিয়ে নাটক করতেছে আর সে ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্টপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবর কে টার্গেট করেছে।

আওয়ামীলীগের উদ্দেশ্য হলো বিএনপি নেতা কর্মী জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রাজনীতি করতে শহীদ জিয়ার কবরের পাশে যাবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে দেখাতে বা বিএনপির নেতা হওয়ার জন্য রাজনীতি করতে শহীদ জিয়ার কবর যেন আজ অন্যতম ফেক্ট হয়ে দাড়িয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা আছেন যারা মাঠে না থাকলে ও খালেদা জিয়ার সাথে সাবেক রাষ্টপতি শহীদ জিয়ার কবর জিয়ারত করতে সবার আগে জায়গা করে নেন। এই যে কবর নিয়ে রাজনীতি করণ সেটা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগকে গিয়ে নাড়া দিয়েছে।

আওয়ামীলীগ এখন দেখতেছে বিএনপির শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি কবর জিয়ারত ঠেকাতে পারলেই বিএনপি প্রতিবন্ধী হয়ে ঘরে থাকবে আর সেই লক্ষে তারা এখন সাবেক রাষ্টপতির কবর সরানোর কাজ হাতে নিয়েছে ।

বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান ও জাতীয় সংসদ ভবনের পাশ থেকে সরিয়ে ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এখন দেখার বিষয় বিএনপির কবর জিয়ারত যেসকল নেতা মনে করতেন অন্যতম নেতাগিরী তারা কি করেন।

আওয়ামীলীগকে এটা বুঝা প্রয়োজন সাবেক রাষ্টপতি শহীদ জিয়া হলেন বিএনপির প্রতিষ্টাতা তার কবর নিয়ে রাজনীতি সুস্থ রাজনীতি নয় এটা অসুস্থ রাজনীতি আর এই অসুস্থতা আওয়ামীলীগের জন্য কাল হয়ে দাড়াতে পারে।

লুইকানের নকশা বাস্তবায়নের নামে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এর জন্য এরই মধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লুই কানের মূল নকশার কপিও ঢাকায় আনা হয়েছে। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেডিডেন্ট আইয়ুব খানের উদ্যোগে বিশ্বখ্যাত আর্কিটেক্ট লুই আইকানের করা নকশার আলোকে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। লুই আইকানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল ২০৮ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনে থাকবে বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ। চারদিকে আট লেনের সড়ক ও মাঝখানে লেক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর বিস্তীর্ণ সবুজ। এছাড়া বাকি জায়গায় সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক বলয়। ১৯৭৪ সালে লুই আইকান যখন মূল নকশাটি করেন তখন ২৭টি মন্ত্রণালয়ের জন্য এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে নকশা উপেক্ষা করে সময়ের প্রয়োজনে গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন স্থাপনা। তারমধ্যে রয়েছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, সংসদ সদস্যের বাসভবন (ন্যাম ভবন), সংসদ ভবনের চারপাশে লোহার প্রাচীর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে কেন্দ্র করে বিরাট নিরাপত্তা বেষ্টনী, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার কমপ্লেক্স ইত্যাদি। নকশাবহির্ভূত এসব স্থাপনার কয়েকটিই হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই। অথচ সেই আওয়ামী লীগ সরকারই এখন আইয়ুব খান আমলের লুই কানের নকশা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, আসলে লুই কানের নকশা বাস্তবায়ন সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হচ্ছে সংসদ ভবন এলাকা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারটি সরানো। : বিভিন্ন মন্ত্রীর নানা বক্তব্যই প্রমাণ করে সরকারের উদ্দেশ্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার অংশ হিসেবে মাজারটি সরিয়ে ফেলা। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সংসদে জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর জন্য সুপারিশ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতেও বিষয়টি পরিষ্কার।

একটি অপকর্মকে আরেকটি অপকর্ম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অনুচিত। দেশ ও সমাজের জন্য সেটা অকল্যাণকর। আসলে এতে করে দুটি অপকর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। আমরা দেখলাম ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাতারাতি ঐ এয়ারপোর্টের নাম থেকে “জিয়া” মুছে দিয়ে “হজরত শাহজালাল” লিখে দিলো। নতুন নামকরণ হলো “হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর”। সাধক ও ইসলামের প্রচারক, সর্বজন সম্মানিত হজরত শাহজালাল (র:) অতি উঁচু মাপের ব্যক্তিত্ব। তাঁর নামে বাংলাদেশে একটি কেন, পাঁচটি এয়ারপোর্ট বা শত স্থাপনা হতেই পারে। কথা সেখানে নয়। কথা হলো, আওয়ামী লীগ সরকার এই নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় হজরত শাহজালাল (রহ:) এর প্রতি কতখানি ভক্তিমার্গে উদ্বুদ্ধ ছিলেন? নাকি তারা রাজনৈতিক স্বার্থে সেদিন এই সুফি সাধকের নামটি ব্যবহার করেছিলেন?

দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের বৃহৎ অংশের মানুষ বিশ্বাস করে যে, জিয়াউর রহমানের নামটি মুছে ফেলতেই শাহজালাল (র:) নামকে সেদিন ব্যবহার করা হয়েছিলো। তো এ ক্ষেত্রে জিয়ার নামটি লেখা এবং মুছে ফেলা দুটোই বড় দুটি রাজনৈতিক দলের দুরভিসন্ধি থেকে উৎসারিত, এর কোনটিই কাম্য নয়। আওয়ামী সরকারের এটা পূর্ব-বিবেচনা ছিলো যে, জিয়ার নাম বাদ দিলে একশ্রেণীর দলকানা রাজনৈতিক লোকজনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। আবার বিএনপিও এ নিয়ে দেশ জুড়ে হরতাল-হাঙ্গামা বাধিয়ে বসতে পারে। তাই সুকৌশলে সরকার শাহজালাল হুজুরের নামটি জুড়ে দিয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পক্ষে রেখেছে এবং বিএনপিকে জব্দও করেছে। একেবারে এক ঢিলে চার পাখি মেরে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে টানাটানি কেন ?

লেখক : প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ