fbpx
 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস : সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই সমাধান

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ ৮:২৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাতেই নিহিত-এ মৌলিক প্রতিপাদ্যকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ ২০০৮ সালে ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ এর ঘোষণা দেয়।
আইপিইউ বা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এই দিবসটির উদ্যোক্তা। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য Strengthening voices for democracy.
গণতন্ত্রের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। প্রাচীন গ্রিসকে বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। তবে এর বিকাশ পর্ব শুরু হয় ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের সাথে সাথে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র বিচিত্ররূপে উদভাসিত হয়েছে, তবে এর মূল নির্যাসটি বেরিয়ে এসেছে আব্রাহাম লিঙ্কনের সেই অজেয় ঘোষণা থেকে, Democracy is a Government of the People, by the people and for the people.ব্যক্তি ও সমষ্টির বাকস্বাধীনতা, বিভিন্ন মত ও পথের সমন্বয় এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকাণ্ডে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের আবশ্যিক কাজ।
আমাদের দেশটি পাকিস্তানি আমলে কখনোই গণতন্ত্রের মুখ দেখেনি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও দেশটি দীর্ঘসময় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক শাসন থেকে দূরে ছিল ফলে আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউশন যথার্থভাবে বিকশিত হতে পারেনি। এর প্রভাবও পড়েছে আমাদের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে। আমাদের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চেতনা পুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, দুর্বৃত্তায়ন, বিপুল অর্থনৈতিক বৈষম্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
গণতন্ত্রের লালন ও বিকাশ কেন্দ্র হচ্ছে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা, অথচ ক্রমাগত সংসদ বর্জন, সংসদে অর্থহীন, অরুচিকর আলোচনা বেশি হয়। এটি পরিহার করা গণতন্ত্রের স্বার্থেই প্রয়োজন।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন আধুনিক গণতান্ত্রিক চেতনার বৈশিষ্ট্য আবার গণতন্ত্রের নামে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার নামে অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরাচারী শাসন কাম্য নয়। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ, ধর্মান্ধতা, প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শের প্রচার গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে।
গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সংসদকে কার্যকর রাখা, সংসদে গণতন্ত্র, সমাজপ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ সাধনায় ব্রতী ব্যক্তি গোষ্ঠীর আরো বেশি প্রতিনিধি থাকা বাঞ্ছনীয়। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা গণতন্ত্র তথা সংসদীয় ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।
গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি সকল মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও বিকশিত করার পথে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী গ্রুপ ও নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। গণতন্ত্র যত শক্তিশালী হবে সমাজও তত বেশি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিবিসি বাংলা এমন ১০টি বিষয় তুলে ধরেছেন যা দেশে গণতন্ত্র না থাকার অন্যতম কারণ।

১. প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন:
গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে নির্বাচন হলো ‘গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা’। সে নির্বাচন হতে হবে এবং অবাধ ও স্বচ্ছ। যে দেশে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং জবরদখল হয় সেটিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে নারাজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।

২. একনায়করাও নির্বাচন করে:
যেসব দেশে বেসামরিক একনায়কতন্ত্র আছে সেখানেও নিয়মিত নির্বাচন হয়। কারণ তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এখন নির্বাচনে কারচুপি শুধু জাল ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয় না, এর নানা দিক আছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের গবেষক ব্রায়ান ক্লাস বলেন, নির্বাচনের সময় অধিকাংশ একনায়ক শাসক তাদের প্রতিন্দ্বন্দ্বীকে নানা কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য করে দেন।

৩. জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করা:
গণতন্ত্রে জনগণের মতামতের প্রাধান্য একটি বড় বিষয়। একটি সরকার নির্বাচিত হলেই গণতান্ত্রিক হয় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে- গণতন্ত্র না থাকলে এবং একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব হলে জনগণের মতামতকে সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করা হয়। এর ফলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে।

৪. ভোটার অংশগ্রহণ কমে যাবে:
যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না সেখানে শাসকগোষ্ঠী নিয়মিত নানা ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান করলেও সেসব নির্বাচনের প্রতি মানুষের কোনও আস্থা থাকে না। ভোটাররা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তারা ভোট দেবার জন্য ভোট কেন্দ্রে যেতে চায়না।

৫. সংসদ হবে একদলীয়, কার্যত বিরোধী দলহীন:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে- একটি দেশে যখন গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত হবার দিকে ধাবিত হয় তখন সংসদে ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে। সংসদে কার্যত কোনও বিরোধী দল থাকে না।

৬. নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাব:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে- গণতন্ত্র না থাকলে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো নানা ধরনের আইন-বহির্ভূত কাজ জড়িয়ে পরে। কারণ, শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করে।

৭. দুর্বল প্রতিষ্ঠান:
অধ্যাপক ইয়াহিয়া আখতারের মতে গণতন্ত্র কায়েম করতে হলে কিছু প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরী করতে হয়। যেমন: নির্বাচন কমিশন, সংসদ, বিচার বিভাগ ইত্যাদি। অধ্যাপক আখতার বলেন, একটি দেশে যদি এসব প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকে এবং সেগুলো ভঙ্গুর অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে বুঝতে হবে সে দেশে গণতন্ত্র নেই।

৮. মতপ্রকাশে ভয় পাওয়া:
গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমও স্বাধীনভাবে কাজ করতে ভয় পায়। এমনকি শাসকগোষ্ঠী ইন্টারনেটও নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যাতে করে মানুষ সেখানে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে না পারে।

৯. দুর্নীতি বেড়ে যাওয়া:
একনায়কতন্ত্রে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ক্রয় করার জন্য এই দুর্নীতি ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবস্থায় দুর্নীতি এমন সুন্দরভাবে সাজানো হয় যে, সেটি অল্প কিছু ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। শাসকের অনুগত হবার বিনিময়ে তাদের দুর্নীতি করার সুযোগ করে দেয়া হয়। ফলে তারা আরো ধনী হয়। যদি কোন কারণে সন্দেহ হয় যে তারা শাসকের অনুগত নয়, তখন তাদের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

১০. ক্ষমতা হারানোর ভয়:
একনায়ক শাসকরা অবসরের ভয়ে থাকেন। তাদের মনে থাকে যে ক্ষমতা হারানোর পর একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির তৈরি হবে। ফলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রতিশোধ নিতে পারে।
লেখক:প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ