fbpx
 

গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন যেন সুদূরপরাহত না হয়

Pub: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোবায়েদুর রহমান
বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্ট খারিজ করেছেন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আপিল। এই মামলায় হাইকোর্ট তাকে ৭ বছরের সাজা দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্ট জামিনের আবেদন খারিজ করায় আইনিপথে বেগম জিয়ার মুক্তির দুয়ার বন্ধ হয়ে গেল। ৭ বছরের কারাদন্ড তার কনফার্মড হয়ে গেল। এমন একটি রায় যে হবে সেটি বিএনপি কি বুঝতে পারে নাই? যদি বুঝতে পেরে থাকে তাহলে তারা সুপ্রিমকোর্টে গেলো কেনো? সেখানে না গেলে তো একটি দুয়ার খোলা থাকতো।
বেগম জিয়ার জামিনের আবেদন আপিল বিভাগে বিএনপি এই সময় নিয়ে গেলো কেন সেটি আমার কাছে এখনও বোধগম্য হচ্ছে না। সুপ্রিমকোর্টে বেগম জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় জামিন খারিজ হওয়ার পর অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিন হওয়ার আর কি কোনো আশা আছে? সেখানে তো সাজা হয়েছে ১০ বছর। তা হলে বেগম জিয়ার ১০ বছর +৭ বছর, মোট ১৭ বছরের কারাবাস কি কনফার্মড হয় না? এই মুহূর্তে বেগম জিয়ার বয়স ৭৫ বছর। তাঁকে যদি ১৭ বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হয় তাহলে তাঁর বয়স হবে ৯২ বছর। বিষয়টি যে কতখানি ভয়াবহ সেটি বিএনপি নেতাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তিনি কি ৯২ বছর ধরে জেলের ঘানি টানবেন? না টেনেই বা উপায় কি?

দুই
গত বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ রায় উত্তর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বেগম জিয়ার প্রাপ্য জামিন আবেদন খারিজ করার প্রতিবাদে রবিবার বিএনপির উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হবে। এরপর কোনো কর্মসূচি আছে কি না সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আর কোনো আলোকপাত করেননি। তবে ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজের’ বিগত শুক্রবারের সংবাদ অনুসারে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল বলেছেন যে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য সরকারকে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, একাদশ নির্বাচনের নামে যে ভোটারবিহীন জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে সেটি বাতিল করা হবে। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করা হবে। বৃহস্পতিবার স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠকের ফাঁকে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

শীর্ষ নেতাদের বৈঠক চলাকালেই বিএনপির অঙ্গ সংগঠনসমূহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে এবং দেশের কয়েকটি জেলায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে, সরকার বিচার বিভাগকে দুর্বল করেছে, প্রশাসনকে কুক্ষিগত করেছে এবং মিডিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কেয়ারটেকার সরকার বাতিল করে দেশকে স্থায়ী সংঘাতের মুখে নিক্ষেপ করেছে। এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীরা বাংলা মোটরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং মিছিলটি বিশ^বিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মৌচাক এলাকায় মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়া মফস্বলের রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, সিলেট এবং বগুড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল বের হয়।

তিন
এখন বিএনপি কী করবে? প্যারোলে বেগম জিয়ার মুক্তি চাইবে? সরকার তো বেগম জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া। প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে দলীয় এবং আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধ তিনি রক্ষা করেননি। আওয়ামী লীগের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী এবং এমপি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, কারা মুক্তির জন্য বেগম জিয়ার এত দৌড়াদৌড়ি না করে দোষ স্বীকার করে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করলেই তো তিনি মুক্তি পেতে পারেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে একটি কথা চালু আছে। সেটি হলো ‘যার মনে যা, লাফ দিয়ে ওঠে তা।’ কামরুল ইসলাম যে স্ট্যান্ডার্ডের নেতা তাঁর পক্ষে এটি ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কারণ এটি যদি তাঁর নিজের ব্যাপার হতো তাহলে অনেক আগেই তিনি রাষ্ট্রকে মিনতি জানিয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করতেন। কিন্তু বেগম জিয়াকে বোধকরি তিনি চিনতে পারেননি। She is hardest to crack.

যাই হোক, বিএনপির সামনে একটি পথই খোলা। সেটি হলো All out movement. শুক্রবার যখন এই কলাম লেখাটি লিখছি, তখন সর্বাত্মক আন্দোলন বা রাজপথের আন্দোলনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হয়তো বিজয় দিবসকে সামনে রেখে তারা কোনো কঠোর কর্মসূচি দেয়নি। বিজয় দিবস চলে গেলে হয়তো বিএনপি কঠোর কর্মসূচিতে যাবে। এগুলো কিন্তু কোনো এক্সক্লুসিভ খবর নয়। এগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমাদের অনুমান।

চার
শেষ করার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে চাই। একটা ইংরেজি ভাষার মতো Last but not least. অর্থাৎ শেষ কথা, কিন্তু সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আমরা এত কথা বলেছি কেন? এটি কি শুধুই মহিমান্বিত করার জন্য? মোটেই নয়। খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে হবে গনতন্ত্রের জন্য। একটি রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য Institution বা প্রতিষ্ঠান যেমন জরুরি, তেমনি একটি ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব বা নেতৃত্ব অপরিহার্য। পাকিস্তান আমলে আইয়ূব খানের একনায়কত্বের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রতিবাদী নেতা ছিলেন যেমন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তেমনি আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতির সামনে মডেল হলেন বেগম খালেদা জিয়া। আজ যদি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে আমার ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী হলো, এদেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন আরও অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে যাবে। অবশ্য মুসলমান হিসাবে আমরা বিশ্বাস করি, সব কিছু আল্লাহর হাতে। কিন্তু আল্লাহ তো কোনো বান্দার মাধ্যমে (উছিলা) তার ইচ্ছা পূরণ করেন। এই মুহূর্তে বেগম জিয়া ছাড়া গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে আর কেউ দৃশ্যমান হচ্ছেন না। মিশরের ৩২ বছর পর গণতন্ত্র ফিরে এসেছিলো। তাও সেটি টেকসই হয়নি। তিউনিসিয়ায় ফিরে এসেছে ৩৪ বছর পর। প্রতিবেশী ভারতে গণতন্ত্র চালু থাকলেও এখন সেটি হিন্দু গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেই মুহূর্তে বেগম জিয়ার কারামুক্তি একদিকে যেমন কঠিন, অন্যদিকে তেমনি গভীর তাৎপর্যময়।
[email protected]

Hits: 22


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ