fbpx
 

আমাদের জাতিরাষ্ট্র, ভাষা আন্দোলন ও একজন অলি আহাদ

Pub: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা. জাহেদ উর রহমান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তি যদি জেতে, তারপর যে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোকে তাদের উপনিবেশগুলো পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দিতে হবে, এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীনই।

কয়েক দফা গোপন বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন ওয়ার্ল্ড অর্ডার কেমন হবে সেই ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। আটলান্টিক চার্টার নামে বিখ্যাত সে দলিল প্রকাশিত হয় ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট। ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ধারাসংবলিত চার্টারটির তৃতীয় ধারাটি এরকম-

‘They respect the right of all peoples to choose the form of government under which they will live; and they wish to see sovereign rights and self government restored to those who have been forcibly deprived of them’

এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, যুদ্ধে মিত্রশক্তি জিতলে উপনিবেশগুলোর পতন হতোই। এ লেখা লিখতে এ চার্টারটির এ বিশেষ ধারাটির কথা মনে পড়ল অবশ্য ভিন্ন কারণে। জাতিরাষ্ট্র ধারণাটি অনেক পুরনো; কিন্তু এ চার্টার সারা পৃথিবীর নানা প্রান্তের জাতিগুলোকে স্বশাসন পাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

আধুনিক রাষ্ট্র ধারণাটির সঙ্গে জাতিরাষ্ট্র ধারণাটির সংঘাত আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আধুনিক রাষ্ট্র মাত্রই হওয়া উচিত নাগরিক রাষ্ট্র। কিন্তু যুগে যুগে জাতিরাষ্ট্র ধারণাটি টিকে ছিল, এখনও আছে।

জাতিরাষ্ট্র ধারণাটি যতই সংকীর্ণ হোক না কেন, এটিও ভীষণ সত্য কথা, একটি জাতিরাষ্ট্র গঠন করার স্বপ্ন দেখিয়ে একটি জাতিগোষ্ঠীকে খুব সহজেই ঐক্যবদ্ধ করা যায়।

এমনকি ইদানীং জাতিভিত্তিক পরিচয় প্রতিষ্ঠিত নাগরিক রাষ্ট্রগুলোতেও ক্ষমতায় যাওয়ার বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এজন্যই আধুনিক পৃথিবীর অনেক নাগরিক রাষ্ট্রই নতুনভাবে জাতিরাষ্ট্রের চেহারা নেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি জাতিরাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেই হয়েছিল। ১৯৪৭ সালেও একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবেই আমরা পাকিস্তান নামে স্বাধীন হয়েছিলাম। সে জাতিরাষ্ট্র ছিল ধর্মভিত্তিক। সেই সময়টা যেহেতু জাতিরাষ্ট্রের জয়জয়কার, আমাদের আরেকটি জাতিরাষ্ট্রের বয়ান তৈরি করতে হয়েছিল।

ধর্মীয় জাতিরাষ্ট্র যখন ব্যর্থ হচ্ছিল এ রাষ্ট্রটিকে একত্র রাখতে তখন বিচ্ছিন্নতার জন্য আমাদের আরেকটি জাতীয়তাবাদের প্রয়োজন ছিল, আমরা তখন গিয়েছি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তায়। সেই বিবেচনায় ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে বলছি কলামের শেষ অংশে। তার আগে এর ইতিহাস নিয়ে কিছু কথা বলে নেয়া যাক।

অবজেক্টিভ ইতিহাস বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। ইতিহাস মাত্রই সাবজেক্টিভ এবং সেই ইতিহাসগুলোই অনেক বেশি সাবজেক্টিভ হয়ে ওঠে যার সঙ্গে নানা রকম রাজনৈতিক লাভালাভ যুক্ত হয়ে পড়ে। যুগে যুগে এটি হয়েছে, হচ্ছে এখনও।

তবুও বহু দেশেই এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যায়, বিতর্ক করা যায়। ইতিহাসবিদরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অবজেক্টিভ ইতিহাসের খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আমার বাহানা শেষ হল, মূল বিষয়ে আসছি এবার। লিখতে চাইছি ভাষা আন্দোলনে অলি আহাদের ভূমিকা নিয়ে। কেন অলি আহাদ? কারণ এ ব্যক্তিই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনায় ভয়ংকরতম অবিচারের শিকার হয়েছেন।

ছোটবেলায় একাধিক ক্লাসে ভাষা আন্দোলন নিয়ে আমাদের পড়তে হয়েছে, সেই সময়কার একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভিতে ভাষা আন্দোলন নিয়ে বহু অনুষ্ঠান দেখা হয়েছে; কিন্তু কোথাও এ মানুষটিকে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বদানকারী মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া দূরে থাকুক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুবই তুচ্ছ একটি পার্শ্বচরিত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা ছিল।

বর্তমানেও এর অন্যথা হয়নি। আমাদের জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইটির ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম’ অধ্যায়ের পাঠ-১ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন অংশটিতে অলি আহাদকে উল্লেখ করা হয়েছে একটি বাক্যে।

বাক্যটি হল- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষার দাবিতে সারা পূর্ব বাংলায় (এখানে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ লিখলে কী সমস্যা হতো বুঝতে পারছি না) ধর্মঘট ডাকা হলে অলি আহাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অধিকাংশ নেতা গ্রেফতার হন।

এ অধ্যায়েই একটি অবিশ্বাস্য অংশ আছে, সেটি একটু দেখে নিই। মাতৃভাষার অধিকারের জন্য এদেশে একাধিক উদ্যোগের কথা জানা যায়। এর মধ্যে প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

এর নেতৃত্বে ছাত্র এবং তরুণদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলী, গাজীউল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, আবদুল মতিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ। এ তালিকায় নাম নেই জনাব অলি আহাদের; যিনি সবচেয়ে সক্রিয় মানুষ তো ছিলেনই, এছাড়া ছিলেন সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

হ্যাঁ, একটি শিশু বর্তমান বাংলাদেশে এভাবেই পায় ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পাঠ।

ভাষা আন্দোলনে অলি আহাদের কী কী অবদান আছে, সেই আলোচনা হবে অতি দীর্ঘ। এ কলামের পরিসরে সেটি সম্ভব নয়, তাই অল্প কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি।

পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ভাষার স্থান না হওয়ায় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের অংশ হয়ে প্রতিবাদ সভা, সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।

ওই বছরেরই ২৪ মার্চ রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের যে প্রতিনিধি দলটি জিন্নাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ও বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করে তারও সদস্য ছিলেন তিনি।

অলি আহাদ ১৯৪৭ সালে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে গঠিত হওয়া ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নুরুল আমিন সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। নবাবপুরে আওয়ামী লীগ অফিসে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা না ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পথে জনাব অলি আহাদ তীব্র প্রতিবাদ জানান, তাকে সমর্থন করেন আবদুল মতিন, শামসুল আলম, গোলাম মাওলা।

২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাধারণ ছাত্র সভা হয় সেখানেও মোহাম্মদ তোয়াহা, এমনকি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবসহ অনেকেই ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে বক্তব্য দেন। এ সভাতেও সেটা ভাঙার পক্ষে অটল থাকেন অলি আহাদ।

২১ ফেব্রুয়ারির ১৪৪ ধারা ভাঙার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল জনাব অলি আহাদেরই। এটি একজন শিশুও জানে, এ ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত আমাদের মাতৃভাষার আন্দোলনটিকে সফলতা দেয়।

সেদিন গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সংগ্রাম পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রাতে মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে সভা আহ্বান করেছিলেন অলি আহাদ। ২২ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক লোকের অংশগ্রহণে ভাষাশহীদদের গায়েবানা জানাজার পর জনসভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

এরপর সে জনসভা থেকে বের হওয়া মিছিলের পুরোভাগে থাকেন তিনি। ২২ ফেব্রুয়ারি তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় মোহাম্মদ সুলতানসহ ছাত্রলীগের একদল সদস্য। এভাবে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত জনাব অলি আহাদ নানাভাবে এ আন্দোলনকে বেগবান করার চেষ্টা করেছিলেন।

জেলে তো গিয়েছিলেনই, ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মাশুল দিয়েছিলেন আরও ভয়ংকরভাবে। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমকম পড়ার সুযোগ না দিয়ে চিরতরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে।

এ মাটির ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থটি লিখেছেন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর।

‘পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ বইটিতে তিনি যেভাবে সেই সময়টিকে ধরেছেন সেটি আজ পর্যন্ত অনন্য হয়ে আছে। সেই বইয়ের তৃতীয় খণ্ডের ভূমিকায় অলি আহাদ সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের অল্প কয়েক বছর পর থেকেই রাজনীতিতে তার প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা শুরু হলেও তার বর্তমান রাজনীতি চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও ঘৃণার্হ।’

ভাষা আন্দোলনের কিছু সময় পর জনাব অলি আহাদের রাজনীতি কতটা প্রতিক্রিয়াশীল ছিল সেটা নিয়েও আলোচনা বিতর্ক হতে পারে; কিন্তু এখানে এটি উল্লেখ করার কারণ হল বদরুদ্দীন উমরের অলি আহাদ সম্পর্কে কোনো অন্ধত্ব ছিল না।

তাই ভাষা আন্দোলনে অলি আহাদ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার দাবি রাখে। তিনি বলেন, “পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ’ সাংগঠনিকভাবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণেই সেই সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের সক্রিয়তা ছিল সব থেকে বেশি।

তাদের মধ্যে ছিলেন যুবলীগের দুই সহ-সভাপতি মহম্মদ তোয়াহা ও নারায়ণগঞ্জের শামসুজ্জোহা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহাদ, দুই যুগ্ম সম্পাদক ইমাদুল্লাহ ও মহম্মদ সুলতান ইত্যাদি। পাবনার আবদুল মতিনের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

এদের মধ্যে আবার যদি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে একজনের নাম করতে হয় তাহলে তিনি হলেন অলি আহাদ। বর্তমানে তার নাম এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাষাসৈনিক’ হিসেবে কেউ করে না; কিন্তু একজনের বর্তমান অবস্থা দেখে তার অতীত ভূমিকার বিচার কোনো যোগ্য ঐতিহাসিক এবং ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি করবেন না।’

অলি আহাদ কেন অবহেলিত সেটি এইমাত্র লেখা উক্তিটির শেষ বাক্যে বলা আছে। এখন প্রতিষ্ঠিত শক্তির সঙ্গে কারো মত না মিললে তিনি হন ভীষণরকম অবহেলিত ও তাচ্ছিল্যের শিকার। পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ দিলাম আগেই, এই দেশের ভাষার মাসে যাবতীয় ‘পণ্ডিত’দের আলোচনায় এ আন্দোলনের নায়কের অবস্থান পার্শ্বচরিত্রের জায়গায়ও থাকে না প্রায় সব ক্ষেত্রে।

ঢাকার ধানমণ্ডির বেশ কয়েকটি রাস্তার নাম দেয়া হয়েছে ভাষাসৈনিকদের নামে। আবদুল মতিন, গাজীউল হক, গোলাম মাওলা, কাজী গোলাম মাহবুব, বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী- এ পাঁচজনের ম্যুরাল এবং তার নিচে অবদানের কথা সংক্ষিপ্তভাবে লেখা থাকলেও ধানমণ্ডি ৪ নম্বর সড়কটিতে অলি আহাদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকজনের মতো জীর্ণ একটি নামফলক দেখা যায়।

জীবিত থাকা অবস্থায়ও অলি আহাদ এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাননি; কিন্তু জাতি হিসেবে এটি আমাদের ব্যর্থতা। আমরা ইতিহাসকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছি যেখানে একজন নায়ককে একেবারে তুচ্ছ পার্শ্বচরিত্রের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যখন তৎকালীন পাকিস্তানের ৫৪ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে বাতিল করে মাত্র ৫-৬ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তখনই সেটি পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত জনগণের ভেতরে বাঙালি জাতীয়তাবোধের বীজ বপন করে দেয়।

এ বিবেচনায় ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতিরাষ্ট্র গঠনের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক। এ ল্যান্ডমার্কটি তৈরি করতে যে মানুষগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন সে মানুষগুলোকে শুধু ভাষাসৈনিকের গণ্ডিতে বেঁধে রাখা অনুচিত।

সেই বিবেচনায় একজন অলি আহাদকে ভাষা আন্দোলনের প্রধান মানুষ হিসেবে সম্মানিত করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে না, বরং যে জাতিরাষ্ট্র গঠনের চেষ্টায় আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে সেই সংগ্রামের গ্র্যান্ড ন্যারেটিভে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ হিসেবে অলি আহাদকে স্বীকৃতি দিলেই তার প্রতি প্রকৃত সুবিচার করা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান : শিক্ষক, অ্যাক্টিভিস্ট

Hits: 53


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ