fbpx
 

তারেক রহমান এর কর্মময় জীবন

Pub: শনিবার, মার্চ ৭, ২০২০ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গণতন্ত্রের মা, নিরপরাধ, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮, অন্যায় কারাবন্দিত্বের শিকার হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পিত হয় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর উপর।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার, মার্চ ১৯, ২০১৬, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সারা দেশ থেকে আগত তিন হাজার কাউন্সিলর এর অনুমোদন দেন।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০০৯, ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপি’র পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি প্রথমবারের মতো সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ শুরু করেন।

জন্ম
তারেক রহমান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সন্তান। তাঁর ডাক নাম পিনো। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি বগুড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।

শিক্ষা জীবন
তারেক রহমান প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং উচ্চতর পর্যায়ে বাংলাদেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষা লাভ করেন।

রাজনীতি
তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটান। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন।

তারেক রহমান ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তথ্য ও গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সৃজনশীল পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১৫টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করে। ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।

২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি বিএনপিকে সারা দেশে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য কার্যকর ও অভূতপূর্ব কর্মসূচী গ্রহণ করে আলোড়ন তৈরি করেন। সারাদেশে সংগঠিত করেন ‘তৃণমূল প্রতিনিধি’ সভা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোন যুগান্তকারী কর্মসূচী অন্য কোন রাজনীতিবিদ করতে পারেননি। মূল সংগঠনসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। সারাদেশে ২৩টি এলাকায় প্রতিনিধি সভা করে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুসংহত করেন। এসব সভায় দলের তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিলে তিনি এসব পরামর্শ সুপারিশ আকারে সরকারের বিবেচনার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেন।

তিনি কর্মীদের ভোটে গঠন করেন বগুড়া বিএনপি কমিটি। কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে না দিয়ে তিনি শুরু করেন নিজ দলের ভিতর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। উন্নত দেশগুলোতে এই মডেলে সব পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালিত হয়। তারেক রহমান পনের বছর আগে বগুড়ায় যেভাবে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেছিলেন, আজও বাংলাদেশে কোন দল এইভাবে গণতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠন করতে পারনি! তারকে বিনীন বাংলাদেশ শুধু পিছনেই হাঁটছে।

এইভাবে তারেক রহমান শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন।

কারাজীবন
বুধবার, মার্চ ৭, ২০০৭, রাতে তারেক রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁর ঢাকা ক্যান্টমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন অবৈধ স্বঘোষিত সরকার। বাংলাদেশেকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব শূণ্য করতে বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জেলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তারেক রহমানের ওপর চালানো হয়েছিল অমানুষিক বর্বর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। তাঁর পায়ে, কোমরে এমন নির্যাতন করা হয় যে তিনি হাঁটতে পারছিলেন না।

কারামুক্তি
সোমবার, আগস্ট ২৫, ২০০৭, খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তারেক রহমান তার হাসপাতাল কক্ষে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এরপর এ খবরের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ ও ধারণা সৃষ্টি হয় যে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনকে গোপন করার লক্ষ্যে এই খবর ছড়ানো হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে চাপ বাড়তে থাকে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা তারেককে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

২০০৮ এর আগস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় আঠারো মাসব্যাপী নিপীড়িত অবস্থায় কারান্তরীণ থাকার পর বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০০৮, সবগুলো মামলায় তারেক রহমানের জামিন সম্পন্ন হয় ও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।

লন্ডনে বসবাস
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০০৮, তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বর্তমানে লন্ডনের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ব্যক্তিগত জীবন
তারেক রহমান সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কনিষ্ঠা কন্যা ডাঃ জোবায়দা রহমানকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান লন্ডনে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জনের পর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

Hits: 433


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ