বিবস্ত্র করে গৃহবধূ নির্যাতনএ বর্বরতার শেষ কোথায়?

Pub: Wednesday, October 7, 2020 4:16 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা বাকরুদ্ধ, স্তম্ভিত। একুশ শতকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে ভাবতেও গা শিউরে ওঠে, যেখানে পৃথিবীব্যাপী নারী জাগরণ ঘটেছে। একদল বর্বর হিংস্র দুর্বৃত্তের ভয়াল থাবা, আদিম উলস্নাসের সঙ্গে মিশে ছিল অসহায় এক গ্রামীণ নারীর আর্তনাদ। দুর্বৃত্তদের বারবার ‘বাবা’ ডেকে সম্ভ্রম ভিক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। শরীরটাকে ঢেকে রাখার প্রাণপণ লড়াই করেছেন। এত আকুতিতেও টলেনি দুর্বৃত্তের পাষন্ড মন। বিবস্ত্র করে ওই নারীকে নির্যাতনের এ কালো রাতটি নেমে এসেছিল গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে। ওই ঘটনার বিচার না পেয়ে এক মাস ধরে এমন ক্ষত, দগদগে ঘা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। সেই রাতের হিংস্রতায় ওই নারীর আর্তচিৎকার যাদের কানে ভেসে গিয়েছিল, তাদেরও মুখ বন্ধ ছিল। এ ধরনের পাশবিকতা অমানবিকতা নিষ্ঠুরতাকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা দেব। এতটাই বর্বর সমাজে আমরা বাস করি যে, এ বর্বরতা ঢেকে রাখার আর সুযোগ নেই। যারা এ কাজটি করেছে তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। তারা মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীতে এসেছে এটা ভাবতেও অবাক লাগে। এমন আদিম সমাজ কি আমরা চেয়েছিলাম। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে কি এটা ঘটতে পারে। এ ধরনের বর্বরতা, পাশবিকতা যারা সংঘটিত করছে তারা দেশকে, সভ্যতাকে, গণতন্ত্রকে গ্রাস করে ফেলেছে। এর থেকে মুক্তির উপায় কী? আলোর দিকে না গিয়ে আমরা কি কেবল অন্ধকারের দিকে ধাবিত হব?

উলেস্নখ্য, ওই নারীর ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় কয়েক বছর আগে তিনি বাপেরবাড়ি চলে আসেন। তার এক ছেলে ও মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে ওই নারী ছেলে ও এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি তার স্বামী তার কাছে আসা-যাওয়া করতে শুরু করেন। এ নিয়ে কয়েকজন যুবক আপত্তি জানিয়ে সেদিন ওই নারীকে নির্যাতন করেন। ঘটনার দিন ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। নির্যাতনকারীরা তার স্বামীকেও আটক করে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর ভাই ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই নারীর মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর তা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মানুষ ধিক্কার ও নিন্দা জানায়। কিন্তু এর সমাধান কী?

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা নারীসমাজকে শুধু নয়- বৃহত্তর নাগরিক সমাজকেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। বিশেষত নোয়াখালীর সর্বশেষ ঘটনাটি যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশবাসী একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ ও বিস্মিত যে, এতদিন এ নিয়ে জাতীয় স্তরে দূরে থাক, স্থানীয় পর্যায়েও কোনো টুঁ শব্দটি হয়নি। নারীর সম্ভ্রম ও নাগরিকের মর্যাদা এতটাই মূল্যহীন? অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত অথবা তাদের যথেষ্ট অর্থ আছে, যা দিয়ে তারা তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারে বা তাদের অপরাধকে দুর্বল করে ফেলতে পারে। আমরা দেখছি একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। এর জন্য মূলত দায়ী জনগণের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত বাহিনীর দুর্বলতা ও উদাসীনতা। দেশের বিভিন্ন স্থানে লাঠিয়াল বাহিনী, সন্ত্রাসী ধর্ষক লুটেরা যে গজিয়ে উঠেছে সে খবর কি সরকার রাখে। একেকটি ঘটনা প্রকাশ পায়, আর কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারী অবমাননাকারীদের প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আমরাও তাই মনে করি।

আমাদের দেশে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনতে হলে এখনই সরকারকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কঠোরতার সঙ্গে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হওয়া উচিত সব ধরনের অপরাধকর্মকে রুখে দেওয়া। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো। সরকার তথা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কেবল পারে এ ধরনের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 77 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ