জাবির ফাঁকা ক্যাম্পাসে ‘সক্রিয়’ অপরাধীচক্র

Pub: মঙ্গলবার, আগস্ট ২১, ২০১৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, আগস্ট ২১, ২০১৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলছে ঈদুল আজহার ছুটি। গত ১৮ আগস্ট থেকে এই ছুটি শুরু হয়েছে, চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই ছুটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেমে এসেছে আতঙ্ক। নিয়মিতই ঘটছে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা। এছাড়া ক্যাম্পাসকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে।

এককথায় ফাঁকা ক্যাম্পাস এখন অনেকটাই অপরাধীচক্রের দখলে। কারণ পুরো ক্যাম্পাসে এখন নেই তেমন কোনও শিক্ষার্থী। অধিকাংশ গার্ড রয়েছেন ছুটিতে। এমন অবস্থায় নিরাপদেই অপরাধ সংগঠিত করে যাচ্ছেন অপরাধীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের এই ছুটিতে মাদক ব্যাবসায়ীরা মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে সবুজ অরণ্যে ভরা এই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে। দেশের উত্তরাঞ্চলের বর্ডার হয়ে ভারত থেকে আসা মাদকগুলো ঢাকা আরিচা মহাসড়ক হয়ে এসে ক্যাম্পাসের মাদক ব্যাবসায়ী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশমাইল গেইট, জয়বাংলা গেইট ও মূল ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। তারপর ক্যাম্পাসের ভিতরের বিভিন্ন রাস্তা হয়ে গেরুয়া ও ইসলামনগর এলাকা দিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে নৌকা যোগে রাজধানী ঢাকায় এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন মাদক বিক্রেতা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে ঢাকায় মাদক প্রবেশ করা কঠিন। বর্তমানে মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় কোনোভাবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মাদকের চালান প্রবেশ করানো যায় তাহলে নিরাপদেই ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। কারণ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর আর কোনও চেকপোস্ট নেই। তাই মাদক বিক্রেতাদের জন্য এই রুট নিরাপদ।’

এদিকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে পেয়ারার বস্তায় করে ১১২ বোতল ফেনসিডিল নেয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে ধরা পরে একটি মাদকের চালান।

অন্যদিকে ছুটির মধ্যে ফাকা ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই বেড়েই চলছে।

সর্বশেষ গত রবিবার (১৯ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ এক কর্মীর বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে চাঁদা দাবি, ভাঙচুর ও  মারধরের অভিযোগ করেছে ‘রিভারল্যান্ড ব্রডব্যান্ড সাভির্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর করা এই অভিযোগপত্রে তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান ও অভিষেক মন্ডল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রি শেখর মজুমদার এবং ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন। তবে অভিযুক্তরা বিষয়টি অস্বীকার করে থানায় জিডি করেছেন।

এছাড়া জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একা কেউ আসলেই বিপদ। সব দিয়ে আসতে হচ্ছে ছিনতাইকারীদেরকে। দিনে দুপুরে এই স্থানে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে সব নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে ছিনতাইকারীদের। বিশেষ করে ছেলে মেয়েদের জুটি টার্গেট করছে ছিনতাইকরীরা। নির্জন স্থানে এমন কোন জুটি বসে থাকতে দেখলে সব নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত রোববার রাতে সাভারে বসবাসকারী এক গর্ভবতী নারী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগানে তার আত্মীয়ের বাসা থেকে ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় একা পেয়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী তার কাছ থাকা মোবাইল, ব্যাগ ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর ওই নারীকে তার স্বামীর কাছে পৌঁছে দেন।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েল হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা চাইকেল রেখে বাড়ি চলে গেছে। এই ছুটিতে হলের গার্ডদের সহযোগীতায় চাইকেল চুরি হয় প্রতিবছর। এই বছরও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। তাই হলগুলোতে ও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোড়দারের দাবি জানিয়েছেন সকলে।

এ নিয়ে সরব সোস্যাল মিডিয়াও। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দিদারুল হক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘দিনে-দুপরে ক্যাম্পাসের ভেতরে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা কি আসলেই আছে?’

আরেক শিক্ষার্থী মঈনুল রাকীব তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসটা এমন ভয়াবহ অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে কেন? অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনার সময় আসছে কি না তা ভাবতে হবে নতুন করে।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে অবৈধ যে রাস্তাগুলো আছে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছে তারা আসলে নিরাপত্তা দিতে যোগ্য কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালীর কারও হাত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এদিকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর দুপুরে ঈদুল আজহার ছুটিতে বহিরাগত এক তরুণী বোটানিক্যাল গার্ডেনে গণধর্ষণের শিকার হন। একই বছরের এপ্রিল মাসে ধর্ষণের শিকার হন ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী। ২০১৩ সালের ঈদুল আজহার ছুটির সময় ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা এক বহিরাগত তরুণীকে শহীদ মিনার এলাকা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে আসা যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়টি জানালে তারা দুই ঘণ্টা পুরো ক্যাম্পাসে খোঁজাখুঁজি করেও তরুণীটির হদিস পাননি।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী  বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা খুব জোরদার রয়েছে। রয়েছে দিনে-রাতে পাহারা। যেসব ঘটনা ঘটেছে, সবই বহিরাগতদের কাজ।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1062 বার