fbpx
 

কোটা-ছাত্র ফেডারেশনের ইশতেহার প্রকাশ : ছাত্রদলের প্যানেল পরিচিতি সভা

Pub: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ২:৫১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৫:২০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : আসন্ন ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে প্যানেল পরিচিতি সভা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ পরিচিতি সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। পরিচিতি সভায় প্যানেলের ভিপি-জিএস-এজিএসসহ অন্যান্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এসময় প্রার্থীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলকে ভোট দিতে আহŸান জানান। অন্যদিকে ক্যাম্পাসে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে নিজেদের প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা করে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের প্লাটফ্রর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশন থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা। দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ৪১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশ আর বেলা ২টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে গেস্টরুম, গণরুম ও জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে বিলোপ সাধন করার প্রতিশ্রæতিসহ ২৮ দফা ইশতেহার দেয় বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
ছাত্রদলের প্যানেল পরিচিতি সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় নেতাকর্মীদের খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ¯েøাগান দিতে দেখা যায়। পরিচিতি পর্বে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা তাদের পরিচয় দেন এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিতে বলেন। ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্বাচন। এ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ব্যালটের মাধ্যমে নিপিড়নের জবাব দিবে। তাদের অধিকার রক্ষায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থীরা কাজ করে যাবে। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলো আমরা আশাকরি এবারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের প্যানেলকেই জয়ী করবে।
এদিকে বেলা ২টায় মধুর ক্যান্টিনে গেস্টরুম, গণরুম ও জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে বিলোপ সাধন করার প্রতিশ্রæতি দিয়ে ২৮ দফা ইশতেহার দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ইশতেহার ঘোষণা করেন পরিষদের প্যানেলে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর। এ সময় বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলে ডাকসুর জিএস প্রার্থী রাশেদ খাঁন, এজিএস প্রার্থী ফারুক হাসানসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিশ^বিদ্যালয়ে লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা; হলগুলো থেকে বহিরাগত ও অছাত্রদের বিতাড়িত করে প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট প্রাপ্তির উদ্যোগ নেয়া; বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনে খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা; বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং এবং দোকানে খাবারের মান যাচাইয়ের জন্য খাদ্যমান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা; বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহণ বাড়ানো ও রুটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; পরিবহন সংক্রান্ত খাতে বার্ষিক বাজেটের ন্যুনতম ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা; লাইব্রেরীর সময়সূচির সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ বাসের সময় নির্ধারণ করা; বাসে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রত্যেকটি বাসে ওয়াইফাই সেবা নিশ্চিত করা; বিশ^বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পরিবহণ সেবার উন্নয়ন করা; বহিরাগত যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা; ক্যাম্পাসে রিকশাভাড়া নির্ধারণ করা; বিশেষ পরিবহস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং পরিবেশের উন্নয়নের স্বার্থে গ্রীণ ক্যাম্পাস কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করা; বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্যাগ গ্রহণ করা; গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বার্ষিক বৃত্তির ব্যবস্থা করা; বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য ডাকসুর ‘সেবা ডেস্ক’ চালু করা; বৈশি^ক জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা; রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ের বাইরে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর স্বাধীন কার্যক্রম আরো গতিশীল করা; শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল বাংলাদেশের আওতায় নিয়ে আসা; চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের পরিধি বৃদ্ধি; গবেষণা খাতে বাজেটের ন্যুনতম ২০ শতাংশ বরাদ্দ; জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা; কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমিত করা; মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া; মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন করা; নামে-বেনামে নেওয়া বিবিধ ফি বন্ধ করা; সাত কলেজের অধিভুক্তি সমস্যার যৌক্তিক সমাধান; ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ফার্মেসি স্থাপন; বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত কনসালটেন্সি স্থাপন; বাণিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করা; অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে যাওয়ার সমস্যার সহজ সমাধান করা; প্রক্টরিয়াল টিমকে আরো শক্তিশালী করা। সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নুরু বলেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেসব ২৮ টি মৌলিক সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। ডাকসুতে বিজয়ী হলে আমরা এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করব।
অন্যদিকে বেলা ১২টায় নিজেদের প্যানেলকে জয়ী করতে ৪১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। ইশতেহারে তারা ডাকসুর সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধন চেয়ে উপাচার্যকে নয় বরং নির্বাচিত শিক্ষার্থীকেই ডাকসুর সভাপতি করার দাবি জানিয়েছে। ইশতেহার ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্যানেলে ডাকসুর জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজসেবা সম্পাদক প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যপ্রার্থী মোঃ সালমান ফরাজী, আরমানুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র ফেডারেশনের ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে ও অফলাইনে নারী শিক্ষার্থীদের সাথে যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দ্রæত গ্রহণ ও বিচারে টাস্কফোর্স গঠন; মেয়েদের প্রতিটি হলে ওষুধ ও স্যানিটারি উপকরণ সমৃদ্ধ ফার্মেসি স্থাপন; মেয়েদের হলে মার্শাল আর্ট সেন্টার স্থাপন; রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ও প্রশাসনিক কাজ ডিজিটালাইজড করা; ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন, মারধর, হয়রানি কিংবা ভয়ভীতির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা টিম ও ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন চালু করা; ক্যাম্পাসের যান চলাচল যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ, বাইপাস রাস্তা নির্মাণ, রিকশা ভাড়ার চার্ট তৈরি নিশ্চিতকরণ; চাঁদাবাজি ও ছিনতাই কঠোরভাবে নির্ম‚ল করা; মাদক বিক্রি ও সেবনের আখড়া উচ্ছেদ; বহিরাগতদের অবাধ আগমন যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত; অন্তর্ভুক্তি কলেজ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান; খেলার মাঠ ও টিএসসির বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ; বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাবে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ; প্রক্টোরিয়াল টিমের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ; অযাচিত পুলিশ ফাঁড়ি উচ্ছেদ; গেস্টরুম প্রথা চিরতরে নিষিদ্ধ করা; গণরুম ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে ১ম বর্ষেই নো ফ্লোরিং, নো সিঙ্গেল নীতিতে ও দুই-তলা বিছানা পদ্ধতিতে বৈধ সিট; ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয়ভাবে মডেল ফার্মেসি স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা; শিক্ষক মূল্যায়নে রেটিং পদ্ধতি চালু; বিশেষজ্ঞ বোর্ডের মাধ্যমে গবেষণার বাজেট নির্ধারণ, তরুণ গবেষকদের প্রণোদনা প্রদান; যৌন নিপীড়ন ও লেখাচুরির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে দ্রæততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা; লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, সক্ষমতা ছাড়া নতুন ডিপার্টমেন্ট চালুর প্রক্রিয়া বন্ধ করা; আদিবাসীসহ সকল জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও বর্ণের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত; টিএসসিভিত্তিক সংগঠনগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন করা ইত্যাদি। সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল হক ইশতিয়াক বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সক্রিয়তা কাম্য ছিল, সেটার উপযুক্ত পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোট গ্রহণ এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনার মতো যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। আইডি কার্ড নবায়নে বিভিন্ন হলে গড়িমসি করা হয়েছে। সেইসাথে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার খবরও আমরা সবাই দেখেছি, এবং এখনও এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এমন প্রতিক‚ল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, কারণ আমরা ভরসা রাখছি শিক্ষার্থীদের উপরেই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ